fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

শহরে করোনার দাপট, পুরসভার সাফাইকর্মীদের স্যানিটাইজার না দেওয়ার অভিযোগ, সরব INTUC    

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: শহরে মারণ রোগ করোনার দাপট। জায়গায় জায়গায় কন্টেনমেন্ট জোন। আতঙ্কে গোটা শিল্পশহরবাসী। তখন খোদ পুরসভার সাফাইকর্মীরা স্বাস্থ্য সুরক্ষাহীনের অভিযোগ। অপর্যাপ্ত  মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস। সাফাই কাজের পর জোটে না পর্যাপ্ত সানিটাইজ সামগ্রী। এমনই নজিরবীহিন অভিযোগ শিল্পশহর দুর্গাপুরের সাফাইকর্মীদের। আর তার প্রতিবাদে সরব হয়েছে আইএনটিউসি শ্রমিক সংগঠন। শুক্রবার দুর্গাপুর পুরসভায় আবার বিক্ষোভ দেখাল আইএনটিইউসি অনুমোদিত সাফাইকর্মী সংগঠন।

 

গত পাঁচমাস চীনের উহান উজাড় করা করোনার আতঙ্কে ত্রস্ত গোটা বিশ্ব। করোনা রুখতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’ একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছে। মাস্ক দিয়ে মুখ ঢাকা, হাত, মুখ জীবানুনাশক দিয়ে প্রতিনিয়ত ধোয়া। অন্যদিকে তখন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এখনও অন্ধকারে খোদ দুর্গাপুর পুরসভার সাফাইকর্মীরা।  জানা গেছে, শহরে ৪৩ টি ওয়ার্ডের প্রায় দু হাজার সাফাইকর্মী রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৭০ জন মহিলা রয়েছে। অভিযোগ, সকাল থেকে তাদের শহরের জঞ্জাল সাফাই করতে হয়। অনেককেই হ্যান্ডগ্লাভস ছাড়াই খালি হাতেই করতে হয় শহরে নোংরা জলপূর্ণ নিকাশী সাফাইয়ের কাজ। আবার কোথাও ঝোপজঙ্গল সাফাই। মাস্ক, গ্লাভস ছাড়াই হাসপাতালের নোংরা পরিস্কারও করতে হয় বলে অভিযোগ সাফাইকর্মীদের। প্রতিবাদে সরব হয়েছে আইএনটিউসি শ্রমিক সংগঠন। শুক্রবার দুর্গাপুর পুরসভায় আবারও বিক্ষোভ দেখাল আইএনটিইউসি অনুমোদিত সাফাইকর্মী সংগঠন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, “গত এপ্রিল মাসের প্রথমদিকে পুরসভায় বিক্ষোভ দেখানোর পর সামান্য কিছু ডাস্টার, স্যানিটাইজের জন্য সাবান, জুটেছিল। তাতে  বেশীদিন যায়নি।

 

সম্প্রতি দুর্গাপুরে তিন জায়গায় কন্টেনমেন্ট জোন। শহরের বেশ কিছু জায়গায় করোনা সংক্রামিত হয়েছে। এখন আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বেশী প্রয়োজন। কিন্তু নতুন করে আর স্যানিটাইজ সামগ্রী দেওয়া হয়নি। অথচ এমনই নিকাশীর নোংরা দুষিত জলে নেমে সাফাই করতে যেখানে মারণ রোগের আতুড় ঘর। খালি হাতে নিকাশীর দুষিত জল থেকে নোংরা আবর্জনা তুলতে হয়। ওইসব কাজ করার পর জীবানুনাশক তেল কিম্বা সাবানটুকুও ঠিক মত জোটে না। গোটা শহরকে নোংরা, জীবানুমুক্ত করার গুরু দায়িত্ব আমাদের ওপর থাকলেও, নিজেরাই স্বাস্থ্য সুরক্ষা হীন।” প্রতিবাদে সরব হয়েছে আইএনটিইউসি অনুমোদিত সাফাইকর্মী সংগঠন। আইএনটিইউসি অনুমোদিত দুর্গাপুর পুরসভা ক্যাজুয়াল শ্রমিক সংগঠনের সাধারন সম্পাদক সুভাষ সাহা জানান, “গত ৬ বছর ধরে সাফাইকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যাবস্থার দাবীতে আন্দোলন চলছে। বহুবার আবেদন করেছি। এখন করোনার সংক্রামক শহরে। তাই হ্যান্ডগ্লাভস, মাস্ক, সাফাই কাজে ব্যাবহৃত বিশেষ ধরনের পোশাক। সাফাই কাজের পর স্যানিটাইজ সামগ্রী দেওয়া বেশী জরুরী। তবুও পুরসভার সাফাইকর্মীদের স্যানিটাইজার পর্যাপ্ত দেওয়া হয় না। এমনকি সাফাইকর্মীদের কোভিড-১৯ টেস্টেরও গুরুত্ব নেই পুরসভার। আমরা পুর কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি।”

 

দুর্গাপুর পুরসভার মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) রাখী তেওয়ারী জানান,” বিষয়টি নজরে রয়েছে। অতীতে মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস, সাবান দেওয়া হয়েছিল। তারপরও অনেক সময় সাফাই কর্মীরা মাস্ক না পরেই কাজ করছে। তবে দেখছি বিষয়টি। প্রয়োজনে আবারও স্যানিটাইজের সাবান সাফাইকর্মীদের দেওয়া হবে।”

Related Articles

Back to top button
Close