fbpx
দেশহেডলাইন

পাইলটকে চাপে ফেলতে আস্থাভোটের রাস্তায় গেহলট

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: মরুরাজ্যে রাজনৈতিক ডামাডোলের শেষ নেই। নাটকের পর নাটক! বিজেপি না চাইলেও এবার পাইলটকে চাপে ফেলতে আত্মবিশ্বাসী অশোক গেহলট স্বেচ্ছায় আস্থাভোট করানোর তোড়জোড় শুরু করেছেন। অন্যদিকে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অমিত শাহর মন্ত্রক। অডিও টেপ কাণ্ডে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহেই রাজস্থান বিধানসভায় অধিবেশন ডাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করবেন। কংগ্রেসের দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের মতো বিধায়ক এখন তাঁদের হাতে আছে। আস্থাভোটের দিন দলের সব বিধায়ককে বিধানসভায় হাজির থেকে সরকারের পক্ষে ভোট দেওয়ার হুইপ জারি করবে কংগ্রেস। পাইলট অনুগামীরা যদি সেদিন বিধানসভায় হাজির থেকে গেহলট সরকারকে ভোট না দেন, তাহলে সংবিধানের দশম তপশিলের সেকশন ২(১)(বি) অনুযায়ী, তাঁরা দলত্যাগ বিরোধী আইনে পড়বেন। সেক্ষেত্রে স্পিকার সহজেই তাঁদের বিধায়কপদ খারিজ করে দিতে পারবেন। যদিও স্পিকারের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যেতে পারেন বিধায়করা। কিন্তু তখন স্পিকারের হাতে তাঁদের বিধায়কপদ বাতিলের জোরাল যুক্তি থাকবে।

মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে না গিয়ে দলবিরোধী কাজ করেছেন বিদ্রোহীরা। কিন্তু দলেরই একাংশের মত, এই যুক্তি ততটা জোরাল নয়। পাইলটরা এবারে আদালতে স্বস্তি পেয়ে যেতে পারে। তাই আগেভাগে প্ল্যান বি রেডি রাখছে দল। শোনা যাচ্ছে, আগামী বুধ- বৃহস্পতিবারের মধ্যে এই অধিবেশন ডাকা হতে পারে। উল্লেখ্য, শনিবারই মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট  রাজ্যপাল কলরাজ মিশ্রর সঙ্গে দেখা করেছেন। ভারতীয় ট্রাইবাল পার্টির দুই বিধায়ক পুনরায় সরকারকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করার পরই রাজ্যপালের কাছে যান তিনি। প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক হয় দু’জনের। সূত্রের খবর, গেহলট রাজ্যপালের কাছে দাবি করে এসেছেন সরকার বাঁচানোর উপযুক্ত সংখ্যা তাঁর কাছে আছে। কংগ্রেসের দাবি, তাঁদের হাতে এখনও ১০২ জনের বেশি বিধায়ক আছেন।

রবিবার গেহলট সরকারকে সমর্থন জানিয়েছেন বিটিপি দলের দুই বিধায়ক। তবে, বিদ্রোহী কংগ্রেস বিধায়করা এখনও জয়পুরে ফেরেননি। তাঁরা পাইলটের নেতৃত্বে হরিয়ানার মানেসরে একটি পাঁচতারা হোটেলে রয়েছেন। কংগ্রেস তাদের বিধায়কদের জয়পুরের একটি হোটেলে সরিয়ে রেখেছে। রাজ্যে বিধায়ক কেনাবেচার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াতের বিরুদ্ধে। রবিবার অভিযুক্ত এক কংগ্রেস নেতার বক্তব্য নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তাঁর দাবিতে উঠে এসেছে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি নেত্রী বসুন্ধরা রাজের নাম। তিনি জানিয়েছেন, ‘‌ধৃত বিজেপি-‌ঘনিষ্ঠ অভিযুক্ত ব্যবসায়ী সঞ্জয় জৈন ৮ মাস আগে আমাকে বসুন্ধরা রাজের সঙ্গে দেখা করতে অনুরোধ করেছিলেন।’‌ বোঝা যাচ্ছে, বিজেপি-‌ঘনিষ্ঠ ওই ব্যবসায়ী সরকার ফেলার চেষ্টা শুরু করেছেন অনেক দিন আগেই।

আরও পড়ুন: জাপানের তানেগাশিমা কেন্দ্র থেকে মহাকাশের পথে আরবের মহাকাশ যান ‘আশা’

এদিন কংগ্রেস মুখপাত্র অজয় মাকেন সাংবাদিকদের সামনে দাবি করেছেন, ‘‌অডিও টেপে যাঁর কণ্ঠস্বর শোনা গিয়েছে, তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শেখাওয়াত। যদি তিনি এই দাবি মিথ্যা প্রমাণ করতে চান, তাহলে ‘‌ভয়েস স্যাম্পেল’‌ দিতে রাজি হচ্ছেন না কেন?‌’‌ অডিও টেপের তদন্তে নেমে অভিযুক্ত কংগ্রেস বিধায়কদের ‘‌ভয়েস স্যাম্পেল’‌ সংগ্রহ করতে গিয়ে হরিয়ানা পুলিশের কাছে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে রাজস্থান পুলিশ। পরে অনুমতি মিললেও দেখা মেলেনি বিধায়কদের। যা নিয়ে জলঘোলা হয়েছে। তারপরই রাজ্য সরকারের কাছে অডিও টেপ ‌কাণ্ডে বিস্তারিত তথ্য ও ঘটনাক্রম জানতে চেয়েছে অমিত শাহর মন্ত্রক।

এদিন প্রিয়াঙ্কা-‌ঘনিষ্ঠ এক কংগ্রেস নেতা জানিয়েছেন, গত এক বছর ধরে শচীন পাইলট দাবি জানিয়ে আসছিলেন, তাঁকে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী করা হোক। অন্তত কবে করা হবে, সেটা ঘোষণা করুক দল। আশ্বাস না পেলে রাহুল অথবা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, কারও সঙ্গেই তিনি দেখা করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন। বিষয়টিকে একপ্রকার ‘‌ব্ল্যাকমেল’‌ বলে ধরে নিয়েই কড়া অবস্থানের দিকে যাচ্ছিল কংগ্রেস।

Related Articles

Back to top button
Close