fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা আবহে বন্ধ সামাজিক অনুষ্ঠান, আদিবাসী এলাকায় শালপাতার থালা-বাটি শিল্পে জোর ধাক্কা

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: করোনা সংক্রামক রুখতে দফায় দফায় লকডাউন। সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখাতে বিয়ে বাড়ীতে জমায়েত ভিড়ে কড়া নিষেধাজ্ঞা। আর তার জেরে একপ্রাকার বন্ধ পাত পেড়ে ভোজ খাওয়ানোর রেওয়াজ। ফলে বিক্রি কমেছে শালাপাতার তৈরী থালা বাটি। তার জেরে বন্ধ শালপাতা তৈরীর কাজ। মাথায় হাত কাঁকসার জঙ্গলমহলের আদিবাসী এলাকায়।

 

আদিবাসী রুজি রোজগারের সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হয়েছিল রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার। জঙ্গলমহলে শালপাতা শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেত একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছিল রাজ্য সরকার। তারজন্য আদিবাসী এলাকায় এক’শদিনের কাজে শালপাতার থালা তৈরীর ছাউনী করার উদ্যোগ যেমন, তেমনই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রকল্পে ঋণদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আবার মাস আটেক আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গাপুরে প্রসাশনিক সভায় কাঁকসার জঙ্গলমহলে এমএসএমই পার্ক ও শালপাতার ক্লাস্টার তৈরীর নির্দেশ দেন। তারজন্য কয়েক দফায় বৈঠকও হয়। কাঁকসার বনকাটি এলাকায় জায়গায়ও দেখা হয়। গত ছ’ মাস ধরে কাঁকসার জঙ্গলমহল সেটের বাঁধ, ধোবারু, দোমড়া, গ্যাড়াদহ সহ একাধিক এলাকায় বন্ধ পাতা সেলাই কাজ।

আরও পড়ুন: লালফৌজের চোখ রাঙানি আর নয়, দক্ষিণ প্যাংগং লেকের দখল নিল ভারতীয় সেনা

একটা সময় কদর বাড়ছিল দূষণ সৃষ্টিকারী  প্লাস্টিক ও থার্মকলের থালা-বাটির। দুষন ঠেকাতে তৎপর হয় সরকার। কড়া সতর্কতা জারি হয় দুষন সৃষ্টিকারি প্ল্যাস্টিক থার্মোকল ব্যাবহারের ওপর। আবার একই সঙ্গে আত্মনির্ভরতা জোর দেয় কেন্দ্র সরকার। বছর তিনেক আগে দুর্গাপুরের কাঁকসা ও দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের আদিবাসী মহিলাদের মেশিনে শালপাতা সেলাইয়ের প্রশিক্ষন দেওয়া হয়। সেলাই মেশিন ও থালা তৈরীর মেশিনও দেওয়া হয় বেশ কিছু স্বনির্ভর গোষ্ঠী। কাঁকসার রানীসায়র গ্রামে ৫টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে। তাদের ওই মেশিন দেওয়া হয়। শুরুতে রোজগারও ভাল হয়। বাড়ী থেকে ব্যাবাসয়ীরা তাদের তৈরী শালপাতা নিয়ে যাওয়া শুরু করে। বছর দুয়েক  শালপাতা শিল্পে স্বনির্ভরতার আশা দেখে আদিবাসী পরিবারগুলি।

 

গত মার্চমাস থেকে করোনা সংক্রামক রুখতে চলছে লকডাউন। সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে জমায়েতের ওপর লাগাম দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধির জাঁতাকলে আড়ম্বরে অন্নপ্রশাসন, জন্মদিন, বিয়ে বাড়ীর মত সামাজিক অনুষ্ঠান এক প্রকার বন্ধ। বন্ধ পাত পেড়ে ভোজ খাওয়ানোর রেওয়াজ। আর তার জেরেচাাহিদা কমেছে শালপাতার তৈরী থালা বাটির। চাহিদা কমে যাওয়া বিক্রি বন্ধ। কাঁকসার আদিবাসী গ্রামগুলিতে শিকেয় উঠেছে শালপাতা তৈরীর কাজ। শালপাতার থালা তৈরীর মেশিন পড়ে রয়েছে। কোথাও অনাদরে জলবৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। আবার কোথায় বাড়ীর ছেলে মেয়েদের খেলার সামগ্রী হয়েছে। রানীসায়ের গ্রামের ললিতা টুডু, শান্তি হাঁসদা প্রমুখ জানান,” মাস আটেক আগে বিক্রি কম হতে শুরু করে। দাম পাওয়া যাচ্ছিল না। ৭০০ টাকায় এক হাজার থালা। তারপর লকডাউনে আরও সঙ্কট শুরু হয়। সব বন্ধ হয়ে যায়। এখন আর চাহিদা নেই। শালপাতা তৈরীর কাজ বন্ধ। বন্ধ হয়ে গেছে সেই রোজগার। নতুন করে শালপাতার বাজার তৈরী হলে আবারও কাজ শুরু করব।”

 

পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি সমীর বিশ্বাস জানান,” সঙ্কটজনক পরিস্থিতি। স্বাভাবিক হতে একটু সময় লাগবে। আশা করছি স্বাভাবিক হলে আগের মতই তাদের কাজ শুরু হবে।” তিনি আরও বলেন,” বনকাটিতে ক্লাস্টার তৈরীর জমি দেখা হয়েছে। সেটাও প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।”

Related Articles

Back to top button
Close