fbpx
কলকাতাহেডলাইন

আইপিএস হওয়ার মানসিক চাপ! ক্লাস সেভেনেই আত্মঘাতী পুলিশকন্যা অদ্রিজা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাবা-মায়ের উচ্চাকাঙ্খা ছেলে-মেয়ের ওপরে চাপিয়ে দিলে কি মারাত্মক পরিণতি হতে পারে, তার প্রমাণ আগেও মিলেছে। এবার নিচুতলার পুলিশকর্মী বাবার উচ্চাকাঙ্খা সামাল দিতে না পেরে ক্লাস সেভেনে মাত্র ১৩ বছর বয়সেই আত্মঘাতী হল এক কিশোরী। মঙ্গলবার দুপুরে আমহার্স্ট স্ট্রিটের পুলিশ আবাসনের ১৪ তলার ছাদ থেকে ঝাঁপ দেয় অদ্রিজা মণ্ডল। কিশোরীর সুইসাইড নোটে কিশোরীর আত্মহত্যা সম্বন্ধে এমনই তথ্য জানা গিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা চত্বরের পুলিশ আবাসনের বাসিন্দারা জানান, এ দিন দুপুরে তাঁরা ওপর থেকে ভারী কিছু পড়ার আওয়াজ শুনে তারা ছুটে আসেন। বাইরে বেরিয়ে দেখা যায়, ১০ তলা আবাসনের নীচে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে অদ্রিজা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে এনআরএস মেডিক্যাল কলেজে  নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

[আরও পড়ুন- রাস্তায় ট্যাক্সিচালকের হেনস্থার শিকার খোদ তৃণমূল সাংসদ, গ্রেফতার করল পুলিশ]

জানা গিয়েছে, ১৩ বছরের অদ্রিজা কলকাতার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। তার বাবা কলকাতা পুলিশের অ্যাসিস্টান্ট সাব ইনস্পেক্টর এবং লালবাজারের কম্পিউটার সেলে কর্মরত। তদন্তকারীরা তার কাছেই একটি সুইসাইড নোট পেয়েছেন। তাতে কালো কালিতে অনেক কথাই লিখেছে কিশোরী। প্রথম দিকের দু’একটি শব্দ জলের দাগে ঝাপসা হয়ে গিয়েছে। তলায় রয়েছে অদ্রিজার স্বাক্ষর।

চিঠিতে অদ্রিজা লিখেছে, ‘হাই এভরিওয়ান। এই চিঠি যখন তোমাদের কাছে পৌঁছবে তখন আমি মৃত। আমি তোমাদের সবাইকে ভালবাসি। খুব চেষ্টা করেও আমার পরীক্ষার ফল ভাল হয়নি। আমি অবসাদের কারণে মৃত্যুবরণ করছি। তবে সবচেয়ে দুঃখের বিষয়, আমি আইপিএস হতে পারব না। আমি আমার সিদ্ধান্তের জন্য দুঃখিত। সকলকে ধন্যবাদ। বিদায়।” সত্যিই অদ্রিজাকে অতিরিক্ত মানসিক চাপ দেওয়া হত কি না, তা জানার জন্য মৃত কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলবে পুলিশ।

Related Articles

Back to top button
Close