fbpx
অন্যান্যঅফবিটকলকাতাহেডলাইন

করোনা এফেক্ট, দই সন্দেশ খাচ্ছে চিড়িয়াখানার বাঘ- সিংহ

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: বাংলার দোর্দন্ডপ্রতাপ জমিদারদের সম্পর্কে একটা প্রবাদ চালু ছিল। প্রবাদটা হল ‘ বাঘে গরুতে একঘাটে জল খায়। ‘এবার বোধহয় প্রবাদটা পাল্টে দেওয়ার সময় এল। কারণ বাঘ সিংহেরা এখন দই, সন্দেশ খাচ্ছে। চমকে ওঠার কিছু নেই। আলিপুর চিড়িয়াখানার বাঘ সিংহরা এখন রোজ দই মিষ্টি খাচ্ছে।

কিন্তু রহস্যটা কি? হঠাৎ রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, আর পশুরাজ সন্ন্যাসী হয়ে গেল নাকি! ফেলুদাকে ডাকার দরকার নেই। রহস্য ভাঙলেন আলিপুর চিড়িয়াখানার অধিকর্তা আশিস সামন্ত।

আশিসবাবু জানালেন, ‘নিউ ইয়র্কের চিড়িয়াখানার এক বাঘিনী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর দেশের সমস্ত চিড়িয়াখানায় করোনা সতর্কতা জারি হয়েছে। আমরাও তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছি। রোজ চিড়িয়াখানার সমস্ত পশু-পাখির শরীরের তাপমাত্রা থেকে শুরু করে নানাধরণের শারীরিক পরীক্ষা করা হয়।

আটটি রয়্যাল বেঙ্গল, দুটি শিশুসহ চারটি সিংহ পরিবার, চারটি শিম্পাঞ্জি, দুটি জাগুয়ার, তিনটি লেপার্ডসহ সব জীবজন্তুর খাওয়া-দাওয়া, আচা- আচরণের উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছি। আগে কিপাররা কোনও পশু অসুস্থ হল কিনা, কোনও অস্বাভাবিক আচরণ করছে কিনা জানাতো। কিন্তু এখন পশু চিকিৎসকেরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন।’

প্রশ্ন হল এর সঙ্গে বাঘ সিংহের দই মিষ্টি খাওয়ার কি সম্পর্ক? চিড়িয়াখানার সূত্রে জানা গেল,  ‘পশুদের গায়ে পুরু লোম থাকে বলে থার্মাল স্ক্রিনিং করা যায় না। বাঘ সিংহের তাপমাত্রা মাপতে তাই থার্মোমিটারই ভরসা। লেজের নিচে থার্মোমিটার দিয়ে বাঘ সিংহের গায়ের তাপমাত্রা মাপা হয়। কিন্তু ওরা ডাক্তারবাবুদের একদম পছন্দ করে না।

তাই যাতে ওদের মেজাজ ভালো থাকে, কিপাররা আগে খাঁচায় ঢুকে শিস দিয়ে আদরের নামে ডাকেন। তারপর ওদের লালদই আর কড়াপাকের সন্দেশ খাওয়ানো হয়। মেজাজ খুশি হলে ডাক্তারবাবু ওদের লেজ তুলে মলদ্বারে থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা মাপেন।

করোনার জেরে কলকাতার নির্মল গঙ্গায় খেলে বেড়াচ্ছে ডলফিন, লাগোয়া ব্যারাকপুরে টহল দিচ্ছে ময়ূরের দল। জল্পনা চলছে এরপর সুকুমার রায়ের ‘ হাঁসজারু’ দর্শনও হয়ে যেতে পারে।

Related Articles

Back to top button
Close