fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

করোনা কাটায় প্রিয়জনের অস্থি নিতে অনিহা, বিপাকে পুরসভা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: করোনা আতঙ্ক শুধু মানুষকে মৃত্যু ভয় দেখাচ্ছে তা নয়। প্রিয়জনের অস্থির সংগ্রহে কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনা। সরকারি সদ ইচ্ছা থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠা করোনা আতঙ্ক প্রিয়জনের মৃতদেহের অস্থি বিসর্জন অনিহা প্রকাশ করছে। এর ফলে সমস্যায় পড়েছে কলকাতা পুরসভা-সহ অন্য পুরসভাগুলি।

জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই করোনা মৃতদের এই অস্থিতে ভরে গিয়েছে জায়গা। ফলে এত সংখ্যক মৃতদেহের অস্থি কলস সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব হচ্ছে পুরপ্রশাসনের পক্ষ থেকে। সেই কারণেই ঠিক হয়, হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ আসার আগেই পরিবারের লোকেদের থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হবে। যাঁরা চাইবেন, তাঁদের আগে থেকেই হাসপাতালে বলে রাখতে হবে। সেই অনুযায়ী চিতাভস্ম সংরক্ষণ করবে পুরসভা। নির্দিষ্ট সময়ে ডেথ সার্টিফিকেট প্রাপ্তির সঙ্গে পরিবারের লোকেরা সেই কলস নিয়ে যেতে পারবেন।

উল্লেখ্য, করোনায় মারা গেলে সরকারি নীতি অনুযায়ী মৃতদেহ সৎকারের যে প্রক্রিয়া তা করার পর বাড়ির সদস্যদের হাতে ডেথ সার্টিফিকেট ও চিতাভস্ম তুলে দেওয়াই দস্তুর। এই নিয়ে প্রথম দিকে অনেক প্রশ্নও শুনতে হয়ে প্রশাসনকে। কিন্তু দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনেরও পরিবর্তন হয়েছে। অনেকে এই চিতাভস্ম নিতে এলেও বেশিরভাগ পরিবারের সদস্যরা যদিও তা নিতে আসছেন না।

আরও পড়ুন:ভার্চুয়াল এডুকেশন ইন্টার ফেস-এর সূচনা রাজ্যে, থাকছে কেরিয়ার কাউনসেলিংয়ের সুযোগ

কোথাও ইতস্ততবোধ, কোথাও আবার চরম আতঙ্ক, ফলে পরিবারের মৃত ব্যক্তির অস্থি কলস নিতেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না অনেক পরিবারই। আবেদনও তেমন জমাও পড়ছে না। অনেকে আবেদন করেও নিচ্ছেন না। তাই সেই অস্থি কলস সাতদিন পর ধাপায় ফেলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের অন্যতম সদস্য তথা স্বাস্থ্যবিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতীন ঘোষ বলেন, ‘পুরসভা পরিবারের সদস্যদের এই সুযোগ দিয়েছে। যাঁরা চিতাভস্ম নিতে চাইছেন, তাঁরা এসে নিয়ে যাচ্ছেন। যাঁরা চাইছেন না, সাতদিন দেখে তা আমরা ধাপায় ফেলে দিচ্ছি।’

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, আগুনে পুড়লে যে কোনও ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়া নিঃশেষিত হয়ে যায়। তার জীবিত থাকার কোনও প্রশ্নই থাকে না। তাছাড়া প্রশাসন সব রকম নিয়ম বিধি মেনেই মৃতদেহ পোড়ানোর ব্যবস্থা করেছে। তাই অস্থি কলস থেকে ভাইরাস ছড়ানোর কোনও আশঙ্কা থাকছে না। কিন্তু তারপরেও পরিবারের সদস্যরা খুব একটা ইচ্ছে প্রকাশ করছেন না।

 

Related Articles

Back to top button
Close