fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

সংঘাতে ইতি? রাজভবনে ধনকর-মমতা বৈঠক!

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের ৭৪তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। করোনা আবহে এবারের অনুষ্ঠান খানিক জাঁকজমকহীন। পাশাপাশি, রেড রোডে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজ্য সরকার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান পালন করল। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা, রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র, স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।এদিন অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই এই সম্মান জ্ঞাপন সারা হয়। করোনাকালে সবরকম সুরক্ষাবিধি এবং সামাজিক দুরত্ব মেনেই এদিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রাজ্য সরকার।

শনিবার পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ৯.৪৫ নাগাদ রেড রোডে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমেই স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে তবে মঞ্চে ওঠেন। তাঁকে ‘গার্ড অফ অনার’দেন কলকাতা পুলিশের অফিসাররা। এরপরই রেড রোডে নেতাজি মূর্তি এবং পুলিশ মেমোরিয়ালে মাল্যদান ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে তিনি সোজা চলে যান রাজভবনে। বেশ কিছুক্ষণ রাজভবনে কাটিয়ে তারপর বেরিয়ে যান মমতা। রাজভবন সূত্রে খবর, বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয় রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে। দুই প্রশাসনিক প্রধানের মধ্যে আলাপচারিতায় জল্পনা ছড়িয়েছে। তাহলে কি সংঘাতে ইতি? দোর গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে।

মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে অবশ্য বলা হয় এটি সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎকার। রাজভবন সূত্রে অবশ্য দাবি, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয় দুই প্রশাসনিক প্রধানের মধ্যে। সম্প্রতি একের পর ইস্যুতে রাজভবন-নবান্ন সংঘাত চরমে। করোনা মোকাবিলা থেকে শুরু করে শিক্ষাক্ষেত্র, রাজনৈতিক হিংসা, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা সব কিছু বিষয়েই রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করেছেন জগদীপ ধনকর। পালটা রাজ্যের মন্ত্রী-আধিকারিকরাও জবাব দিয়েছেন রাজ্যপালের অভিযোগের।

আরও পড়ুন: ‘আড়ম্বরহীন’ স্বাধীনতা দিবস পালন রেড রোডে, সংক্ষিপ্ত সময়ে শেষ হল গোটা অনুষ্ঠান

এই পরিস্থিতিতে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শনিবার বিকেলে রাজভবনে চা-চক্রের আয়োজন করেন রাজ্যপাল। সেখানে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমন্ত্রিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীও। তবে জানা গিয়েছে, সন্ধেবেলা অন্য কাজ থাকায় সকালেই রাজভবনে চলে যান মুখ্যমন্ত্রী। তবে রাজভবনে দু’জনের মধ্যে কী আলোচনে হয়েছে তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে রাজনৈতিক মহলে।

অন্যদিকে, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর গান্ধীঘাটে এসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কের বার্তাই দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। করোনা আবহে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে ব্যারাকপুর গান্ধী ঘাটে অনুষ্ঠিত হল ৭৪ তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান। এদিন রাজ্যপাল বলেন, “আমি ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এক সূত্রে বাঁধা। আমার এবং মুখ্যমন্ত্রীর লক্ষ্য এক, তা হল দেশের উন্নয়ন। শুধুমাত্র কাজের পদ্ধতি আলাদা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানুষের ভালোর জন্যই কাজ করে চলেছেন আমিও তাই। আমার চলার পথের নির্দেশিকা একটাই সেই পথ দেখায় একমাত্র দেশের সংবিধান। আমি সংবিধান মেনে চলি। আমি কোন অবস্থাতেই রাজনৈতিক হিংসা, রক্তপাত পছন্দ করি না। আমি সব সময় চাই মানুষ অহিংস পথে নির্দিষ্ট গতিতে সুখে শান্তিতে জীবন কাটাক। মানুষের ভালোর জন্য, দেশের উন্নয়নের জন্য আমি সব সময় মানুষের পাশে আছি, থাকব। আমার কোন কথার বিপরীত মানে খুঁজতে যাবেন না। আমার এবং মুখ্যমন্ত্রীর লক্ষ্য একই। মানুষের উন্নয়ন। শুধু দুজনের কাজের পদ্ধতি আলাদা। আমরা পরস্পর পরস্পরকে সহযোগিতা করে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি ।”

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close