fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

৩২ জন করোনা পজেটিভকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে দিনহাটা সহ গোটা জেলাজুড়ে

সোমা কর, দিনহাটা: গ্রীন জোনে ছিল দিনহাটা সহ কোচবিহার। হঠাতই এই জোনে ৩২ জন পরিযায়ী শ্রমিকের করোনা পজেটিভকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে দিনহাটা সহ গোটা জেলাজুড়ে। পরিযায়ী এই শ্রমিকদের অনেকেরই ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরেও তাদের শরীরে করোনার উপসর্গ পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাই, নতুন করে আশঙ্কা বেড়েছে কোচবিহারে। পাশাপাশি এদের মধ্যে অনেকেই কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়িও চলে গিয়েছেন।

জানা গেছে, ওই ৩২ জন পরিযায়ী শ্রমিক গত ১৫ মে দিল্লি থেকে এসেছিল। পরে তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখাও হয়। ১৪ দিন পর তাঁদের কোনও রকম উপসর্গ না দেখা দেওয়ায় বাড়ি ফিরে যান তারা। কিন্তু তাদের লালারসের টেস্টের রিপোর্ট আসতেই দেখা গেল, তাঁদের করোনা পজেটিভ। দুই সপ্তাহ পরও তাঁদের শরীরে কীভাবে ভাইরাসের উপস্থিতি, তাতেই উদ্বিগ্ন অনেকে।
শুক্রবার রাতেই দিনহাটার তিনটি ব্লক থেকেই এদের বাড়ি থেকে পুলিশের উপস্থিতিতে স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা উদ্ধার করে শিলিগুড়ি হিমাচল বিহার করোনা হাসপাতালে পাঠায় বলে জানা গেছে।

বিশেষত তাঁরা যেহেতু কোয়ারেন্টাইন শেষ করে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন, ফলে অনেকের সংস্পর্শেও এসেছেন। তাই তাঁদের চিহ্নিত করে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আপাতত তাঁদের করোনা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের এখনও পর্যন্ত কোনও উপসর্গ না থাকায়, মনে করা হচ্ছে তাঁরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

গতকাল ওই ৩২ জন পরিযায়ী শ্রমিকের করোনা পজেটিভের তালিকা নিমেষের মধ্যে ভাইরাল হয়। তা নিয়ে প্রথমে জেলাশাসক কিছু না বললেও করোনা আক্রান্ত ওই ৩২ জনের কথা পরবর্তীতে স্বীকার করে নেন জেলাশাসক পবন কাদিয়ান। তিনি বলেন, নমুনা পরীক্ষা করে ৫৮৯ জনের নেগেটিভ ও ৩২ জনের পজিটিভ আসে। তাদের স্যাম্পেল কালেক্ট করা হয়েছিল ২০ তারিখ। আক্রান্তদের সবাই এসিম্পটোমেটিক ছিল। তাদের সকলকে আজ ভোরের আগেই শিলিগুড়ি হিমাচল বিহার করোনা হাসপাতালে পাঠনো হয়েছে।

এদিন তিনি আরও জানান, ৩২ জনকেই নির্ধারিত কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে যদি তারা পুরো সময় জুড়েই এসিম্পটোমেটিক থাকেন তবে তাদের নেক্সট টেস্ট করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে। তবে এখনও কারও কোনো সিম্পটম ডেভেলপ করেনি। ওই ৩২ জনের সঙ্গে সংস্পর্শে এসেছে যারা তাদের কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন জেলাশাসক।

প্রসঙ্গত, বেশ কিছুদিন ধরেই কোচবিহার থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো করোনা পরীক্ষার নমুনার রিপোর্ট না আসায় বাসিন্দাদের মধ্যে আশঙ্কা দানা বাঁধছিল। গতকাল জেলার ৩২ জন আক্রান্ত বলে খবর প্রকাশে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শুক্রবারের হিসেব অনুযায়ী, ২৪ ঘন্টায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত ২৭৭জন। বৃহস্পতিবার এই সংখ্যাটা ছিল ৩৪৪ জন। এই পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪,৮১৩ জন। শুক্রবারের রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিনে প্রকাশ, বাংলায় নতুন করে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩০২ জনে। এর মধ্যে কো-মর্বিডিটির কারণে মৃত্যু হয়েছে ৭২ জনের।

তবে সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যা ২,৭৩৬ জন। গত ২৪ ঘন্টায় যে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে কলকাতার ২ জন, হুগলির ২ জন, উত্তর ২৪ পরগণার ১ জন, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ১ জন এবং নদিয়ার ১ জন। শুধু কলকাতায় নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা ৭১ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৯৭৩ জনে। শহরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৯৬ জনে। কো-মর্বিডিটির কারণে মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৪২ জন। এই পর্যন্ত কলকাতায় ৮২৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। বাংলায় নতুন করে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন আরও ১০৭ জন।

Related Articles

Back to top button
Close