fbpx
কলকাতাহেডলাইন

কলকাতায় পুলিশের সঙ্গে কথা বলেই বাড়ানো হয়েছে কন্টেনমেনট জোন: ফিরহাদ

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: ‘পুলিশের সঙ্গে কথা বলেই কনটেনমেন্ট জোন বাড়ানো হয়েছে।’ তোপ দাগলেন পুর মন্ত্রী তথা পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। মঙ্গলবার কনটেইনমেন্ট জোন বাড়ানো নিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানালেন ফিরাদ। এর আগে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেছিলেন কন্টাইন্মেন্ট জোন বাড়িয়েও কাজ হচ্ছে না।তার পরেই ফিরহাদ এমন মন্তব্য করেন।

এই প্রসঙ্গে ফিরহাদ হকিম বলেন, ‘ আমরা অনেক জায়গায় দেখছি কনটেইনমেন্ট জোন লোকেরা মানছেন না। বেরিয়ে যাচ্ছেন ।সেটা নিয়ে পুলিশের সাহায্য চাওয়া হয়েছে । পুলিশের সঙ্গে কথা বলেই কনটেনমেন্ট বাড়ানো হয়েছে।’

কলকাতায় কনটেনমেন্ট জোন বেড়ে হল ৩৩

রাজ্যে করোনা সংক্রমণ ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর রাজ্যের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর নিরিখে শীর্ষে রয়েছে কলকাতা। তাই কলকাতায় বাড়ানো হল কন্টেনমেন্ট জোনের সংখ্যা। প্রথমে এই সংখ্যা ১৮ টি হলেও পরে তা বাড়িয়ে ৩৩ করা হয়েছে। এদিকে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে রাজ্যের কন্টেনমেন্ট জোনে কড়া ভাবে পুনরায় লক ডাউন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা থেকে চলবে লক ডাউন।

কলকাতা পুরসভার তরফে জানানো ওই ৩৩টি এলাকা হল:
১১, এলগীন রোড
২, জাস্টিস মহাদেব চন্দ্র রোড
শরৎ বোস রোড
চক্রবেরিয়া রোড
জহরলাল দত্ত রোড
উল্টোডাঙা মেইন রোড
অধর চন্দ্র দাস রোড
অজির চৌধুরী রোড
আরিফ রোড
সুরেন সরকার রোড
চাউল পট্টি রোড
খোদাগঞ্জ মেইনরোড
রামকৃষ্ণ নস্কর রোড
বেলভেডিয়ার রোড
রাজা সন্তোষ রায় রোড
৩, আলিপুর রোড (সত্যম টাওয়ার)
জাজেস কোর্ট রোড
বাগমারি রোড
মানিকতলা মেইন রোড
পি১২ সিঅাইটি
বিধান নগর রোড
হাডকো হাউসিং
২, বিজয় গড়
৪, বিজয় গড়
নারকেল বাগান
বাপুজি নগর
এন ব্লক নিউ আলিপুর
ডি ব্লক নিউ আলিপুর
জি ব্লক নিউ আলিপুর
ডঃ জি এস বোস রোড
সুইনহো লেন
পূর্বালক মুকুন্দপুর
সার্ভে পার্ক
সংক্রমিত এলাকাগুলোকে মূলত কনটেনমেন্ট জোনের আওতায় ফেলা হয়েছে বলে জানান কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। যে সমস্ত এলাকায় সাধারণ মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না সে সমস্ত এলাকাতেই মূলত কনটেনমেন্ট জোন করা হয়েছে। এদিকে এই সমস্ত এলাকাগুলিতে কতদিন লক ডাউন চলবে তা অবশ্য নবান্নের সিদ্ধান্তের উপরেই ছেড়ে দিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ।

হট স্পটে লক ডাউন বাড়াতে নবান্নে প্রস্তাব পুরসভার

এদিকে কলকাতা পুরসভার ১৮ টি হটস্পট এলাকায় কড়া লক ডাউন চায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই মর্মে ইতিমধ্যেই নবান্নে প্রস্তাব দিয়েছে পুরসভা। এই এলাকাগুলি থেকে সংক্রমণ যাতে না ছড়িয়ে পরে তার জন্যই লকডাউনের পক্ষে সওয়াল করেছে পুরকর্তৃপক্ষ। আবেদন জানিয়েছেন, পুরমন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম।

এদিকে, পুরসভা সূত্রে খবর আইশলেশন ইউনিট হিসেবে শুধুমাত্র কলকাতাতেই চিহ্নিত হয়েছে ১৮৭২ টি এলাকা। এই সমস্ত এলাকাগুলিতে করোনা রোগী পাওয়া গিয়েছে, কিন্তু সংক্রমণ হয়নি। তাই আইসোলেশন ইউনিট এলাকাগুলি খোলাই থাকবে। তবে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে বলে জানা গিয়েছে। সংক্রমনের দিক থেকে বস্তি গুলির তুলনায় অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছে আবাসন গুলি। এর কারণ হিসেবে পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,যেহেতু বস্তি এলাকায় পুরকর্মী ও আশা কর্মীরা গিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারে এবং কারোর জ্বর হয়েছে কিনা সে বিষয়ে খোঁজখবর নিতে পারে তাই সেখানে সংক্রমণের হার কম। অন্যদিকে আবাসন গুলিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ঢোকার অনুমতি মেলে না অনেক ক্ষেত্রেই তাই সেসব জায়গায় কেউ সংক্রমিত হলেও সেই খবর প্রকাশ্যে আসতে পারে না ফলে নিঃশব্দে ছড়িয়ে পড়ে সংক্রমন।এবার এই সমস্ত এলাকা গুলিকেই সম্পূর্ণ সিল করতে চাইছে কলকাতা পুরসভা। যদিও এই সমস্ত এলাকাগুলিতে সম্পূর্ণ লকডাউন করার বিষয়টি নবান্নের দিকেই ঠেলে দিয়েছে পুরকর্তৃপক্ষ।এদিন এবিষয়ে ফিরহাদ হাকিম জানান, ‘সংক্রমনের নিরিখে প্রথম সারিতে থাকায় এলাকাগুলিতে কিভাবে নজরদারি চালানো হবে সে বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। তবে এই বিষয়টি ঘোষণা হবে নবান্ন থেকে। যেহেতু পুলিশ প্রশাসন রাজ্য সরকারের অধীনে, তাই রাজ্য সরকার এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে।’

Related Articles

Back to top button
Close