fbpx
হেডলাইন

আম্ফান মোকাবিলায় সাত জেলাশাসকের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: আয়লার থেকেও ভয়ঙ্কর হতে পারে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান, এমনই আশঙ্কা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় একাধিক পদক্ষেপ করছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। আম্ফান মোকাবিলায় মঙ্গলবার সাত জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সার্বিক জেলাগুলির পরিস্থিতি কেমন তা জানতেই এই বৈঠক। ইতিমধ্যেই ৩ লক্ষ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছে। আম্ফান মোকাবিলায় মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে গঠিত টাস্ক ফোর্স কাজ করছে।

‘মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো এই ঘূর্ণিঝড়’, মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এমনই বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কারণেই আগামিকাল কাউকেই বেলা ১২টার পর বাড়ি থেকে বেরোতে নিষেধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।একইসঙ্গে আলিপুর আবহাওয়া দফতর কাল, বুধবার কলকাতায় সকাল থেকেই জনজীবন পুরোপুরি বন্ধ করার সুপারিশ করেছে। ইতিমধ্যে উপকূল এলাকা থেকে সকলকে সরিয়ে আনা হয়েছে। কেউ সমুদ্রের যাবেন না, কারণ ঝড়ে দুই ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মেদিনীপুরের একাংশ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব থাকবে। মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে কাজ করছে টাস্কফোর্স। পুলিশ প্রশাসনের নিচুওতলায় বার্তা দেওয়া হয়েছে। সাইক্লোন সেন্টারের যতটা সম্ভব সর্তকতা দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে দু লক্ষ মানুষকে সরানো হয়েছে। তাই অনুরোধ করছি, বুধবার দুপুর থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা অবধি পর্যন্ত কেউ বাইরে বের হবেন না। যতক্ষণ না প্রশাসনের তরফ থেকে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ কেউ বাইরে বের হবেন না। উপকূলের এলাকা থেকে প্রায় ৫লক্ষ মানুষকে সরিয়ে আনা হয়েছে। এবং তাদেরকে যতটা সম্ভব থাকার জায়গা এবং খাবার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, এই ঘূর্ণিঝড় রোধে বুধবার সারারাতে নবান্নে থেকেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন প্রশাসনের কর্তারা। তিনি নিজেও নবান্নে রাত কাটাবেন বলেই খবর। সারাদিনই নবান্ন থেকেই পুরো রাজ্যের পরিস্থিতি সামলাবেন মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ সকলেই। উল্লেখ্য, এর আগেও বুলবুল, ফণীর মতো পরিস্থিতিতে তিনি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে সারারাত নবান্নে ছিলেন। ফলে এই ঘটনা নতুন কিছুই নয়, মত প্রশাসনের কর্তাদের। এর পাশাপাশি এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের যাতে কোনওভাবেই সমস্যা না হয় সেই কারণে হেল্পলাইন নম্বর (২২১৪৩৫২৬) চালু করা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে ত্রাণ শিবির থেকে যাতে কোনওভাবেই করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেই কারণে আশ্রয়স্থলগুলিতেও মাস্ক, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়েছেএই দুর্যোগের মাঝে যাতে শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেন না চালানো হয় রেলকে সেই অনুরোধও করা হচ্ছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, এদিনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে ভিনরাজ্যের শ্রমিকদের ফেরানোর জন্য আরও প্রচুর ট্রেন চালানো হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন: আম্ফান মোকাবিলায় রাজ্যের প্রস্তুতির প্রশংসায় রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রীকে ট্যুইট ধনকরের

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, হাওয়া অফিসের সেই সুপারিশই মানবে রাজ্য সরকার। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে উত্তর ২৪ পরগণা, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, পশ্চিম বর্ধমান-এই সাত জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্স করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। ইতিমধ্যেই, ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দেড় লক্ষ পরিবারকে সরানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই নবান্নকে এই তথ্য জানিয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক পি উলগানাথন। যেহেতু দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এই ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে তাই আজকের মধ্যেই সাগর, পাথরপ্রতিমা, কাকদ্বীপ, গোসাবা, মৌসুনি প্রভৃতি এলাকার পরিবারগুলিকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফে।

একইরকমভাবে পূর্ব মেদিনীপুর ও উত্তর ২৪ পরগণার সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার পরিবারগুলিকেও ইতিমধ্যেই নবান্নের নির্দেশে ফ্লাড শেল্টারে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে জেলাপ্রশাসনের পক্ষ থেকে। এই ঘূর্ণিঝড় নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য বিদ্যুৎ দফতরের পক্ষ থেকে সবরকম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলেই জানিয়েছেন মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান,  রাজ্যের সর্বত্র সব সময়ের জন্য মেন্টেনেন্স এর কর্মীরা প্রস্তুত থাকবে। কোভিড ও অন্যান্য হাসপাতালে যাতে বিদ্যুৎ বিপর্যয় না হয় তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহের জন্য সকল ডিভিশনেই ট্রান্সফর্মার ও ডিজেল সেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একইসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত বিপর্যয়ে সরাসরি বিদ্যুৎ মন্ত্রীর দফতরে একটি হেল্পলাইন খোলা হয়েছে সবরকম সাহায্যের জন্য। এর নম্বর হল ৭৪৪৯৩০০৮৪০ ও ৯৪৩৩৫৬৪১৮৪।

Related Articles

Back to top button
Close