fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

শাহকে টেক্কা! মতুয়াদের উন্নয়নে ১০ কোটি টাকা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: আগামী বিধানসভা নির্বাচনে অন্যতম ফ্যাক্টর হতে চলেছে মতুয়া ভোট। করোনা মহামারীর সিএএ ইস্যু সংক্রান্ত সমস্যার পর এবার পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের আগে উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্বের বিষয়টি নিয়ে অমিত শাহের কাছে স্পষ্ট বার্তা চাইছেন বঙ্গ-বিজেপির নেতারা। সেই কারণেই এবারের সফরে উদ্বাস্তু পরিবারে মধ্যাহ্নভোজন করতে যাবেন অমিত শাহ। কিন্তু শাহের সফরের আগেই দলিত-উদ্বাস্তু ও মতুয়াদের মন জয় করতে রীতিমতো চমক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তিনি মতুয়া উন্নয়ন পর্ষদ তৈরির কথা ঘোষণা করে তার জন্য বরাদ্দ করলেন ১০ কোটি টাকা।

বুধবার নবান্নে মতুয়া–সহ তফশিলি, নমঃশূদ্র, মাঝি, বাগদি, বাউড়ি, ডোকরা— বিভিন্ন জাতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। মতুয়াদের পাশাপাশি বাউড়ি ও দুলেদের নিয়ে একটি উন্নয়ন পর্ষদ এবং বাগদি ও মাঝি সম্প্রদায়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের জন্য ভিন্ন দুটি পর্ষদ গঠন করার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিটি পর্ষদ বা ডেভলপমেন্ট বোর্ডকে দেওয়া হবে ৫ কোটি টাকা বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তিনিই যে বাংলার পিছিয়ে পড়া জাতি-উপজাতিদের পাশে বরাবর রয়েছেন, তা প্রমাণ করতে এদিন মুখ্যমন্ত্রী নাম না করে বিজেপি–কে আক্রমণ করে বলেন, ‘এই সব সম্প্রদায়ের কথা কেউ আগে চিন্তা করেনি। ভোটের সময় সব বড় বড় কথা বলে। আমি কিন্তু বরাবর এদের পাশে রয়েছি। আমি চাই, যে সব জাতি ও সম্প্রদায়ের লোকজন পিছিয়ে পড়ে আছেন তাঁদের জন্য একটি সাংস্কৃতিক বোর্ড তৈরি করে দেওয়া হোক।’‌

এছাড়াও এদিন ডোকরা ও ছৌ শিল্পীদের ‘‌স্বাস্থ্যসাথী’‌ প্রকল্পের আওতায় আনার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। বললেন, “ওই স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা মিলবে।” এবার থেকে দিল্লি এইমস আর ভেলোরে সিএমসি–তেও ‘‌স্বাস্থ্যসাথী’‌ প্রকল্পের সুবিধা পাবেন সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি পুরুলিয়ায় ছৌ শিল্পীদের জন্য একটি কমিউনিটি হল তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, কর্মস্থানের লক্ষ্যে ২ লক্ষ মানুষকে বাইকের জন্য ঋণ প্রদানের কথা চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

নদিয়ার মতুয়া গোষ্ঠীর আবেদন অনুযায়ী এদিন মুখ্যমন্ত্রী ২ টি অ্যাম্বুল্যান্স দেন। এছাড়াও তপশিলি, বাগদি, বাউরি-সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উদ্বাস্তু বেশ কিছু মানুষের হাতে জমির পাট্টা তুলে দেন। জানান, আরও ১.২৫ লক্ষ মানুষের হাতে ভাগে ভাগে পাট্টা তুলে দেওয়া হবে। কাস্ট সার্টিফিকেট সমস্যার সমাধানে তিনি ঘোষণা করেন, এবার থেকে পরিবারের যে কোনও একজনের কাস্ট সার্টিফিকেট থাকলেই আবেদন করা যাবে। মাত্র ২ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যেই সার্টিফিকেট মিলবে।

এদিন তিনি আরও জানান, রাজ্যের দুলক্ষ যুবক-যুবতী কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক থেকে বাইকের জন্য সহজ শর্তে ঋণ নিতে পারবে। এই বাইক কিনে তাঁরা শাড়ি বা অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি করতে পারবেন। ওই ঋণের কথা ঘোষণা করে তিনি বলেন, ‘সরকারি ব্যাঙ্ক দিয়ে হবে না। কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক থেকে বাইক কেনার জন্য ঋণ দেওয়া হবে ২ লক্ষ ছেলেমেয়েকে। বাইকের পিছনে বক্স থাকবে। তাতে কেউ শাড়ি, কেউ বা ফল নিয়ে বিক্রি করতে পারেন।’

Related Articles

Back to top button
Close