fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ঐতিহাসিক নকশালবাড়ি করোনা আতঙ্কে কাঁপছে, ঘরের মানুষ ফেরায় ভয় গ্রাস করছে

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি : ঐতিহাসিক নকশালবাড়ি আন্দোলনের পীঠস্থান, কানু সান্যালের নকশালবাড়ি ভালো নেই। কৃষকের জমির অধিকার আন্দোলনে যে নকশালবাড়ি তামাম দুনিয়াকে কাঁপিয়েছিল আজ, সেই নকশালবাড়ি কাঁপছে করোনা আতঙ্কে।

 

পরপর তিন জন আক্রান্ত ব্যক্তি ধরা পড়ায় এখন গোটা নকশালবাড়ি করোনার গোষ্ঠী সংক্রমনের আতঙ্কে ভীত। আর এই ভয় ও আতঙ্কের জেরে শনিবার এক করোনা আক্রান্তের গ্রামে দুই পাড়ার মধ্যে মারপিট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। শুক্রবার নকশালবাড়ি ব্লকে নতুন করে দুজন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান মেলে। তাদেরই একজনের বাড়ি সহ কিছুটা এলাকা কন্টেইনমেন্ট জোন তৈরি করার পাশাপাশি মধ্য কটিয়া জোতেএকটি রাস্তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে পাশের গ্রামের মানুষ তাদের পানীয় জলের একমাত্র ভরসা যে টিউবওয়েল রয়েছে তা তারা ব্যবহার করতে পারবেন না, দোকান বাজারেও যেতে পারবেন না। এ নিয়েই বিক্ষোভ দেখান একদল মানুষ। তাকে ঘিরে উত্তেজনা দেখা দেয়। এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান অরুণ ঘোষ রাস্তা খুলে দেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

 

 

সকাল থেকেই মধ্য কোটিয়া জ্যোতি আক্রান্তের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে গোটা ঘটনা দেখেছেন সিপিএমের জেলা নেতা গৌতম ঘোষ। তিনি বলেন, ‘ নকশালবাড়ির মানুষ করোনা আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আগামী দিনে এ থেকেও বড় বিবাদ বা সংঘর্ষ ঘটতে পারে। কেননা চা বাগান ঘেরা নকশালবাড়ি মানুষকে বরাবরই অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। রুজি-রোজগারের টানে এখান থেকে বহু মানুষ ভিন রাজ্যে কাজ করতেন। আজ তাদোর ঘরে ফেরাটা গ্রামবাসীদের কাছে আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের মানুষের কাছে যেতেও সকলে ভয় পাচ্ছে। পরপর তিনজন করোনা আক্রান্ত হওয়ায় সকলে ধরেই নিচ্ছেন যারা বাইরে থেকে ঘরে ফিরছেন তারা সঙ্গে করোনা নিয়ে আসছেন। এর দায় রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের ‘

 

 

গৌতমবাবু মনে করেন, দেশে করণা সংক্রমণ দেখা দিতেই অপরিকল্পিতভাবে লকডাউন ঘোষণা করে গোটা দেশের সঙ্গে এই নকশালবাড়িকেও বিপদে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কেননা তড়িঘড়ি লকডাউন না ডেকে আগে বাইরে থাকা সব শ্রমিককে নিজের নিজের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করে লকডাউন ডাকা হলে আজ এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না। কেন্দ্র এবং রাজ্য ভুল সিদ্ধান্ত ও গড়িমসির জন্যই আজ নকশালবাড়ির শান্তিপ্রিয় মানুষের জীবনে চরম অনিশ্চয়তা নেমে এসেছে।

 

প্রথম করোনা আক্রান্ত অটল চা বাগানের এক প্রসূতি এর মধ্যে বাইরে কোথাও যাননি। করোনা আক্রান্ত সন্দেহজনক কারও সংস্পর্শেও আসেননি। তার কীভাবে করোনা সংক্রমণ হলো তা আজও বলতে পারিনি স্বাস্থ্য দফতর। এর মাঝেই শুক্রবার আরও দুজনের করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরা দুজনই অন্য রাজ্য থেকে এসেছিলেন। ভিন রাজ্যে কাজে যাওয়া আরও অনেক শ্রমিক ফিরবেন। এদিনও নকশালবাড়িতে হাতিঘিসায় ৩০ জন এসেছেন। ঘরের মানুষ ঘরে ফেরায় খুশির পরিবর্তে ভয় ছড়িয়ে পড়ছে নকশালবাড়ি গ্রামেগঞ্জে।

Related Articles

Back to top button
Close