fbpx
অন্যান্যপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বাণিজ্যিক মনোসেক্স তেলাপিয়া চাষ

নিজস্ব প্রতিনিধি: পশ্চিমবঙ্গে বাণিজ্যিক মনোসেক্স তেলাপিয়া চাষের প্রসার ঘটেছে। অনেকে এটিকে অ্যাকোয়াটিক চিকেনও বলে থাকেন। নিবিড় চাষ পদ্ধতিতে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার দিলে এক বিঘা পুকুর থেকে সাড়ে তিন মাসের মধ্যে ১০-১৪ কুইন্টাল পর্যন্ত মাছ পাওয়া সম্ভব। মনোসেক্স তেলাপিযা হল পুরুষ তেলাপিয়া মাছ। এই চাষের বড় সমস্যা হল এর অনিয়ন্ত্রিত বংশবিস্তার। এই কারণে পুকুরে বিভিন্ন সাইজের তেলাপিয়া মাছ দেখা যায়। যার কারণে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায় না।

 

প্রাকৃতিকভাবেই পুরুষ তেলাপিয়া মাছের দৈহিক বৃদ্ধি বেশি। এই ধারনাকেই কাজে লাগিয়ে শুধুমাত্র পুরুষ তেলাপিয়া চাষকেই মনোসেক্স তেলাপিয়া চাষ বলা হয়। পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া ও প্রকৃতি মনোসেক্স তেলাপিয়া চাষের জন্য খুবই উপযোগী। সমপূরক খাদ্য গ্রহণে অভ্যস্ততা, চাষে কম সময়, দ্রুত বেড়ে ওঠার ক্ষমতা এবং বাজার মূল্য বেশি থাকায় বর্তমানে অধিকাংশ মত্স্য চাষি মনোসেক্স তেলাপিয়া চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। মনোসেক্স তেলাপিয়ার বেশকিছু বৈশিষ্ট আছে। এই মাছ খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে ওঠে। তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের মধ্যে এই মাছ বাজারজাত করা সম্ভব হয়।

এই মাছের পাখনা লালচে হয়, আকৃতি গোলাকার হয় এবং মাছে অধিক ফ্লেস পাওয়া যায় বলে এর বাজার মূল্য বেশি পাওয়া যায়। অগভীর জলাশয় , স্বচ্ছ এবং লবণাক্ত জলে এই মাছের চাষ সম্ভব। এই মাছের সহন শক্তি অনেক বেশি এবং অক্সিজেন চাহিদা অনেক কম। এই মাছে খুব একটা রোগ দেখা যায় না। এই মাছের চাষের জন্য পুকুর তৈরি করা প্রয়োজনীয়।

 

প্রথমে পুকুরের বা জলাশয়ের জল শুকিয়ে নিয়ে বড় মাছ বিশেষ করে ছোট মাছ খায় এমন সব মাছকে সরিয়ে ফেলতে হবে। এছাড়া রোটেনন কীটনাশক দিয়ে অবাঞ্ছিত প্রাণীদের দূর করতে হবে। এরপর জল ছেড়ে মাছের মিন ছাড়া যেতে পারে। এক বিঘা পুকুরে প্রায় ৮০০০ তেলাপিয়ার মিন ছাড়া যেতে পারে। মিন ছাড়ার আগে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেটের দ্রবণে ডুবিয়ে রেখে তারপর জলে ছাড়তে হবে। পুকুরের জলের গুনাগুন পোনামাছ চাষের উপযোগী করার জন্য জলে র কেজি হারে চুন প্রয়োগ করতে হবে। মাছের খাবারের উপর নির্ভর করে মাছের বৃদ্ধি। মিন ছাড়ার পর প্রতিদিন ২৫-৩০ শতাংশ প্রোটিন সমৃদ্ধ সম্পূরক খাবার দিতে হবে। প্রথমে মাছের ওজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ৭৫০ গ্রাম সকালে ও ৭৫০ গ্রাম বিকেলে খাবার দিতে হবে।

 

সাতদিন বাদে ওই একই খাবার দ্বিগুন করে দিতে হবে। এইভাবে সঠিক পরিমাণ খাবার দিয়ে ১০০ দিন বাদে মাছের ওজন প্রায় ২০০ গ্রাম হয় তা বাজারজাত করার উপযোগী। বাজারের খাবার কেনার খরচা আছে, সেক্ষেত্রে সরষের খোল, চালের কুড়ো, গমের ভুসি, চিটেগুড়, কিছু ভিটামিন, খনিজ মিশিয়ে বাড়িতেই মাছের খাদ্য আপনি বানাতে পারেন। খাবার প্রযোগের রঘণ্মটা পর পুকুর পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যদি পুকুরে খাবার পাওয়া যায় তা হলে বুঝতে হবে পুকুরে মাছের কোনও সমস্যা হয়েছে অথবা খাবার বেশি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মাথায় রাখতে হবে প্রতি ৭-১০ দিন পর পর জাল টেনে মাছের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করে খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।

 

পোনা মজুদের পর প্রতি মাসে শতাংশ প্রতি ২৫০ গ্রাম চুন (চুন জলে ভিজিয়ে রেখে ঠান্ডা করে প্রয়োগ করতে হবে) বা ১৫০ গ্রাম জিওলাইট প্রয়োগ করতে হবে। গ্রীষ্মকালে অনেক সময় পুকুরে জল কমে গেলে জলের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। তখন পুকুরে প্রয়োজন মতো জল ছাড়তে হবে। একটানা মেঘলা আবহাওয়ায় কিংবা অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে অথবা খাবার দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে। শীতের শুরুতে ১৫ দিন পর প্রতি শতাংশে ২৫০ গ্রাম নুন ও ১৫০ গ্রাম চুন কিংবা জিওলাইট প্রয়ো করতে হবে। রোগের প্রাদুর্ভাব হলে পুকুরে জীবানুনাশক ব্যবহার করতে হবে। প্রতি কেজি খাবারে ৫ গ্রাম অক্সিটেট্রাসাইকিন ও ২ গ্রাম ভিটামিন-সি মিশিয়ে ১০ দিন প্রয়োগ করতে হবে।

Related Articles

Back to top button
Close