fbpx
কলকাতাহেডলাইন

‘মহামারী আইন ভাঙছে একটি রাজনৈতিক দল’, বিজেপিকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর

পুলিশ অফিসারদের ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: পুজোর পরে প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকের মুখোমুখি হলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই বৈঠকের শুরুতেই নাম না করে বিজেপিকে তুলোধনা করার পাশাপাশি সরাসরি কেন্দ্রকে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের করোনা  গ্রাফ ক্রমশই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলায় মহামারী আইন ভাঙার জন্য নাম না করে বিজেপিকে দুষলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোনভাবেই কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে সহযোগিতা করছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সুষ্ঠুভাবে দুর্গাপুজো করার জন্য ক্লাবকর্তা, পুজো কমিটি এবং পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তারপরই প্রশাসনিক বৈঠকের একেবারে শুরুতে নাম না করে বিজেপিকে খোঁচা দেন। তবে তা সত্ত্বেও বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, কেউ কেউ ইচ্ছা করে বিসর্জনের সময় শোভাযাত্রা করছে। তাদের জন্যই রাজ্যে করোনা সংক্রমণের গ্রাফও ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে বলেই অভিযোগ তাঁর। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মহামারী আইন ভাঙছে একটি রাজনৈতিক দল।”

এছাড়া এদিন আরও বলেন, কয়েকদিন ধরেই রাজ্য প্রশাসনের অফিসারদের নিরপেক্ষতা নিয়ে সরব হয়েছেন রাজ্যপাল । ফলে এ দিন নাম না করে তাঁকেও মুখ্যমন্ত্রী নিশানা করলেন বলে মনে করা হচ্ছে । মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, অতীতে কোনওদিন ভারতবর্ষে এ ভাবে পুলিশ অফিসারদের ভয় দেখানো হয়নি । সরকারি ভাবে সাংবাদিক বৈঠক করেও পুলিশ অফিসারদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে রাজ্যের অফিসারদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা রাজ্যের অধীনে কাজ করেন। আপনারা যেমন রাজ্যকে সার্ভিস দেন, রাজ্যও আপনাদের সার্ভিস দিতে তৈরি। কীভাবে আমাদের অফিসারদের হেনস্থা করছে, এর পর আমরা গোটা ভারতবর্ষকে জানাতে বাধ্য হব। আপনারা ভদ্রতা রেখে কাজ করুন, আমরাও আমাদের ভদ্রতা রেখে কাজ করব। প্রত্যেকে নিজেদের লক্ষ্মণরেখায় থেকে কাজ করুন। সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা মেনে সবাই যাতে কাজ করতে পারি, একথা মাথায় রাখতে হবে।’ মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিভিন্ন জায়গায় দু’-একটি রাজনৈতিক দল নিয়মিত মহামারি আইন ভেঙে মিটিং, মিছিল করছে। তা সত্ত্বেও তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তার পরেও পুলিশ অফিসারদের কেউ কেউ শাসাচ্ছেন।

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । রাজ্য কেন্দ্র সরকারের ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ না করলেও কেন্দ্র সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্যের ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করছে বলেও অভিযোগ তাঁর। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “লক্ষণের গণ্ডিরেখা যেন কেউ আমরা হস্তক্ষেপ না করি সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।” এছাড়াও কেন্দ্রের তরফ থেকে আমফান কিংবা করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনওরকম আর্থিক সাহায্য পাওয়া যায়নি বলেও খোঁচা দিয়েছেন তিনি।  তবে কেন্দ্র কোনও সাহায্য না করলেও রাজ্য সুষ্ঠুভাবে করোনার মতো অতিমারী পরিস্থিতি সামাল দিতে পেরেছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

 

Related Articles

Back to top button
Close