fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা আক্রান্ত হয়ে মা ও ছেলের মৃত্যু, বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ

শুভেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোল: করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলো মা ও ছেলের। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার রাতে। মৃতরা আসানসোল উত্তর থানার কল্যাণপুর হাউজিংয়ের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

মৃত মায়ের বয়স ৮০ ও ছেলের বয়স ৫৫। তারা গত কয়েকদিন ধরে দূর্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানেই তারা মারা যান। দুজনেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে ঐ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। পশ্চিম বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরও এই খবর জানিয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, মা ও ছেলে ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে আসানসোলের সেনরেল রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে তাদের সেই চিকিৎসা চলাকালীন অবহেলা করা হয়েছে।

জানা গেছে, আসানসোলে কল্যানপুর হাউজিংয়ের বাসিন্দা তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক রেলের এক কর্মীর ভাই ও মা বাড়িতে অসুস্থ হয়েছিলেন। তাদেরকে সেনরেল রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলে। জ্বর ও কাশির মতো উপসর্গ থাকলেও ঐ হাসপাতালের চিকিৎসক তাদের করোনার পরীক্ষা না করার জন্য বলেছিলেন। কিন্তু চিকিৎসায় তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তাদের শারীরিক অবস্থার কথা ভেবে সেখান থেকে রেফার করা হয় ।

দুজনকেই দূর্গাপুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাদের দুজনেরই লালারসের নমুনা পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়। পরে তাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। কিন্তু তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। দুজনেই দুর্গাপুরের ঐ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, দুজনেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। আগে আসানসোলের ঐ হাসপাতাল তাদের লালারস পরীক্ষা করলে, এই ঘটনা ঘটতো না।

পরিবারের সদস্যদের আরো অভিযোগ, আসানসোলের হাসপাতাল দুজনেরই চিকিৎসায় গাফিলতি হয়েছে। আমরা ঐ হাসপাতাল ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জন্য স্বাস্থ্য দপ্তর ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হবো। আসানসোলের যে বেসরকারি হাসপাতাল ও সেখানকার যে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে, তাদের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে দেখা হবে।
অন্যদিকে, জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এখনো পর্যন্ত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলায় করোনা আক্রান্ত সংখ্যা এই মুহুর্তে ৪৩৯২। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৫৩০ জন। জেলায় এ্যাক্টিভ করোনা আক্রান্তর সংখ্যা এখন ৮২৩ জন।

Related Articles

Back to top button
Close