fbpx
কলকাতাহেডলাইন

আস্থা নেই নিজের প্রশাসনের ওপরেই! আমফান ত্রাণ বিলি নিয়ে এসডিও, বিডিওদের দৈনিক কাজের তদারকি করবেন মুখ্যমন্ত্রী

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: আমফান ঘূর্ণিঝড় ত্রাণ বিলিতে প্রথম বারের দুর্নীতির কথা কবুল করে ফের ১২ আগস্ট পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দ্বিতীয়বারে আমফান ত্রাণ বিলিতে যাতে কোনও দুর্নীতি না হয়, তার জন্য এবার সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন তিনি। নবান্ন সূত্রের খবর, এ বার জেলা প্রশাসনের সব স্তরের কর্তা, অর্থাত্‍ বিডিও, এসডিও ও এডিএম-দের কাজের বার্ষিক মূল্যায়ন করবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী৷ প্রত্যেক দিন এদের আমফান ত্রাণ বিলির কাজের খতিয়ান ই-মেল মারফত নবান্নে পাঠানো হবে। এই ঘটনা উল্লেখ করে অনেকেই দাবি করছেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজে প্রশাসনের উপরে আস্থা নেই তাই সরাসরি নিজেই কাজের মূল্যায়ন করছেন।
নবান্ন সূত্রে খবর, কয়েকটি জেলার এসডিও, বিডিও ও এডিএম-দের কাজে আগের বারই অত্যন্ত বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।  তাই নিজে সরাসরি বিডিও, এসডিও-দের কাজ তদারকি করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি৷ মুখ্যমন্ত্রীর নজরদারিতে থাকবেন ৩৪৪ জন বিডিও, ৬৬ জন এসডিও ও ৬৯ জন এডিএম৷ এদের প্রত্যেকদিনের কাজের রিপোর্ট নবান্নে মূল্যায়ন করবেন মুখ্যমন্ত্রী৷ গত ২০ মে আমফান ঘূর্ণিঝড়ে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয় কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, হুগলি, হাওড়া, নদিয়া এবং কিছুটা পূর্ব বর্ধমান। এই সব জেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার।
সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, পুরো বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ২০ হাজার টাকা পাবেন আবেদনকারী আর আংশিক ক্ষতি হলে মিলবে ৫ হাজার টাকা। প্রথম বার ব্যাপক দুর্নীতির খোঁজ পাওয়ার পর ফের আবেদনপত্র জমা দিতে বলা হয়। এর আগে আত্মীয়দের ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।
শুধু শাসকদল নয়, বিজেপি শাসিতও বেশ কিছু পঞ্চায়েত থেকে দুর্নীতির অভিযোগ আসে। কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসন আর দলের চাপে ক্ষতিপূরণের টাকা ফেরত দিয়েছেন ভুয়ো ক্ষতিগ্রস্তরা।আমফান ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণের নতুন করে ৫ লক্ষ ৭০ হাজার আবেদনপত্র জমা পড়েছে রাজ্যের কাছে৷ সবচেয়ে বেশি ত্রাণের আবেদন জমা পড়েছে পূর্ব মেদিনীপুর থেকে৷ আর যাতে ৪ মাস আগে ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ের ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি না হয়,  তার জন্য এবার গোড়া থেকেই সতর্ক মুখ্যমন্ত্রী।

Related Articles

Back to top button
Close