fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পশ্চিম বর্ধমানে বাড়ছে করোনা, প্রশাসনিক বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর

পশ্চিম বর্ধমানে বাড়ছে করোনা, প্রশাসনিক বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর

শুভেন্দু বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমান জেলায় দিন দিন ব্যাপক হারে বেড়েই চলছে করোনা। তা নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বাংলার বিভিন্ন জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়াল প্রশাসনিক বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে পশ্চিম বর্ধমান জেলাও অংশ নেয়।

আসানসোলে জেলাশাসকের দফতরে এদিন ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তাতে যোগ দিয়েছিলেন রাজ্যের শ্রম ও আইন মন্ত্রী মলয় ঘটক ও আসানসোল পুরনিগমের মেয়র তথা পাণ্ডবেশ্বর বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি। এছাড়াও ছিলেন জেলাশাসক পূর্ণেন্দু কুমার মাজি, আসানসোল দূর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার সুকেশ কুমার জৈন ও জেলা সভাধিপতি সুভদ্রা বাউরি সহ অন্যান্যরা।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মুহুর্তে
পশ্চিম বর্ধমান জেলার করোনা আক্রান্তের হার ৫.৯ শতাংশ। দক্ষিণবঙ্গের জেলা পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভুম ও দুই বর্ধমানের মধ্যে পশ্চিম বর্ধমান জেলার করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা হলেও বেশি।
নবান্ন থেকে হওয়া এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এ নিয়ে পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসককের কাছে জানতে চান, কেন এই জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা এখনো এতটা বেশি?

জেলাশাসক পূর্ণেন্দু কুমার মাজি মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন, পাশের রাজ্য ও জেলা থেকে করোনা রোগী রুগী ভর্তি হচ্ছে দূর্গাপুরের কোভিড ১৯ হাসপাতাল সহ অন্যান্য হাসপাতালে। অন্য রাজ্য বা জেলার বাসিন্দা করোনা রোগী হলেও তা পশ্চিম বর্ধমান জেলা বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও বলা হয়, অন্য রাজ্যের রোগীরা এই জেলায় এলেও নিজেদের আসল ঠিকানা বা জেলা বা রাজ্যের নাম লেখাচ্ছেন না বা বলছেন না।

এই বিষয়টি জানার পরে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, করোনা আক্রান্ত রোগীর নাম ও ঠিকানা লেখানোর সময় যেন বিশেষ নজর দেওয়া হয়। রোগী যেন চিকিৎসা পায়, কিন্তু সে যেন নিজের জেলা বা রাজ্যের ঠিকানা লেখান তা দেখতে হবে। বৈঠকে জানা যায়, গ্রামীন এলাকায় রাস্তার তৈরির ক্ষেত্রেও পিছিয়ে রয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলা। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৩৫ কিলোমিটার। কিন্তু রাস্তা তৈরি হয়েছে ৫.৫৬ কিলোমিটার। যদিও জেলাশাসকের দাবি, ১২ শতাংশের বেশি রাস্তা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, পশ্চিম বর্ধমান জেলায় সোমবার রাতেই করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার পার করেছে বলে জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে ৯৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এখন জেলায় করোনা আক্রান্তর সংখ্যা ৩০১৮ জন। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৩ জন করোনা আক্রান্ত সুস্থ হয়েছেন। এই মুহূর্তে জেলায় অ্যাকটিভ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৮৪৪ জন। মোট সুস্থ হয়ে উঠা রোগীর সংখ্যা ২১৪৮ জন। জেলায় এখনো পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের।

Related Articles

Back to top button
Close