fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

করোনা আবহে পড়ুয়ারা পড়াশোনা করতে পারছে না, কী করে পরীক্ষা দেবে? প্রধানমন্ত্রীকে বললেন মমতা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে রাজ্য-রাজ্যপালের সংঘাত চরমে। আর এই সংঘাতের জল গড়াল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক অবধি। সোমবার বিকেলে করোনা পরীক্ষার যন্ত্র কোভাস উদ্বোধনের আগে বাংলা, মহারাষ্ট্র ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

এদিন বক্তব্যের শুরুতেই নাম না করে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। এমনকী, ওই বৈঠকে ইউজিসির সিদ্ধান্তহীনতাকেও তুলোধোনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, ছাত্রছাত্রীদের কথা মাথায় রেখে করোনা আবহে পরীক্ষা বাতিলের আবেদনও জানান মমতা। এদিকে বৈঠকে ইউজিসির বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ইউজিসি প্রথমে জানিয়েছিল স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের চূড়ান্ত বর্ষের পড়ুয়াদের পরীক্ষা নেওয়া হবে না। পরে ফের নোটিশ পাঠিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে পরীক্ষা নেওয়া হবে জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, “করোনা সংক্রমণ হু হু করে বাড়ছে এখন একসঙ্গে বসিয়ে পরীক্ষা নেওয়া অসম্ভব। পড়ুয়ারাও পড়াশোনা করতে পারছে না। তাঁদের প্রতি মানবিক হওয়া দরকার।” তিনি মোদিকে আরও একবার মনে করিয়ে দেন যে এ বিষয় নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিও লিখেছিলেন। কিন্তু কোনও জবাব আসেনি। তাই তাঁদের কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পরীক্ষা স্থগিত রাখার আবেদন জানান বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টও ইউজিসির জবাব তলব করেছে। আগামী দুদিনের মধ্যে এ বিষয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতে জানাতে হবে।

মমতা বলেন, “করোনা মোকাবিলায় কেন্দ্র সহযোগিতা করছে। কিন্তু সাংবিধানিক পদে থেকেও অনেকে রাজ্যের কাজে বাধা দিচ্ছে। এই সময় সকলকে হাতে হাত মিলিয়ে লড়তে হবে। কিন্তু সরকারের কাজে বাধা সৃষ্টি করে অনেকে মজা পাচ্ছেন।” বলাবাহুল্য, রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের বিরুদ্ধে এর আগেও এই অভিযোগ করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এভাবে প্রধানমন্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে বৈঠকে এহেন অভিযোগ একেবারে নজিরবিহীন বলেই দাবি করছেন ওয়াকিবহাল মহল। ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা নিয়েও রাজ্যপালের সঙ্গে বারবার রাজ্যের সংঘাত বেঁধেছে। এদিন সবটারই বহিঃপ্রকাশ হল প্রধানমন্ত্রীর সামনে।

এছাড়া ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোদিকে মমতা বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় রাজ্যের প্রচুর খরচ হচ্ছে৷ প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা খরচ৷ কেন্দ্রের কাছে ৫৩ হাজার কোটি টাকা বকেয়া আছে৷ সেই টাকা দয়া করে কিছু কিছু করে মিটিয়ে দিলে ভাল হয়৷ এছাড়া জিএসটি বাবদ এপ্রিল থেকে মে ৪ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা আমরা পাইনি৷ আমফান ঝড়ে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১ হাজার কোটি টাকা পেয়েছি৷ ক্ষতিপূরণে খরচ সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা৷ বাকি টাকা দিলে ভাল হয়৷’

মমতার কথায়, ‘আপনারা বলছেন রাজ্যকে এসডিআরএফ (রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী)-র ফান্ড থেকে করোনা মোকাবিলায় খরচ করতে৷ এরপর যদি প্রাকৃতিক বিপর্যয় আসে, তা হলে কোথা থেকে টাকা খরচ করব? তাই কোভিড-এর জন্য আলাদা ফান্ড গড়ে দিলে ভাল হয়৷ ‘

Related Articles

Back to top button
Close