fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

‘উন্নয়নে বাধা রাজনীতি’, রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন, জিতেন্দ্র তিওয়ারি

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: এবার বেসুরো আসানসোলের প্রাক্তন মেয়র তথা বর্তমান পুরপ্রশাসক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। রাজনৈতিক কারণে আসানসোল পুরসভাকে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে একটি চিঠি লিখেছেন তিনি। বিদ্রোহ, অসন্তোষ, ক্ষোভের আগুন যেন ক্রমশই সংক্রামিত হতে শুরু করেছে।

তিনি পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে চিঠি লিখে বলেছেন, কেন্দ্রের স্মার্ট সিটি যোজনার আওতায় আসানসোলের ২ হাজার কোটি টাকা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্রেফ রাজনৈতিক কারণে ওই টাকা নিতে দেওয়া হয়নি। বলা হয়েছিল, ওই টাকা রাজ্য দেবে। কিন্তু রাজ্য তা দেয়নি। তার ফলে বঞ্চনা হয়েছে আসানসোলের সঙ্গে। আসানসোল, কুলটি, জামুরিয়া, রাণিগঞ্জের বহু রাস্তা খারাপ। কিন্তু আপনার সরকার সেগুলির জন্য কোনও প্রকল্পই অনুমোদন করেনি। দুর্গাপুর-আসানসোল চত্বরে তৃণমূলের দাপুটে নেতাদের মধ্যে অন্যতম হলেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। সন্দেহ নেই, তাঁর এই চিঠিকে অনেকে বিদ্রোহের বার্তা বলেই মনে করছেন।

রাজ্যে বিরোধী দল পুরসভা ও পঞ্চায়েতে সরকারি বঞ্চনার অভিযোগ নতুন নয়। বার বার এই অভিযোগ তুলেছেন বাম পরিচালিত শিলিগুড়ি পুরনিগমের চেয়ারম্যান অশোক ভট্টাচার্য। এবার অবিকল তাঁর সুরই শোনা গেল আসানসোল পুরনিগমের মুখ্য প্রশাসকের গলায়। রাজ্য সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দ থেকে আসানসোলবাসী বঞ্চিত হয়েছেন বলে সরব হলেন তিনি।

পুরমন্ত্রীকে চিঠির পাশাপাশি সোমবার রানিগঞ্জ টিডিবি কলেজ এবং রানিগঞ্জ গার্লস কলেজের গভর্নিং বডি থেকে ইস্তফার চিঠি পাঠিয়েছেন উচ্চ শিক্ষা দফতরকে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ‘ব্যক্তিগত ব্যস্ততা’। চিঠির পর জিতেন্দ্রর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ”আমি এর আগে এই রকম ৭টি চিঠি দিয়েছি। সেগুলি সামনে আসেনি। আমি আমার মন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি। সেই চিঠি কী ভাবে সংবাদ মাধ্যমে গেল, তা খতিয়ে দেখতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, ”কেন্দ্র দিক বা রাজ্য, সেটা বড় কথা নয়। আমি চাই আসানসোলের উন্নয়ন।” আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় দীর্ঘদিন ধরে প্রায় একই অভিযোগ করে আসছিলেন। জিতেন্দ্রর চিঠির পরে তিনি বলেন, ”আমি অনেক দিন ধরেই বলে আসছি, কেন্দ্রের টাকা না নেওয়ায় আসানসোলের উন্নয়ন হচ্ছে না। এ বার সেই কথাই বললেন জিতেন্দ্র।”

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে স্থাপিত হবে হিন্দুরাজ, দাবি প্রজ্ঞা ঠাকুরের

লোকসভা ভোটে এই জিতেন্দ্রর উপরেই বাবুল সুপ্রিয়কে পরাস্ত করার দায় বর্তেছিল। সেখানে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন মুনমুন সেন। কিন্তু পরোক্ষে লড়েছিলেন জিতেন্দ্রই। তবে বাবুলকে পরাস্ত করতে পারেননি। বরং দেখা গিয়েছিল, আসানসোল-দুর্গাপুর এলাকায় মজবুত জনভিত্তি গড়ে তুলতে পেরেছে বিজেপি। এদিন জিতেন্দ্রর চিঠি তৃণমূলকে বেশ অস্বস্তির মধ্যে ফেলেছে বলে মনে করছেন অনেকে। এ ব্যাপারে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সরকারের নীতি নিয়ে উনি যে প্রশ্ন তুলছেন তা ঠিক নয়। জিতেন্দ্র তিওয়ারি বিধায়ক। উনি বিধানসভার সদস্য। সরকারের নীতি প্রনয়ণের উনিও শরিক। এ ভাবে চিঠি লিখে বলে তা বাইরে প্রকাশ করে দিয়ে উনি ঠিক করেননি। তাত্‍পর্যপূর্ণ হল, জিতেন্দ্র পুরমন্ত্রীকে ওই চিঠি পাঠানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তা টুইট করেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সহ পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য। তা থেকেই অনেকের এও সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে, তা হলে কি গেরুয়া পথে হাঁটা লাগাচ্ছেন জিতেন্দ্র।

বিধানসভা ভোটের মুখে জিতেন্দ্রর এমন বিস্ফোরক চিঠি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে চিঠিতে ‘রাজনৈতিক কারণে টাকা না নেওয়া’র অভিযোগ করায় জল্পনা আরও জোরদার। আগামী দিনে তাঁর অবস্থান কী হয়, তার দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

Related Articles

Back to top button
Close