fbpx
অন্যান্যঅফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনার থাবা বাড়ির পুজোতেও……

মোনালিসা পল: বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর দুটি বিখ্যাত রকম হল, বাড়ির পুজো আর বারোয়ারি পুজো । তথ্যানুযায়ী এই বারোয়ারি পুজো শুরু করেন বারো জন বন্ধু ১৭৯০ সালে গুপ্তিপাড়ায়, সেই থেকে একত্রিত হয়েই বারোয়ারি পুজোর ঐতিহ্যটি চালু হয়। কাশিমবাজারের রাজা হরিনাথ কলকাতায় প্রথম যে দুর্গা পুজোর প্রচলন করেন পরবর্তীকালে ব্রিটিশ আমল থেকে রাজরাজাদের বাড়ি, জমিদার বাড়ি থেকে সাধারণ মধ্যবিত্ত বাড়িতেও পুজো হয়ে আসছে।

আমার এলাকা উত্তর ২৪ পরগনার অন্তর্গত ছোট্ট মফস্বল নিউ ব্যারাকপুরে জনপ্রিয় বেশ কিছু বাড়িতে দুর্গাপুজো হয়। কিন্তু এই বছরটা সকলের কাছে এমনকি স্বয়ং মা দুর্গার কাছে সঠিক বোধগম্যের নয়। প্রতি বছর মহালয়ার দিন থেকে মাতৃপক্ষের সূচনা ঘটে আর ঠিক সাত দিন পরই পুজো শুরু হয়ে যায়, কিন্তু এবছর মা আসছেন সেই কার্তিক মাসে, মহালয়ার ঠিক একমাস পর। উপরন্তু, বর্তমানে সারা বিশ্ব ধুঁকছে করোনা নামক মহামারীতে। যার প্রভাব পড়েছে নানাক্ষেত্রে এমনকি বিভিন্ন পুজোতেও। সেক্ষেত্রে পুজোর ধরণ কতটা কী পরিবর্তন হবে তা দেখে নেওয়া যাক।

বাবু হরেনচন্দ্র সাহার বাড়ির ঠাকুরদালানে মায়ের কাঠামো।

নিউ ব্যারাকপুরে জোড়াপুকুর সংলগ্ন  বাবু হরেন্দ্রচন্দ্র সাহার বাড়িতে প্রবেশের সময় প্রথমেই চোখে পড়ে মূল ফটকের দুই পাশে মা দুর্গার ছবি।  এই বাড়ির বয়ঃজ্যেষ্ঠা পিসিদিদার কাছ থেকে জানা গেল, ওপার বাংলায় থাকতে তাঁর  ছোটো ভাইরা প্রথমে যে মায়ের আরাধনা শুরু করেন এপার বাংলায় এসে তা অটুট রয়েছে। বাড়ির বিশাল উঠোন জুড়ে  রয়েছে নাটমন্দির, সেখানেই একচালার ঠাকুর গড়া হবে। দশমীর দিন ঠাকুর বিসর্জনের পর মিষ্টিমুখ করা হবে।

আরও পড়ুন:ভারতে লঞ্চ হল iC browser-এর স্বদেশী বিকল্প, ৩০ মিনিটেই চার লক্ষ ডাউনলোড

বর্তমান  পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করায় পিসিদিদিমা বলেন, ‘এবার আত্মীয়স্বজন কতক আসবে বলতে পারি না। আমেরিকায় যে বোন- ভাই থাকে প্রতিবার আসলেও এবার কেউই আসবে না, আশেপাশের ভাই-বোন, প্রতিবেশীদের নিয়েই পুজো করব। প্রতিবছর এই চারটে দিন ঢাকের বাদ্যিতে বাড়ি ভরে ওঠে- এইবার কতটা কী হবে জানা নেই। জানি না, এই করোনা কবে যে যাবে!’

বিজয়কৃষ্ণ সাহার এই বছরের প্রতিমা। চলছে নির্মাণ কাজ।

বিজয় কৃষ্ণ সাহার বাড়ি গিয়ে তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র মনোরঞ্জন সাহার থেকে জানতে পারলাম, পূর্ব বাংলায় থাকতেই পূর্ব পুরুষেরা  যে পুজো শুরু করেছিলেন তা এইবার পঁয়ত্রিশ বছরে পদাপর্ণ করবে। প্রতিবছর পাল বাড়িতে প্রতিমা গড়া হলেও এবছর বিশেষ সমস্যার জন্য তাদের বাড়ির উঠোনেই একচালার প্রতিমা গড়া হচ্ছে। চতুর্থীর দিন মাকে বাড়ির মেয়ে-বউরা বরণ  করে মণ্ডপে নিয়ে আসেন, যেমন গিরিপত্নী মেনকা উমাকে পাওয়ার পর তার বিধুমুখখানি চুম্বন করে পূর্ণঘট নিয়ে মধুর যন্ত্র বাজিয়ে উমাকে বরণ করে ঠিক তেমনই। মনোরঞ্জনবাবু জানান, সরকারি গতিবিধি, সামাজিক দূরত্ব মাথায় রেখে এ পুজো করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নন্দী বাড়ির মিনা দেবীর হাতে পুরনো বছরের মায়ের ছবি।

নন্দী বাড়ির ঠাকুমা মিনা দেবী বলেন, দীর্ঘ ত্রিশ বছর ধরে পুজো করলেও এইবছর লকডাউনের কারণে ছেলের কাজ না থাকায় পুজো করতে পারছেন না। কিছু স্মৃতিচারণে বলেন, প্রতিবছরই পয়সার অভাব থাকে কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব কিছু মায়ের ইচ্ছায় ভালো ভাবে হয়ে যায়। ‘মা আমার মেয়ে, সে নিজেই পুজো করিয়ে নে।’

মহামারীর ফলে প্রচুর মানুষ কাজ হারিয়েছেন, হারিয়েছেন প্রিয়জনের সঙ্গে হৈ- হুল্লোড় করে কাটানো সময়, নিত্য দিনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য – যার প্রভাব পুজোয় পড়লেও প্রতিবছর মা নিজেই উপযাচিকা হয়ে আসেন বাপের বাড়ি, তাঁর আগমন ঠেকাবে কে ?

Related Articles

Back to top button
Close