fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

খোলা বাজারে কম দামী সামগ্রী চড়া দামে বিক্রির জন্য পুলিশের হাতে আটক ব্যবসায়ী

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান : খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রীর উদ্দেশ্যে গ্রাহদের কাছ থেকে কমদামে রেশনের খাদ্য সামগ্রী কিনছিল এক ব্যবসায়ী।তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন সচেতন রেশন গ্রাহকরা । বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড় থানার বৈকন্ঠপুরে ।ব্যবসায়ী রকি শেখের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন সচেতন রেশন গ্রাহকরা ।

করোনা মহামারি কালে গরিব মানুষদের আগামী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত রেশনে বিনামূল্যে খাদ্য সামগ্রী দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে
রাজ্য সরকার । ১ এপ্রিল থেকে চার শ্রেণির রেশন কার্ড প্রাপকদের বিনামূল্যে খাদ্য সামগ্রী বন্টন শুরু হয়েছে ।বিনা মূল্যে রেশনের চাল ,গম আটা পাওয়া নিয়ে ইতিপূর্বে নানা অভিযোগ তুলে স্বোচ্চারও হয়েছিলেন গ্রাহকদের একাংশ । এরপর সময় গড়ানোর সাথে সাথে একাংশ গ্রাহক যেমন ভোলবদলান তেমনই সক্রিয় হয় অসাধু ব্যবসায়ীরা ।তারা গরিব মানুষজনকে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে রেশনের খাদ্য সামগ্রী কম দামে কিনে নেওয়া শুরু করে ।সেইসব খাদ্য সামগ্রী ওই ব্যবসায়ীরাই চড়া দামে বিক্রী করে খোলা বাজারে ।বিষয়টি বৈকন্ঠপুরের কিছু সচেতন গ্রাহকের নজরে আসতেই তারা ওই অসাধু ব্যবাসায়ীদের হাতেনাতে ধরার তৎপরতা শুরু করে । বৃহস্পতিবায় তাদের হাতেই রকি শেখ নামে ওই অসাধু ব্যবসায়ী ধরা পড়ে যায় ।

পুলিশ ও বৈকন্ঠপুর গোঁসাই পাড়ার বাসিন্দাদের কথায় জানা গিয়েছে ,অসাধু বাবসায়ী রকি শেখের বাড়ি গলসি থানার কুলগড়িয়া চটি এলাকায় । অভিযোগ এদিন বেলায় সে এলাকার রেশন দোকানের সামেনে হাজির হয় ।রেশন দোকান থেকে যেসব গ্রাহকরা বিনা মূল্যে যে চাল ,গম, আটা নিচ্ছিলেন তাদের কাছে পৌছে যায় রকি । অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে সে গ্রাহকদের কাছ থেকে রেশনের বিনা মূল্যের খাদ্য সামগ্রী কিনতে শুরু করে । তখনই গোটা বিষয়টি সামনে আসে ।

এলাকার বাসিন্দা প্রভাত মাঝি বলেন , ‘বিনা মূলের রেশনের খদ্য সামগ্রী বিক্রির ঘটনা প্রত্যক্ষ করার পরেই সচেতন গ্রাহকরা প্রতিবাদ করা শুরু করেদেন । তা নিয়ে হৈচৈ শুরু হয়ে যায় । প্রভাত জানান, রেশনের খাদ্য সামগ্রী কম দামে কিনে নিয়ে খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রী করার কথা ব্যবসায়ী রকি কবুল করে । এর পরেই তাকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয় । পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে তাকে তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে ।রকি বেশ কয়েক বস্তা রেশনের যে খাদ্য সামগ্রী সে কিনেছিল তাও পুলিশ উদ্ধার করেছে বলে প্রভাত জানিয়েছেন ।’ এলাকার অপর কয়েজন বাসিন্দা অভিযোগে বলেন, রকি সহ অন্য কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গ্রামে গ্রামে গিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিনা মূল্যের রেশনের খাদ্য সামগ্রী কিনে নিয়ে যায় ।এমন অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি চক্র তৈরি হয়েছে। বৈকন্ঠপুরের বাসিন্দাদের অভিযোগ কিছু গ্রাহক ও অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারের উদ্দেশ্যটাই পণ্ড হতে বসেছে ।

পুলিশ জানিয়েছে ,ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে । ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ।জেলা খাদ্য দপ্তরের এক কর্তা বলেন , রেশন দোকান থেকে বিনা মূল্যে খাদ্য সামগ্রী তুলে যিনি বিক্রী করছেন তিনি বেআইনি কাজ করছেন । আর যিনি কিনছেন তিনিও বেআইনি কাজ করছেন । রেশনের বিনা মূল্যের খাদ্য সামগ্রী অনৈতিক ভাবে বেচা কেনার ঘটনা পূর্ব বর্ধমান জেলায় এই প্রথম প্রকাশ্যে আসলো এমনটা নয় । রেশনের খাদ্য সামগ্রী খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রির জন্য গোডাউনে মজুত করার অভিযোগে গত মঙ্গলবার ভাতার থানার পুলিশ এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। ধৃত ওই ব্যবসায়ীর নাম মধুসূদন কোনার ।
ভাতার থানার বাইশ বিঘার বিবেকানন্দ পল্লীতে তিনি থাকেন ।সেখানে দোকান সংলগ্ন গোডাউনে মধুসূদন রেশনের খাদ্য সামগ্রী মজুত করেছিলেন বলে পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায় ।মঙ্গলবার দুপুরে সেই গোডাউনে হানা দেয় ভাতার থানার পুলিশ । সেখান থেকে চাল , গম ও আটা মিলিয়ে ২৩ বস্তা রেশনের খাদ্য সামগ্রী উদ্ধার হয় ।তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রীর উদ্দেশ্যেই ব্যবসায়ী মধুসূদন কোনার তাঁর গোডাউনে রেশনের খাদ্য সামগ্রী মজুত করেছিলেন । সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ বুধবার ধৃতকে পেশ করে বর্ধমান আদালতে । ভারপ্রাপ্ত সিজেএম ধৃতকে বিচারবিভাগীয় হেপাজতে পাঠিয়ে আগামী সোমবার ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন ।এই ঘটনার পর ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতে একই ঘটনা প্রকাশ্যে আনলেন বৈকন্ঠপুরের বাসিন্দারা ।

Related Articles

Back to top button
Close