fbpx
দেশহেডলাইন

দায়িত্ব কার হাতে? সিদ্ধান্ত নিতে আজ বৈঠকে কংগ্রেস কর্মসমিতি

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: দলের অন্দরে নেতৃত্ব নিয়ে বিদ্রোহের মাঝেই পরবর্তী সভাপতি বেছে নিতে আজ সোমবার বৈঠকে বসছে কংগ্রেস কর্মসমিতি। কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভানেত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন সোনিয়া গান্ধী । দিল্লির অন্দরে কান পাতলে এখন সেই জল্পনাই শোনা যাচ্ছে। কংগ্রেস সূত্রের খবর, সোনিয়া ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের শীর্ষনেতাদের জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আর এই দায়িত্বে থাকতে চান না। এবার নতুন সভাপতি বেছে নিক দল। এর ফলে ফের মহাফ্যাসাদে  পড়তে চলেছে দেশের সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দল।

পূর্ণ সময়ের জন্য নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি জানিয়ে সনিয়া গান্ধিকে চিঠি লিখেছিলেন দলের ২৩ জন সিনিয়র নেতা৷ সেই চিঠি ফাঁস হতেই গান্ধি পরিবারের নেতৃত্বে আস্থা রেখে পাল্টা চিঠি পাঠিয়েছেন গোটা দেশে ছড়িয়ে থাকা কংগ্রেসের প্রায় ৬০০ মন্ত্রী নেতা বিধায়ক! দলের কার্যকরী কমিটির বৈঠকের আগে নেতৃত্ব নির্বাচন ঘিরে কংগ্রেসে নাটক এখন তুঙ্গে৷

অনেকেই রাহুলের দিকেই চেয়ে আছেন। তাঁকেই নেতার আসনে দেখতে চান তাঁরা আগামী দিনে। কিন্তু সূত্রের খবর, দায়িত্ব নিতে চান না রাহুল। আর তাঁর জুতোতেই পা গলিয়েছেন প্রিয়াঙ্কাও। কিন্তু দলের বরিষ্ঠ নেতারা চান, খোলনলচে বদলে যাক। ফলে সভাপতি পদে নতুন মুখ আনার সম্ভাবনা প্রবল।সূত্রের খবর, গান্ধি পরিবারের নেতৃত্বেই আস্থা রয়েছে, এই দাবি জানিয়ে অন্তত ৫০ জন সাংসদ এবং তিন জন কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা চিঠি পাঠিয়েছেন হাইকম্যান্ডকে৷ শুধু তাই নয়, কংগ্রেসের ৫০০-র বেশি বিধায়ক, ৩০ জন প্রদেশ সভাপতিও একই দাবি জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে সূত্রের খবর৷ সবমিলিয়ে নেতৃ্ত্ব নিয়ে কংগ্রেসের মধ্যে বিভাজন ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে৷ এই নেতাদের দাবি, সনিয়া অথবা রাহুল গান্ধিই কংগ্রেসকে নেতৃত্ব দিন৷ অন্য কারও পক্ষে কংগ্রেসের সঙ্গে ন্যায় করা সম্ভব নয় বলেই মনে করেন তাঁরা৷

গত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসে ভরাডুবির পরই দায় মাথায় নিয়ে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়ান রাহুল গান্ধি। অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যেতে থাকেন সনিয়া গান্ধি। ক্রমে তাঁর মেয়াদ শেষ হয়, কিন্তু নতুন মুখ তথা যোগ্য নেতা খুঁজে পায়নি দল। এই বিষয়টিই অসন্তুষ্ট করছে গুলাম নবি আজাদ , পৃথ্বীরাজ চৌহান, আনন্দ শর্মা, মনীষ তিওয়ারি, অরবিন্দ সিংহের মতো নেতাদের। শনিবারই মোট ২৩ জন শীর্ষ নেতা একজন যোগ্য মুখ চেয়ে চিঠি লেখেন সনিয়াকে। একটি সূত্র বলছে, এর পরে নাকি ঘনিষ্ঠমহলে পদত্যাগের কথা জানান সনিয়া। এই জল্পনা সত্যি হলে, ফলে আগামিকালের বৈঠকের মূল আলোচনাটি থাকবে সনিয়ার পদত্যাগ এবং নতুন মুখকে ঘিরেই। খোঁজা হবে যোগ্য উত্তরাধিকারী।

আরও পড়ুন: অপ্রতিরোধ্য! ষষ্ঠবারের জন্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতল বায়ার্ন

তবে, সোনিয়া গান্ধী যদি সেই হাল ধরতে চান, অনেকের তাতে আপত্তি নেই বলে জানা গিয়েছে। তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং, অশোক গেহলট, ভূপেশ বাঘেল-সহ অধীর চৌধুরী, ডি কে শিবকুমার, সিদ্দারামাইয়ারা সোনিয়ার উপরেই আস্থা রাখছেন। অন্য দিকে সচিন পাইলট, দিল্লি কংগ্রেস ইউনিট, যুব কংগ্রেস চাইছে রাহুল গান্ধী ফের দায়িত্বে ফিরে আসুক।

জাতীয় রাজনীতিতে কার্যত ভূমিকম্প ঘটিয়েছে ওই চিঠি। অপমানিত সোনিয়া গান্ধি কংগ্রেস সভানেত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সূত্রের খবর, আজকের কর্মসমিতির বৈঠকে শুধু দলের সভানেত্রীর পদ থেকে নয়, কংগ্রেস কর্মসমিতি থেকেও সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়ে দেবেন রাজীব পত্নী। মায়ের দেখানো পথে হেঁটে কর্মসমিতির সদস্য পদ ছাড়তে পারেন রাজীব পুত্র রাহুল গান্ধিও। ফলে দলের বিকল্প সভাপতি হিসেবে কাকে কংগ্রেস কর্মসমিতি বেছে নেয়, তার দিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

Related Articles

Back to top button
Close