fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

গন্তব্যে না দাঁড়ানোর অভিযোগ, ইঞ্জিন বদলের সময় দুর্গাপুর স্টেশনে নেমে পড়লেন স্পেশাল ট্রেনের ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: নির্ধারিত গন্তব্য ষ্টেশনে না দাঁড়ানোর অভিযোগ। পরবর্তী স্টপেজে ইঞ্জিন বদলের সুযোগে নেমে পড়ল স্পেশাল ট্রেনের যাত্রীরা। স্টেশনে নেমেই রেলের চুড়ান্ত গাফিলাতির অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়ল যাত্রীরা। বৃহস্পতিবার ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল দুর্গাপুর স্টেশনে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় যাত্রীদের বাড়ী পৌঁছানোর ব্যাবস্থা করল দুর্গাপুর মহকুমা পুলিশ ও প্রশাসন।

 

 

প্রসঙ্গত, করোনা সংক্রামক রুখতে চলছে লকডাউন। আচমকা লকডাউনে রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক, পড়ুয়া থেকে চিকিৎসায় যাওয়া রোগী ও তাদের আত্মীয়স্বজনরা আটকে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। প্রায় দু মাস পর ওই সময় দেশবাসীকে বাড়ীতে ফেরানোর বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। চালু করা হয়েছে আন্তঃরাজ্য বিশেষ ট্রেন পরিষেবা। বৃহঃস্পতিবার এরকমই একটি ট্রেন বেঙ্গালুরু থেকে দুর্গাপুর স্টেশনের এক নম্বর প্লাটফর্মে আসে। ট্রেনটি নিউ জালপাইগুড়ি ছিল শেষ গন্তব্য। তার মাঝে রাজ্যের বেশ কয়েকটি ষ্টেশনে কিছু যাত্রীদের নামানোর কর্মসুচী ছিল।

 

এদিনে দুর্গাপুর স্টেশনে ট্রেন দাঁড়াতেই আশপাশের বেশ কিছু জেলার প্রায়, ৫৬ জন যাত্রী নেমে পড়ে। বেশীরভাগই বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা ফেরত যাত্রী ছিলেন। নেমে পড়া যাত্রীদের অভিযোগ, বিষ্ণুপুর, হুগলী, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, দুর্গাপুরে থাকে।” বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা জোৎস্না অধিকারী, হুগলীর সঞ্জয় যাদব, কোলাঘাটের শেখ নজরুল প্রমুখ যাত্রীরা জানান,” চিকিৎসা করাতে গিয়ে আটকে পড়েছিলাম। গত ১২ মে সেখানের কর্নাটক সরকারের অতিথীয়তা ও সহযোগীতায় মল্লুর স্টেশন থেকে স্পেশাল ট্রেনে চেপেছি। আমাদের টিকিটে গন্তব্য রয়েছে পুরুলিয়া। অথচ পুরুলিয়ায় ট্রেন থামল না। পরে আসানসোলে দাঁড়ালেও নামতে দেওয়া হয়নি। রেলকর্মীরা বলেন নিউ জলপাইগুড়িতে নামতে হবে। কিন্তু টানা তিনদিন ট্রেন যাত্রার পর আবার প্রায় ১৬-১৮ ঘন্টার বাস যাত্রা সম্ভব নয়। রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। এবং দুর্গাপুর থেকে খুবই কমসময়ে বাড়ীর পৌঁছানো যাবে। তাই দুর্গাপুরে নেমে পড়েছি।”

 

 

এদিকে যাত্রীদের দুর্গাপুরে নামানোর পুর্ব নির্ধারিত কোন কর্মসুচী ও ব্যাবস্থা ছিল না। ফলে যাত্রীরা আচমকা নেমে পড়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দুর্গাপুর মহকুমা প্রশাসন ও কমিশনারেট পুলিশ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, খাবারের ও বাড়ী পৌঁছানোর ব্যাবস্থা করে। দুর্গাপুর মহকুমা শাসক অনির্বান কোলে জানান,” ৫৬ জন যাত্রী রয়েছে। আগাম সুচনা না থাকলেও স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে টিফিন, এবং সুষ্ঠভাবে বাড়ী পৌঁছানোর সমস্তরকম ব্যাবস্থা করা হয়েছে।”

Related Articles

Back to top button
Close