fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কেন্দ্রীয় দলের সুপারিশকে গুরুত্ব না দেওয়ায় শিলিগুড়িতে করোনা সংক্রমণ : রথীন্দ্র

সঞ্জিত সেনগুপ্ত শিলিগুড়ি : শিলিগুড়িতে নতুন করে করোনা সংক্রমণের জন্য রাজ্য সরকারের গাফিলতিকেই দায়ী করলো বিজেপি। দলের রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক রথীন্দ্র বসু মঙ্গলবার বলেন, ‘ পর্যবেক্ষণে এসে কেন্দ্রীয় দল যে সুপারিশ করেছিল তা মানা হলে শিলিগুড়িতে করোনা সংক্রমণ এড়ানো যেত।’ নতুন করে শহরের ৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুই ব্যক্তির দেহে সোমবার করোনা ভাইরাস ধরা পড়ার পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। এক ব্যক্তির সংক্রমণের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে শিলিগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেটকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদিন মহকুমা শাসক সুমন্ত সহায় সহ পুলিশ আধিকারিকরা ওই বাজার পরিদর্শন করে ববযবসায়ীদের কঠোরভাবে লকডাউন ও করেরা প্রতিরোধ বিধি মানার নির্দেশ দেন। এর পামপাশি ভিন রাজ্য ও জেলা থেকে এই বাজারে আসা সব গাড়ি প্রবেশের আগে স্যানিটাইজ করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এতদিনে রেগুলেটেড মার্কেটে প্রশাসন নজর দেওয়ায় তার সমালোচনা করেন বিজেপি-র রাজ্য সাধারণ সম্পাদক রথীন্দ্র বসু। এদিন তিনি বলেন,’ কেন্দ্রীয় টিম পর্যবেক্ষণ করে গাফিলতি যে দিকগুলি চিহ্নিত করেছিল সে ব্যাপারে রাজ্য সরকারের তরফে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডাঙ্গীপাড়ার এক ফলওয়ালার করোনা সংক্রমণে সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে শিলিগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেটকে ধরা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় দল কিন্তু এই বাজারে করোনা প্রতিরোধ কর্মসূচি ও লক ডাউন কঠোরভাবে কার্যকর করার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। তা মানেনি রাজ্য সরকার। বাবুপাড়ার
আক্রান্ত ব্যক্তি বাইরে থেকে এসেছেন। শোনা যাচ্ছে তিনি কোটা থেকে এসে কলকাতায় ছিলেন। তারপর শিলিগুড়িতে এসেছেন। শুধু শিলিগুড়ি নয়, গোটা রাজ্যেই বাইরে থেকে আসা মানুষ ও শ্রমিকদের করোনা প্রোটোকল মেনে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। হোম কোয়ারান্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েই কর্তব্য সারছে রাজ্য সরকার। বাইরে থেকে আসা মানুষকে প্রাতিষ্টানিক কোয়ারান্টাইনে রাখা হলে করোনার গোষ্ঠী সংক্রমণ আটকানো সম্ভব হতো। তৃণমূল সরকারের গাফিলতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে। আসলে তৃণমূল সরকার করোনা নিয়ে সংকীর্ণ রাজনীতি করছে।’

আরও পড়ুন: ধেয়ে আসছে আমফান, প্রভাব পড়তে শুরু করেছে শহরে, সরানো হল বিপজ্জনক বাড়ির, বাসিন্দাদের

এদিকে আক্রান্তরদের সোমবারই মাটিগাড়ার কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করার পাশাপাশি ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আক্রান্ত ফলওয়ালার পরিবারের সদস্যদের বাতাসির কোয়ারান্টাইন সেন্টারে রাখার ব্যবস্থা করে স্বাস্থ্য দফতর। মঙ্গলবার সকালে ওই ফলওয়ালার বাড়িতে থাকা অন্য পরিবারগুলির সদস্যদেরও লালারসের নমূনা সংগ্রহের জন্য শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবার এখানে ছিল না। তাই ওই অ্যাপার্টমেন্টের বাক ৫টি পরিবারের ১৩ জন সদস্যর উপর স্বাস্থ্য দফতর নজরদারি শুরু করেছে স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকেরা।

এর পাশপাশি এদিন সকাল থেকে ওই দুটি এলাকায় পুরসভা স্যানিটাইজ করা শুরু করেছে। শিরিগুড়ি পুরসভার প্রশাসনিক বোর্ডের চেয়ারম্যান অশোক ভট্টাচার্য দুটি এরাকাতেি পরিদর্শনে যান স্যানিটাইজেশনের কাজ তদারকি করতে। পুরসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা তৃণমূলের রঞ্জন সরকারও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না সাবধান ও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন।

Related Articles

Back to top button
Close