fbpx
অসমদেশহেডলাইন

গৌতমকে টেক্কা দিতে কাটিগড়ায় শরিফুজ্জামানকে হাতিয়ার কর‍তে পারে কংগ্রেস!

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, কাটিগড়া: রাজনৈতিক উত্তাপ যেন ক্রমেই বাড়ছে কাটিগড়ায়। একুশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক নেতাদের গতিবিধিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম রায় কাটিগড়ায় বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন। এমন খবর সামনে আসার পর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে অন্যান্য রাজনৈতিক দলেরও। গৌতমকে টেক্কা দিতে চলছে আগেভাগে রণকৌশল তৈরি করার দৌড়ঝাঁপও শুরু হয়ে গেছে। কাটিগড়ায় বিজেপি, কংগ্রেস, এআইইউডিএফ এই তিন দলই সক্রিয়।

 

লোকসভা হোক কিংবা বিধানসভা নির্বাচন এই তিন দলের প্রভাবই লক্ষ্য করা যায়। একুশের নির্বাচনেও যে এমনটা হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিজেপি প্রার্থী নিয়ে ইতিমধ্যে বেশ চর্চা শুরু হয়ে গেলেও এক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে এআইইউডিএফ, কংগ্রেস।এর পেছনে অবশ্য কারণও রয়েছে।এই দুই দলের মধ্যে মিত্রতা হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় কিছুটা শ্লথ গতিতে এগোচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।তবে গৌতম রায়ের নাম কাটিগড়ার প্রার্থী হিসাবে সামনে আসার পর কংগ্রেসের মধ্যে কিছু তেজি ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।গৌতম রায়কে টেক্কা দেওয়ার মতো যোগ্য প্রার্থী হিসাবে সামনে আসছে শরিফুজ্জামান লস্করের নাম। স্থানীয় হিসাবে শরিফুজ্জামানের গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে।তাছাড়া তিনি দীর্ঘ দিনের কংগ্রেস কর্মী।কংগ্রেসের ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে প্রদেশ কংগ্রেস,এমনকি জাতীয় রাজনীতির আঙ্গিনায়ও তাঁর উপস্থিতি ছিল একসময়।

 

গত কয়েকটি বিধানসভা নির্বাচন থেকে লাগাতার প্রার্থীত্ব দাবি করে আসলেও দল তাঁকে বিমুখ করেছে।কিন্তু তারপরও কোন দিন দলের বিরোধিতা করেননি তিনি।দলের হয়ে কাজ করে গেছেন সব সময়।এখনও কংগ্রেসের একজন একনিষ্ঠ সৈনিকের মতো কাজ করছেন।কংগ্রেস-ইউডিএফ মিত্রতা হলে কাটিগড়া কেন্দ্র বিজেপির হাত থেকে ছিনিয়ে আনতে শরিফুজ্জামানের মতো নেতাকে প্রার্থী করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন একাংশ লোক।বিশেষ করে গৌতম রায়ের মতো শক্ত প্রার্থীর মোকাবিলা করার জন্য তাঁর মতো প্রার্থীর প্রয়োজন রয়েছে পোষকতা করা হচ্ছে।যদিও এনিয়ে এখনও কংগ্রেসের দলীয় স্থিতি কী তা জানা যায়নি। তবে হ্যাঁ,শরিফুজ্জামান লস্করের ভাল একটা পরিচিত রয়েছে দিল্লি, দিসপুরে। এই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে একুশের নির্বাচনে শরিফুজ্জামান দলীয় টিকিট ছিনিয়ে নিয়ে আসলে আশ্চর্যের কিছু থাকবে না।

তাছাড়া আজমলের দলের সঙ্গে মিত্রতার সম্ভাবনা থাকায় কাটিগড়ায় কংগ্রেসের তেমন কোন ভাল প্রার্থী সক্রিয় নেই।কালাইন,কাটিগড়া ব্লক কংগ্রেস সভাপতি যথাক্রমে বিশাল সরকার, হোসেন আহমদ চৌধুরীর নাম প্রার্থী হিসাবে সামনে আসলেও এনিয়ে তেমন কোন চর্চা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। একুশের নির্বাচন নিয়ে কংগ্রেসের এমন স্থিতি হলেও বসে নেই আজমলের দল। মিত্রতা হলে কাটিগড়া যে এআইইউডিএফের দখলে থাকবে এমনটা পাকাপোক্ত ধরে নিয়েই এগোচ্ছে দল।দলীয় কর্মীদের ওয়ার্ম আপ করার কাজ চলছে জোরকদমে। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে দলের প্রার্থী ছিলেন খলিল উদ্দিন মজুমদার। একুশের নির্বাচনে দল ফের একবার তাঁর উপর ভরসা দেখাবে ধরে নিয়েই এগোচ্ছেন তিনি।যদিও টিকিট প্রত্যাশি হিসাবে জাবির হোসেন লস্করের নামও চর্চায় রয়েছে। খলিলউদ্দিন মজুমদার মূলত পাঁচগ্রামের বাসিন্দা কিন্তু জাবির হোসেন কালাইনের যুবক।

 

সূত্রের খবর, আগন্তুক নির্বাচনে আজমলের দলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বাসনা নিয়ে দলীয় পর্যায়ে বেশ দৌড়ঝাপ অব্যাহত রেখেছেন তিনি।যুব এআইইউডিএফের স্থানীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও রয়েছেন তিনি।সূত্রটি জানায়,কংগ্রেস-ইউডিএফ দুই দল আগন্তুক নির্বাচন নিয়ে ভেতরে ভেতরে তৈরি হলেও গৌতমবাবুকে নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন নেতার।বিজেপি গৌতমবাবুকে প্রার্থী করলে খেলাটা তেমন সহজ হবে না।ফলে প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম রায়কে টেক্কা দেওয়ার মতো শক্ত প্রার্থীর খোঁজ চলছে গোপনে।ছাত্র রাজনীতির মাঠ থেকে ক্রমান্বয়ে উঠে আসা শরিফুজ্জামান লস্কর এক্ষেত্রে কংগ্রেসের মুসকিল আছান হতে পারেন।দলীয় নেতৃত্ব বিষয়টাকে কী ভাবে দেখছে তা বুঝা না গেলেও কাটিগড়ার জমিনে কিন্তু এনিয়ে আলোচনা রয়েছে। স্থানীয়, শিক্ষিত, সামাজিক, সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গে নানা ভাবে জড়িত একজন মার্জিত স্বভাবের লোক হিসাবে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close