fbpx
কলকাতাহেডলাইন

গ্রামবাংলার প্রতিটি পরিবার পাবে পরিশ্রুত পানীয় জল,’জলস্বপ্ন’ প্রকল্পের ঘোষণা মমতার

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:   আমফান-করোনা, জোড়া ফলায় বিদ্ধ রাজ্য। ত্রাণ নিয়ে যে গলদ হয়েছে তা স্বীকার করে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নবান্নে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমফানের টাকা আমরা অনেকটা আগেই দিয়েছিলাম। তা নিয়ে বেশ কিছু জায়গায় একটু ভুলভ্রান্তি হয়েছিল। তা শুধরে নিচ্ছি। যে বা যারা দোষী তাদের কাউকে ছাড়া হবে না।’

সোমবার গ্রামবাংলার বাসিন্দাদের জন্য নয়া প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রকল্পের অধীনে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গ্রামের দু’কোটি মানুষের কাছে পরিস্রুত জল পৌঁছে যাবে বলে জানালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে গ্রামে-গ্রামে তৈরি হবে কর্মসংস্থানও।দেশের বহু মানুষ পরিস্রুত পানীয় জল পান না। বহু দূর থেকে পানীয় জল নিয়ে আসতে হয় তাঁদের। মানুষকে সামান্য পানীয় জলের জন্য কষ্ট করতে হয়। তাই জোড়া বিপর্যয়ের সামাল দিয়েও নবান্ন থেকে নয়া প্রকল্পের শিলান্ন্যাস করলেন মমতা।

এই প্রকল্পের নাম দিয়েছেন ‘জলস্বপ্ন’।  এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামের দু’কোটি মানুষের কাছে পরিস্রুত জল পৌঁছে যাবে।  জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতরের অধীনে ৫৮ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ চলবে। শেষ হতে পাঁচ বছর সময় লাগবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এত বেশি সময় কেন লাগবে তাও ব্যাখ্যা করেন তিনি।  গ্রামবাংলায় এই প্রকল্পের কাজ হবে। প্রচুর মানুষের কাছে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেবে এই প্রকল্প। তাই অনেকটা বেশি সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এর পাশাপাশি , এদিন রাজ্যের নতুন অ্যাপের কথা জানান। রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ একটি নতুন অ্যাপ তৈরি করেছে, ‘সেল্ফ স্ক্যান’। আজ, সোমবার বিকেলে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানালেন, ফোনে নথিপত্র স্ক্যান করার জন্য নতুন এই অ্যাপটি আনল রাজ্য। বিনামূল্যে ইনস্টল করা যাবে অ্যাপটি। কোনও বিজ্ঞাপনও থাকবে না। বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের মানুষ ব্যবহার করতে পারবেন। নথিপত্র স্ক্যান করার জন্য কোনও আপস করতে হবে না সুরক্ষার সঙ্গে। এখানে ব্যবহারকারীর তথ্য পুরোপুরি ব্যক্তিগত থাকবে, সার্ভারে স্টোর হবে না, এমনটাই দাবি করেন তিনি। জানান, এতে স্ক্যান করা তথ্য এডিটও করা যায়।

আরও পড়ুন: করোনা আবহে শিল্পীদের পারিশ্রমিকের বিষয়টিও নজরে রাখার আবেদন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্টিস্ট ফোরামের

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন,’আমার মনে হয়, বাংলাই এই প্রথম এমন একটি নিজস্ব অ্যাপ তৈরি করল বিশ্বমানের। কখনও কখনও গৌরবের সঙ্গে কৃতিত্ব দাবি করতে হয়। এটাও তেমনই একটা সময়। রাজ্য নিজে ডেভেলপ করেছে এই অ্যাপ। নিজেদের নির্ভর করুন। চলতি অ্যাপের তুলনায় এই অ্যাপ অনেক উন্নত। সুরক্ষিত। যখন কোন অ্যাপ ইউজ করবেন স্ক্যান করার জন্য, আদৌ করবেন কিনা তাই নিয়ে বিতর্ক চলছে, তখন বাংলা দেখিয়ে দিল স্বদেশিয়ানা।’

বর্তমানে বাংলার তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের প্রধান সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন রাজীব কুমার। আজ ‘সেল্ফ স্ক্যান’ অ্যাপটির সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে রাজীব কুমার ও তাঁর টিমের ভূয়সী প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘আমি আইটি দফতরকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। রাজীব খুব ভাল কাজ করেছে। ওর টিম দেখিয়ে দিল, হোয়াট বেঙ্গল থিঙ্কস টুডে, ওয়ার্ল্ড থিঙ্কস টুমরো। এটা আপনার ঘরের মতো। কেউ নাক গলাতে পারবে না। আমি অনুরোধ করব জাতীয় স্তরে এই ‘সেল্ফ স্ক্যান’-এর কথা সকলকে জানান।

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close