fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আগস্ট থেকে কলেজ পড়ুয়াদেরও নতুন ব্যাচের ক্লাস শুরু, গাইড লাইন ইউজিসির

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: সব কিছু ঠিকঠাক চললে চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকেই কলেজ ও নতুন ব্যাচের পড়ুয়াদের পড়াশুনা শুরু হবে। বৃহস্পতিবার ইউজিসি-এর পক্ষ থেকে এক নির্দেশিকা জারি করে একথা জানানো হয়। করোনা ভাইরাসের মোকাবিলায় গত ২৩ মার্চ থেকে রাজ্যজুড়ে ব্যাহত হয়েছে পঠন-পাঠন ব্যবস্থা। লকডাউনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলি। এর ফলে শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে।

তবুও স্কুলগুলির ক্ষেত্রে অন লাইন বা টেলিভিশনের মাধ্যমে লেখাপড়া চালু থাকলেও কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয়নি। আর তাতেই অনেকেই হতাশায় ভুগছিলেন। এমনকী লকডাউনের জেরে থমকে গেছে গবেষণার কাজও। এমন অবস্থায় ইউজিসি-এর এই নতুন গাইড লাইন আশার আলো দেখাচ্ছে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের।

লকডাউনের জেরে যেমন সাধারণ জনজীবনে থমকে গেছে তেমনই থমকে গিয়েছে শিক্ষাব্যবস্থাও। তাই এবার লকডাউন উঠলে কিভাবে পড়াশোনা চলবে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে সে বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট কমিশন বা ইউজিসি। ওই নির্দেশিকা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে আগস্ট মাস থেকে কলেজ পড়ুয়াদের ও নতুন ব্যাচের ক্লাস শুরু হবে। পাশাপাশি আরও জানানো হয়েছে লকডাউন খুললেও বেশ কিছু এলাকায় ভার্চুয়াল ও অনলাইন ক্লাস চালু থাকবে। একই সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

ওই নির্দেশিকা ইউজিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১ থেকে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গুলিকে তাদের ফাইনাল সেমিস্টার শুরু করে দিতে হবে। অন্যদিকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা শুরু করতে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে এবং সেই পরীক্ষা ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করে ১৪ আগস্টের মধ্যে ফল প্রকাশ করে দিতে হবে।
নির্দেশিকায় আরও জানানো হয়েছে, লকডাউন ওঠার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে সপ্তাহের ছয় দিন ক্লাস করাতে হবে। পড়ুয়াদের ভার্চুয়াল ল্যাবরেটরি ক্লাস করানো যাবে।

তবে ল্যাবরেটরিতে প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস করতে গেলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলি ভার্চুয়াল শ্রেণিকক্ষ, ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে পড়াশোনা করাতে পারে। সেক্ষেত্রে সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ও কর্মীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ইনফরমেশন কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিষয়ে ও অনলাইন মাধ্যমে শিক্ষকতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পঠন-পাঠনের ২৫ শতাংশ অনলাইন মাধ্যমে সেরে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাকি পঠন-পাঠন আগের নিয়মে ক্লাসরুমেই হবে।

অন্যদিকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করার বিষয়টিতে নজর দেওয়ার জন্য নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে। পরীক্ষার সময় তিন ঘন্টা থেকে কমিয়ে দু’ঘণ্টা করতে বলা হয়েছে। যদিও উল্লেখ করা হয়েছে এ বিষয়টি সম্পূর্ণ এককালীন। পরিস্থিতি মিটে গেলে পুনরায় আবার তিন ঘণ্টা সময় নিয়ে পরীক্ষা হবে।

এছাড়া প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ কে কোভিড-১৯ সেল গঠন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনও পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা চলাকালীন বা শিক্ষাবর্ষ চলাকালীন কোনও অ্যাক্টিভিটির কাজ করতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হতে হলে বা সেই সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ থাকলে তারা এই সেলে জানাতে পারবে। এই সেল সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।

Related Articles

Back to top button
Close