fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত ৬ পরিয়ারী শ্রমিক সহ ৭ জন

মিলন পণ্ডা (পূর্ব মেদিনীপুর):  পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দিনের পর দিন করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। জেলার নতুন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হলেন সাতজন। তাদের মধ্যে একজন বৃদ্ধা রয়েছে। বাকি ছয়জন পরিয়ারী শ্রমিক। করোনা ভাইরাস যেন জেলাবাসীকে গ্রাস করে তুলেছে। জেলাবাসী আতঙ্কে মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

কাঁথি শহরে এক বৃদ্ধা করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হলেন। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরেই কাঁথি শহরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

শুক্রবার সকালে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৃদ্ধা ভর্তি থাকা কাঁথির ওই বেসরকারি নাসিংহোম সিল করে দেওয়া হয়। নার্সিংহোমের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হয়েছে। করোনা আক্রান্ত ওই বৃদ্ধা কলকাতা একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।এদিন সকালে আক্রান্ত বৃদ্ধার পরিবারের তিন সদস্যকে লালারস সংগ্রহ করে স্বাস্থ্যদফতর।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাঁথি শহরে করতুলি বাসিন্দা ওই বৃদ্ধা গত ২০ দিন আগে কিডনি সমস্যা জনিত সমস্যা নিয়ে কাঁথির একটি বেসরকারি নাসিংহোমে ভর্তি হন। বৃদ্ধার অবস্থার অবনতি হলে কাঁথির ওই বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে স্থানান্তরিত করেন। গত ২৬ মে ওই বৃদ্ধাকে পরিবারের লোকেরা কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করে। বৃদ্ধার চিকিৎসার পাশাপাশি লালারস সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার সেই রিপোর্ট স্বাস্থ্য দফতর জানিয়ে দেয় বৃদ্ধা করোনা ভাইরাস আক্রান্ত। এদিন সন্ধ্যায় রাজ্য স্বাস্থ্যদফতর থেকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দফতরকে বিষয়টি জানিয়ে দেয়।

এই ঘটনা জানতে পেরে রাতেই কাঁথি থানার পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা বৃদ্ধার বাড়িতে ছুটে যান। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুব্রত রায় বলেন পরিবারে সদস্য ছাড়াও নার্সিংহোমে সমস্ত চিকিৎসক থেকে কর্মচারীদের কোরায়ন্টাইন করে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের লালারসে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।আপতত কাঁথির ওই নাসিংহোম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

অপরদিকে মহিষাদল দুই পরিযায়ী শ্রমিক করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হলেন। দুই পরিযায়ী শনিবার মহারাষ্ট্র থেকে মহিষাদলে বাড়ি ফিরেছিল। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লালারস পরীক্ষা করেন মহারাষ্ট্র থেকে ফিরে আসা দুই পরিযায়ী শ্রমিক। এরপর তারা বাড়ি না গিয়ে স্কুলে কোয়ারন্টাইন সেন্টারের রাখা হয়েছে।

অপরদিকে কোলাঘাটে তিনজন পরিযায়ী শ্রমিকের করোনা ভাইরাস পজিটিভ পাওয়া গেল। গত কয়েকদিন আগে ভিন্ন রাজ্য থেকে তিন পরিযায়ী শ্রমিক কোলাঘাটে বাড়ি ফিরে তিন শ্রমিক।বাড়ি ফেরার আগে স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরীক্ষা করান। স্বাস্থ্যদফতর নির্দেশ দেন বাড়ি না ফিরে স্কুলের একটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে থাকতে। সেই নির্দেশ মতো স্থানীয় একটি স্কুলে ছিলেন তিন পরিয়ারী শ্রমিক। শুক্রবার সকালে তিনজন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত বলে জানিয়ে দেয় স্বাস্থ্যদফতর।

একই ভাবে নন্দকুমারের এক পরিয়ারী শ্রমিক করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হলেন। গত রবিবার মহারাষ্ট্র থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন নন্দকুমারের বাসিন্দা ওই পরিয়ারী শ্রমিক।এরপর স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের লালারস পরীক্ষা করান। রিপোর্টে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর।আক্রান্ত ছয়জন পরিয়ারী শ্রমিককে চিকিৎসার জন্য পাঁশকুড়া হাসপাতালের নিয়ে যাওয়ার হয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিক নিতাই চন্দ্র মন্ডল বলেন, আক্রান্ত ছয়জন সবাই পরিযায়ী শ্রমিক।লালারস সংগ্রহ পর স্থানীয় একটি স্কুলে কোয়ারেন্টাইনে করে রাখা হয়েছিল। রির্পোটের পর ছয়জনকে পাঁশকুড়া বড়মা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত পূর্ব মেদিনীপুর জেলার করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে হল  ৯২ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪০ জন রোগি।

 

Related Articles

Back to top button
Close