fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনে বন্ধ নতুন সেতুর নির্মাণকাজ, সমস্যায় দুই জেলার মানুষ

অভিষেক আচার্য, কল্যাণী: রাজ্য সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শুরু হয় নতুন ঈশ্বরগুপ্ত সেতু গড়ার কাজ। লকডাউনের জেরে এখন তা বন্ধ। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পিছিয়ে গেল সেই কাজ। ফলে ধাক্কা খাচ্ছে বাণিজ্যে, সমস্যায় পড়ছেন দুই জেলার অসংখ্য সাধারণ মানুষও। পুরনো সেতুর স্বাস্থ্যোদ্ধার যে আর সম্ভব নয়, তা সরকারি ভাব ঘোষণা হয়েছে কয়েক বছর আগেই। রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছিল, ঈশ্বরগুপ্ত সেতুর পাশে একটি ছয় লেনের আধুনিক সেতু তৈরি করা হবে। খুব দ্রুত সেতু তৈরির কাজ শুরু হবে। কিন্তু যতদিন নতুন সেতু না-হচ্ছে, ততদিন পুরনো সেতুই ভরসা। ঘোষণা অনুযায়ী, কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে জোরকদমে চলতে থাকে সেতু গড়ার কাজ। কিন্তু লকডাউনের জেরে থমকে গেল সব। কবে হবে নতুন সেতু? উত্তর জানা নেই কারোর।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে সেতুর স্তম্ভে ফাটল দেখা দেয়। তারপর থেকে বারবার বন্ধ রাখতে হয়েছে যান চলাচল। ফাটল সরানোর পর ফের ফাটল ধরা পড়ে। তার কয়েকদিন আগেই ওই সেতু দিয়ে ভারী যান চলাচল শুরু হয়েছিল। বারবার সেতু বন্ধের জন্য দু’পারের বাণিজ্য তো ধাক্কা খাচ্ছেই, সমস্যায় পড়ছেন দুই জেলার অসংখ্য স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষও।

আরও পড়ুন: ছাত্রীকে কটূক্তি প্রৌঢ়ের, প্রতিবাদ করায় মাথা ফাটলো মায়ের

স্থানীয়দের অভিযোগ, হুগলি থেকে বহু রোগী কল্যাণীর দু’টি হাসপাতালে প্রতিদিন চিকিৎসা করাতে আসেন। তাঁদেরও এখন ঘুরপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। হুগলি এবং বর্ধমান থেকে আনাজ আসে কল্যাণী এবং কাঁচরাপাড়া এলাকায়। ব্যারাকপুর এবং কল্যাণী শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলির কাঁচামালও আসে এই সেতু দিয়েই। পণ্যবাহী লরি চলাচল বন্ধ হওয়ায় স্থানীয় বাজারে তার প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সেতু চালু না-থাকায় গঙ্গা পারাপারের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে নৌকার ব্যবস্থা অবশ্য আছে। কিন্তু সেই ব্যবস্থা তেমন পোক্ত নয় বলে যাত্রীদের অভিযোগ। কারণ, সেতু চালু থাকলে নদীপথ তেমন ব্যবহার হয় না।

ঈশ্বরগুপ্ত সেতু অকেজো হয়ে পড়ায় জেলায় সড়কপথে পণ্য পরিবহণে বড় ধাক্কা এসেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঈশ্বর গুপ্ত সেতুটির উদ্বোধন হয় ১৯৮৯ সালে। গার্ডার বসে যাওয়ায় ২০১৬-র ডিসেম্বরে এই সেতুতে কিছুদিন যান চলাচল বন্ধ ছিল। ২০১৭-র এপ্রিল-মে মাসেও একই অংশে মেরামতির জন্য ফের কিছু দিন বন্ধ রাখা হয়েছিল যান চলাচল। এখন ভারী যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। তা থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের সন্দেহ, বড় ধরনের সমস্যায় রয়েছে সেতুটিতে। এই সেতু দিয়ে ২০ টনের বেশি ভারী যান চলাচল করা যাবে না বলে পূর্ত দপ্তরের নোটিসও লাগানো রয়েছে। নতুন সেতুর কাজ শুরু হওয়া দেখে অনেকটাই খুশি হয়েছিলেন স্থানীয় থেকে ব্যবসায়ীরা। কিন্তু মহামারীর প্রকোপে বন্ধ সেই কাজ ও। যদিও এই বিষয়ে প্রশাসনের কেউ মুখ খুলতে চাননি।

কল্যাণী মহকুমা শাসক ধীমান বাড়ৈ বলেন, কঠিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিষয়েই কিছু বলতে পারবো না। চুপ প্রশাসন, বন্ধ সেতুর কাজ। আর বিপাকে আমজনতা। কবে পূরণ হবে নতুন সেতু দেখার স্বপ্ন? আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর অধরাই থেকে গেল।

Related Articles

Back to top button
Close