fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

বিদ্রোহে ইতি টেনে অবশেষে ‘ঘর ওয়াপসি’ শচীনের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: এক মাসের দীর্ঘ দড়িটানাটানির খেলা শেষ হল রাজস্থানে। ‘ঘর ওয়াপসি’ অবশেষে বিদ্রোহে ইতি টেনে কংগ্রেসের ঘাঁটিতেই ফিরে এল সচিন পাইলটে র বিমান। সেই ‘ঘর’ ফিরলেন রাহুল গাঁধীর হাত ধরেই। ১৪ অগস্ট থেকে রাজস্থানে বিধানসভার অধিবেশন। সেখানেই কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী গেহলটের সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে আস্থা ভোট হওয়ার কথা। তার আগেপ্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন শচীন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা। সন্ধ্যায় শচীন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকটি নীতিগত প্রশ্ন তোলার জন্য তাঁরা বিদ্রোহ করেছিলেন। তাঁর কথা শোনার জন্য শচীন ধন্যবাদ দেন প্রিয়ঙ্কাকে। রাহুল বলেছেন, শচীনের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার জন্য তিন সদস্যের প্যানেল তৈরি হবে। প্রিয়ঙ্কা তার সদস্য হবেন। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোটের ‘কাজের পদ্ধতির’ বিরোধিতা করেছিলেন শচীন।

কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের বাসভবনে শচীন সোমবার দীর্ঘ দু’ঘণ্টা কথাবার্তা চালান রাহুল গান্ধি ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধির সঙ্গে। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে বলেন, এই মিটিং ‘খোলামেলা এবং ফলপ্রসূ হয়েছে। তার পরেই জাতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি ভেনুগোপাল নিজের বিবৃতিতে বলেন, “একটি তিন সদস্যের কমিটি তৈরি হবে যারা সচিন-সহ অন্য বিক্ষুব্ধ এমএলএ-দের কথাবার্তা শুনবে এবং একটা সমাধান সূত্র বের করে আনবে।” একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, শচীন পাইলট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, “তিনি কংগ্রেসের হয় এবং রাজস্থান সরকারের হয়ে কাজ করবেন।” এদিন কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সুরজওয়ালা বলেন, রাজস্থানের রাজনৈতিক সংকট মিটতে চলেছে রাহুল গান্ধির হস্তক্ষেপে। এর থেকে বোঝা যায় কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ঐক্য কতটা। একই সঙ্গে প্রকট কংগ্রেসের সভ্যরা অত সহজে বিজেপির শিকার হবে না।

শচীন বলেন, কয়েকটি অভিযোগ তুলে ধরাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল। ৪২ বছর বয়সী শচীনের কথায়, ‘আমি প্রথম থেকে বলে আসছি, নীতিগত কারণেই যা করার করেছি। দলের স্বার্থেই কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা দরকার ছিল।’ সোমবার গভীর রাতে একটি টুইট করেন শচীন। তাতে রাহুল, প্রিয়ঙ্কা এবং কংগ্রেসের অন্যান্য প্রথম সারির নেতাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “সোনিয়া গান্ধি, রাহুল গান্ধি, প্রিয়াঙ্কা গান্ধি-সহ সমস্ত কংগ্রেস নেতৃত্বকে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই আমাদের বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে বিচারের আশ্বাসের জন্য। আমি আমার বিশ্বাসে অনড়। গণতন্ত্র রক্ষার্থে কংগ্রেসের হয়ে রাজস্থানের মানুষের জন্য কাজ করব। কাজ করব নতুন ভারতের জন্য।”

আরও পড়ুন: দেশে একদিনে করোনা আক্রান্ত ৫৩ হাজার, স্বস্তি দিয়ে দেশে করোনার সংক্রমণ নিম্নমুখী

শচীন দাবি করেছেন, রাজস্থানে কংগ্রেসের নেতৃত্ব বদল করতে হবে। রাহুল তাঁকে জানিয়ে দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে অশোক গেহলোটকে সরানো সম্ভব নয়। রবিবারই রাজস্থান কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নেয়, যাঁরা দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, তাঁদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে না। এদিন মরুশহর জয়সলমিরে কংগ্রেস পরিষদীয় দলের বৈঠক বসে। সেখানে নগরোন্নয়ন ও আবাসন মন্ত্রী শান্তি ধারিওয়াল বলেন, যারা দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তাদের আর কখনই ফিরিয়ে নেওয়া উচিত নয়। অপর বিধায়করা একবাক্যে তাঁকে সমর্থন করেন। এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক অবিনাশ পাণ্ডে বলেন, কংগ্রেসে বিদ্রোহ নিয়ে ব্যবস্থা নেবে হাইকম্যান্ড। তবে তিনি নিজে চান, বিদ্রোহীদের যেন আর ফেরানো না হয়। কিন্তু সোমবার রাহুলের সঙ্গে বৈঠকের পর স্পষ্ট, শচীন স্বমহিমায় দলে ফিরছেন।

কিন্তু গত এক মাসে গহলৌত ও শচীনের মধ্যে তৈরি হওয়া তিক্ততা কী ভাবে মিটবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। গহলৌত ইতিমধ্যেই সচিনকে ‘নিকম্মা’, ‘অপদার্থ’, ‘সুন্দর মুখ, মাথায় কুবুদ্ধি’— এমন বহু কথাই বলে ফেলেছেন। এ দিন অবশ্য তিনি বলেন, পার্টি নেতৃত্ব বিদ্রোহীদের ক্ষমা করলে তিনিও তাঁদের বুকে টেনে নেবেন।তবে কংগ্রেস সূত্রের খবর, সমাধান যা-ই হোক, উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও প্রদেশ সভাপতির পদ ফেরত পাচ্ছেন না সচিন। তাঁকে এআইসিসি-তে সাধারণ সম্পাদক করে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হতে পারে। ওয়ার্কিং কমিটিতেও জায়গা পেতে পারেন। তবে আগামী বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করে ভোটে যাবে, এমন বার্তাও দেওয়া হয়েছে। তাঁর অনুগামী দুই বিক্ষুব্ধ বিধায়ককে অবশ্য মন্ত্রিসভায় ফেরানোর দাবি তুলেছেন সচিন।

 

Related Articles

Back to top button
Close