fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

চিন ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধের আবহ তৈরি হওয়ায় চিনে থাকা সন্তানদের জন্য দুশ্চিন্তায় বর্ধমানের পরিবার

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: লাদাখ সীমান্তে তৈরি হয়েছে যুদ্ধের আবহ । চিন যুদ্ধ জিগির জাগিয়ে রেখেছে। ভারত ও চিন দুই দেশই সেনাবাহিনীর সমাবেশ বাড়িয়ে চলেছে লাদাখ সীমান্তে । এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সন্তান আলহিলালের কথা ভেব চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁর বৃদ্ধ মা বাবা সহ গোটা পরিবার। তারা চাইছেন চিনে ব্যবসা গুটিয়ে অবিলম্বে আলহিলাল ও স্ত্রী নাতিকে নিয়ে ফিরে আসুক ভারতে ।

পূর্ব বর্ধমানের নবীনগরে আলহিলালের আদি বাড়ি । চিনের সেনজেনে তার টেক্সটাইলের ব্যবসা রয়েছে । প্রায় ২০ বছর ধরে সেখানে তিনি ব্যবসা করছেন । সেনজেনে আলহিলাল তাঁর স্ত্রী নার্গিস পারভীন ও ১৩ বছর বয়সী ছেলে আহান শেখকে নিয়ে থাকেন । চীনে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ায় লক ডাউন জারি করা হয় । এরফলে প্রায় চার মাস সেখানে দোকান বাজার বন্ধ থাকে। লকডাউন চলায় সেনজেনে স্বপরিবার গৃহবন্দি থাকতে হয় আলহিলাল ও তার পরিবারকে । এরফলে সেদেশে তার ব্যবসাপাতি একপ্রকার লাটে ওঠে । কোভিড ১৯ সংক্রমন কমতেই ধীরে ধীরে সবকিছু স্বাভাবিক হচ্ছিল ।কিন্তু পুরানো ছন্দে সেনজেন ফিরতে না ফিরতেই চীন ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধের আবহ তৈরি হওয়ায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন আলহিলালের পরিবার ।

লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চিনা সৈন্য বাহিনীর হামলায় গত মঙ্গলবার এক কর্ণেল সহ ২০ জন ভারতীয় সেনা শহিদ হন । এর পর থেকে দুই দেশের সীমান্ত পাড়ে বাড়তে শুরু করেছে উষ্ণতা । কয়েকদিনে ভারত ও চিন সীমান্তের লাদাখে দুই দেশের সেনাবাহিনীর সমাবেশ বেড়েছে। যে কোনও সময়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ লেগেযেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হতেই আলহিলালের বাবা মায়ের দুশ্চিন্তা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে ।

বর্ধমানের নবীনগরের বাড়িতে থাকেন আলহিলালের বৃদ্ধ বাবা মহম্মদ জয়নাল আবেদিন , মা হালিমা বিবি ও ভাই।জয়নাল আবেদিন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক । যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তাঁরা সকলেই চাইছেন ঘরের ছেলে তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরে আসুক। প্রয়োজনে চীনে ব্যবসা গুটিয়ে দিয়ে ভারতে এসে ব্যবসা করুক । এখন আলহিলালের আতঙ্কিত বাবা মা বারে বারে সেনজেনে ফোন করে ছেলে , বৌমা ও নাতির খোঁজ খবর নিচ্ছেন। আলহিলালের মাও চাইছেন দ্রুত তাঁর ছেলে স্বপরিবার ভারতে ফিরুক।

Related Articles

Back to top button
Close