fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রাস্তা সারাইয়ের দাবী জানাতে গিয়ে আক্রান্তের অভিযোগ, রণক্ষেত্র কাঁকসা

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: বেহাল গ্রামে যাওয়ার রাস্তা। বর্ষায় বেহাল রাস্তায় নাকাল গ্রামবাসীরা। ওই রাস্তা সারাইয়ের দাবী জানাতে যাওয়ায় পঞ্চায়েত অফিসে আদিবাসী যুবকদের মারধরের অভিযোগ উঠল। ঘটনার প্রতিবাদে পাল্টা তীর-ধনুক নিয়ে চড়াও পঞ্চায়েত অফিসে। দফায় দফায় বিক্ষোভ। সোমবার ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়াল কাঁকসার গোপালপুর গ্রামে। ঘটনায় আহত হয়েছে দুপক্ষের বেশ কয়েকজন। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামল raf, কমব্যট ফোর্স।

 

 

ঘটনার অভিযোগে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে গোপালপুর পঞ্চায়েতের গোপালপুর গ্রাম থেকে সারেঙ্গা, ভালুকোন্দা যাওয়ার রাস্তা বেহাল। প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার ওই রাস্তার ওপর ৬-৭টি গ্রাম রয়েছে। বর্ষার বৃষ্টিতে রাস্তাটি খানাখন্দে ভর্তি। কোথায় এক হাটু গর্ত হয়ে পড়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগে সারেঙ্গা, ভালুককোঁদা প্রভৃতি আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামের বাসিন্দাদের।  ওই গ্রামের বাসিন্দা তথা পঞ্চায়েত সদস্য দালু টুডু জানান,” দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি বেহাল। এদিন সব গ্রাম থেকে একজন করে জনকয়েক ছেলে রাস্তা সারাইয়ের দাবী জানাতে পঞ্চায়েতে ডেপুটেশন দিতে গিয়েছিল।” আর এক বাসিন্দা সুকুল টুডু জানান,” ডেপুটেশন দেওয়ার সময় পঞ্চায়েতের প্রধান, আধিকারিকদের সঙ্গে গ্রামের সংখ্যা নিয়ে চাপানউতোর থেকে বচসা হয়। তারপর আমাদের ওই ছেলেদের জমার কলার ধরে এলোপাথাড়ি মারধর করে। ৬ জন আহত হয়।” আর তারপরই ওই খবর আদিবাসী ওইসব গ্রামে পৌঁছাতে শ’পাঁচেক আদিবাসী লোকজন তির ধনুক, লাঠি, টাঙ্গি নিয়ে পঞ্চায়েত অফিসে চড়াও হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ।ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীদের আটকানো চেষ্টা করে পুলিশ। গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। আদিবাসী গাঁওতা সংগঠনের পক্ষে সুনীল সোরেন জানান,” দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা বেহাল। সেটা সারনোর দাবী জানানো কি অন্যায়? তার জন্য মারধর কেন করা হল? অভিযুক্ত পঞ্চায়েতের আধিকারিককে গ্রেফতার করতে হবে। গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান  বিক্ষোভ চলবে।”

 

 

এদিকে খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে নামে বিশাল পুলিশবাহীনি, কমব্যাট ফোর্স। গোপালপুর পঞ্চায়েতের প্রধান জয়জিত মন্ডল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান,” প্রায় সাড়ে ছ’ কিলোমিটার রাস্তাটি বেহাল। সংস্কারের জন্য পঞ্চায়েতের ফান্ডে সম্ভব নয়। তাই ব্লক ও জেলা পরিষদে জানিয়েছিলাম। এদিন প্রায় ৫০-৬০ জন আদিবাসী যুবক ডেপুটেশন দিতে অফিসে ঢুকে পড়ে। করোনা আবহে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে ১-২ জন ছাড়া বাকিদের বাইরে যেতে বলা হয়। তাতেই জামা ধরে মারধর শুরু করে আমাকে, আমার এক আধিকারিক ও এক পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যকে। চেয়ার ভেঙে দেয়। বাইরে থেকে ইট, পাথর ছুড়তে শুরু করে। ঘেরা করে রাখে।” কাঁকসা বিডিও সুদীপ্ত ভট্টাচার্য জানান,” পুলিশ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

Related Articles

Back to top button
Close