fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণদেশপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বিজেপি নয়, কংগ্রেস-ই ছড়াচ্ছে সাম্প্রদায়িকতার ভাইরাস: দিলীপ ঘোষ

ইন্দ্রাণী দাশগুপ্ত, নয়া দিল্লি: বিজেপি নয়, কংগ্রেস-ই ছড়াচ্ছে সাম্প্রদায়িকতার ভাইরাস বলে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সাংসদ দিলীপ ঘোষ। দিলীপবাবু আরও বলেন, মহারাষ্ট্রের ঘটনার পর যেখানে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সেখানে কংগ্রেস সভানেত্রীর এই ধরনের বক্তব্য শুধু দায়িত্বজ্ঞানহীন-ই নয়, যথেষ্ট সাম্প্রদায়িকতাকে ইন্ধন দেওয়ার প্রয়াস বলে আমি মনে করছি।

কংগ্রেস পার্টি আবার বরাবরের মতো নিজেদের পায়ের তলার জমি শক্ত করার জন্য দেশের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার করাল হিংস্রতাকে আবার জাগ্রত করার চেষ্টা করছে বলে আমি মনে করছি। তাই অত্যন্ত তীব্র ভাষায় আমি এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে দেশের শাসক দল বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, বিজেপি দেশে সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে। এই প্রসঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর তীব্র বিরোধিতা করেন দিলীপ ঘোষ, এবং যুগশঙ্খকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান বরাবর-ই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আমাদের দলের গায়ে সাম্প্রদায়িক দল বলে একটা মিথ্যে তকমা লাগানোর চেষ্টা করে আসা হচ্ছে। কিন্তু আমি একটা কথা বুঝতে পারি না যখন রাজস্থানে আলো আরে ফেলু খান বা ঝাড়খণ্ডে তাবরেজ আনসারি যখন গণপিটুনিতে মারা যান তখন আমরা, অর্থাৎ বিজেপি সাম্প্রদায়িক। আবার যখন মহারাষ্ট্রে পালঘরে দুজন হিন্দু সাধুকে পুলিশের সামনে পিটিয়ে হত্যা করা হয় তখনও সম্প্রদায়িক আমরাই।

কিন্তু মহারাষ্ট্রের বর্তমান ক্ষমতায় রয়েছেন কংগ্রেস শিবসেনা জোট দল। সেখানে এই ধরনের একটা মারাত্মক ঘটনা ঘটল, অথচ আমরা কিন্তু এই বিষয় নিয়ে একটি শব্দ ও প্রকাশ করিনি।সাধুরা তাদের নিজেদের সহযোগীদের এই নির্মম হত্যা মেনে নিতে না পেরে বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ করছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই ঘটনায় কোনও সাম্প্রদায়িক রং খুঁজতে বারণ করেছেন। তার পরেও আমি জানি না কিভাবে কংগ্রেস সভানেত্রী আমাদেরকে সাম্প্রদায়িক বললেন! আসলে সাম্প্রদায়িক বলতে ওনারা কি বলতে চান আমি সেটাই বুঝে উঠতে পারি না।

আর এই মুহূর্তে যেখানে দেশে অতিমারী চলছে দেশে যেখানে কুড়ি হাজারেরও বেশি মানুষ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত, যেখানে বহু মানুষের প্রাণ গেছে, সেখানে এই মুহূর্তে এই ধরনের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি দেশকে আরও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে।আর যেখানে সারা বিশ্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে করোনা মোকাবিলার জন্য এক নম্বর প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মেনে নিচ্ছেন সেখানে শুধুমাত্র রাজনীতি করার জন্য সেই পুরনো সাম্প্রদায়িক তাস আবার খেলছে কংগ্রেস।

এক মাস অতিক্রান্ত দেশে লকডাউন চলছে। একটা দিন দেশ বন্ধ থাকলে যেখানে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি সেখানে শুধু ভারতীয় মানুষদের কথা ভেবে প্রধানমন্ত্রী এতগুলো দিন লকডাউন করে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সেখানে তিনি কোনও ধর্ম দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? উজ্জ্বলা যোজনা আয়ুষ্মান ভারত থেকে শুরু করে এই মুহূর্তে যেভাবে দেশের গরিব মানুষদের সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ সাহায্য করা হচ্ছে, সেখানে কি কোন ধর্মের রং দেখা হচ্ছে? সুতরাং আমাদের বিরুদ্ধে এই সাম্প্রদায়িক শব্দটা ব্যবহার করাই এই মুহূর্তে যথেষ্ট অপ্রাসঙ্গিক এবং সর্বৈব মিথ্যা ও অনুচিত বলে আমি মনে করছি।

Related Articles

Back to top button
Close