fbpx
আন্তর্জাতিকবাংলাদেশহেডলাইন

৭১’র পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক তাণ্ডব চালানো হচ্ছে: রাণা দাশগুপ্ত

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, ঢাকা: ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তিরা নানা কূটচালে পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তৎপর রয়েছে। তারাই এখন সাম্প্রদায়িক তা-ব চালাচ্ছে। এখনো কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে হিন্দু নির্যাতন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত।

সোমবার চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর এবং শিল্পের ওপর মৌলবাদী হুমকির প্রতিবাদে এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। সমাবেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরকারীদের মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে অসমাপ্ত লড়াই শেষ করার ডাক দেওয়া হয়।

রাণা দাশগুপ্ত বলেন, ‘আজ স্বাধীনতার সুর্বণ জয়ন্তীতে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে গ্রাস করতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির বিভাজনের সুযোগে তারা এই ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। আর পেছনে ফিরে থাকার সুযোগ নেই। ঐক্যবদ্ধ হয়ে যেভাবে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলাম, সেভাবে আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হবে। যদি দাঁড়াতে না পারি তাহলে আমাদের বিপর্যয় অনিবার্য।

সমাবেশে একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, ‘আজ যারা ভাস্কর্য ভাঙচুর করছে তারা নতুন অপশক্তি নয়, এরা একাত্তরের পরাজিত শক্তি। এরা শহীদ মিনার নির্মাণকে হিন্দুয়ানি আখ্যা দিয়েছিল। এরাই মুক্তিযুদ্ধকে মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে ভারতের ষড়যন্ত্র বলেছিল। এরা ছবি তোলা হারাম বলেছিল। আবার তারা ছবি তুলে হজে যায়। এরা ধর্ম ব্যবসায়ী। ধর্মের নামে ক্ষমতার রাজনীতি করে।’

হাসিনা সরকারের একাংশ এই অপশক্তিকে পৃষ্ঠপোষকতা দেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এরা বর্তমান সরকারের কোনো কোনো মহল থেকে প্রশ্রয় পেয়েছে। এই প্রশ্রয় পেয়ে তারা এতটাই বেপরোয়া হয়েছে যে, তার আজ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে হাত দিয়েছে। তাদের এই অপকর্মের প্রতিবাদ জানাই। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে।’

আবুল মোমেন আরও বলেন, ‘এরা ওয়াজের নামে সংখ্যালঘুদের, নারীদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে। এমনকি নারী শিক্ষার প্রতীক বেগম রোকেয়াকে অসম্মান করে। এতদিন সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আজ মানুষ জেগে উঠেছে। মানুষের জাগরণকে মূল্য দিতে হবে। একাত্তরের পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইটা সম্পন্ন করতে হবে।’

গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা কাজী নুরুল আবছার বলেন, ‘সরকারের দুই মন্ত্রী এই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে মদদ দিয়েছে। তারা আজ মাথাছাড়া দিয়েছে। আজ গোষ্ঠীটিকে সামলাতে পারছে না। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। অবিলম্বে মুক্তিযুদ্ধের এই পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

সংস্কৃতিকর্মী রাশেদ হাসানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হোসাইন কবীর, উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক শীলা দাশগুপ্তা, খেলাঘর সংগঠক রোজী সেন, শিল্পী শ্রেয়সী রায়, নাট্যজন অসীম দাশ, তাসকিয়াতুন নূর, আইনজীবী রেহানা কবির ও ছাত্র ইউনিয়নের জেলা সাধারণ সম্পাদক ইমরান চৌধুরী।

Related Articles

Back to top button
Close