fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পরিত্যক্ত আবাসন জবর দখলের জের, ইসিএলের জামবাদ খোলামুখখনিতে কয়লা উত্তোলন থমকে

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: খনি সম্প্রসারণে পরিত্যক্ত আবাসন। জবরদখলের কবজায় পরিত্যক্ত আবাসন। আর তার জেরে ইসিএলের মহার্ঘ্য কোলিয়ারীর কয়েক লক্ষ টন কয়লা উত্তোলন থমকে পড়েছে বলে অভিযোগ। প্রশ্ন উঠেছে, পরিত্যাক্ত ঘোষণার পরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারি আবাসনে থাকছে কিভাবে? শনিবার ধসের ঘটনার পর সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৯৮৮-৮৯ সালে ইসিএলের কাজোড়া এরিয়ার জামবাদ কোলিয়ারীর খোলামুখ খনির কাজ শুরু হয়। কোলিয়ারীর বছরে ৭-৮ লক্ষ টন কয়লা উৎপাদন লক্ষমাত্রা থাকলেও জবরদখলের জেরে উৎপাদনে ঝুঁকি রয়েছে।
ইসিএল ইসিএলের সিএমডি (কারিগরি) নিলাদ্রী রায় জানান,” জামবাদ খোলামুখ খনি লাভজনক। কিন্তু গত ২০১২-১৩ সাল থেকে খনির সম্প্রসারণ থমকে পড়েছে। কোলিয়ারী আশপাশে ইসিএলের ১৮৮ পরিত্যাক্ত আবাসন জবরদখল রয়েছে।”
প্রশ্ন, পরিত্যক্ত ওই আবাসনগুলি ঝুঁকি নিয়ে কিভাবে চলছে বসবাস? গত শুক্রবার রাত্রে কোলিয়ারীর পরিত্যক্ত আবাসনে ধসের ঘটনায় দুটি বাড়ি তলিয়ে যায়। ঘটনায় এক মহিলা তলিয়ে যায় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর তল্লাশি কাজ শুরু করে ইসিএলের উদ্ধারকারী দল। যদিও মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি বলে ইসিএল সূত্রে খবর।

আরও পড়ুন:করোনা নিরাময়ে ওষুধ আবিষ্কার করল পতঞ্জলি, দাবি করলেন বাবা রামদেব

অন্যদিকে এদিনের ঘটনার পর পরিত্যক্ত আবাসনে ঝুঁকি নিয়ে বসবাসে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে। ইসিএল সুত্রে জানা গেছে, সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ হাজার ইসিএলের আবাসন রয়েছে। তারমধ্যে প্রায় ১৮ হাজারের আবাসন জবরদখল রয়েছে।
ইসিএল আধিকারিক নিলাদ্রীবাবু জানান,” বহুবার নোটিশ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারকে জানানো হয়েছে। রাজ্যের তরফে অন্যত্র পুনরবাসনের জমি তাদের দেওয়ার কথা বলেছে। এমনকি স্থানান্তরের খরচ জন্য ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তারপরও জবরদখল সরছে না।”

জানা গেছে, জামাবাদ কোলিয়ারীতে দৈনিক ১৪০০-১৫০০ টন কয়লা উত্তোলন হয়। এদিনের ঘটনার পর থেকে ওই কোলিয়ারীতে কয়লা উত্তোলন আপাতত বন্ধ। ইসিএলের সিএমডি(কারিগরি) নিলাদ্রীবাবু জানান,” ১৬ লক্ষ টন কয়লা উত্তোলন আটকে রয়েছে জামবাদ কোলিয়ারীতে। জবর দখলের জেরে থমকে পড়ছে জামবাদ কোলিয়ারী একাংশের কয়লা উত্তোলন।”

পান্ডবেশ্বর বিধায়ক তথা আসানসোলের মেয়র জীতেন্দ্র তেওয়ারী জানান,” কয়লার থেকে মানুষের জীবনের দাম বেশি। দীর্ঘ ৪০-৫০ বছর ধরে বসবাস করছে। জমি দিলেই হয় না। তাদের পুনরবাসন দিতে হবে। পুনর্বাসনের দায় কেন্দ্র সরকারের।”

Related Articles

Back to top button
Close