fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা আক্রান্ত নয় তবুও মৃতদেহ নিতে অস্বীকার পরিবারের

বাবলু ব্যানার্জি, কোলাঘাট: কোলাঘাট ব্লক জুড়ে এমনি করোনা আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। পজেটিভ রিপোর্ট না এসেও রোগে মারা যাওয়া মৃতদেহ নিতে চাইছে না মৃত ব্যক্তির পরিবার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কোলাঘাট ব্লকের বৃন্দাবনচক অঞ্চলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কোলা ২ অঞ্চলের আঁড়র গ্রামে এক ব্যক্তির করোনা পজিটিভ এর মৃত্যুর পর ব্লক জুড়েই এখন আতঙ্কের পরিবেশ।

বৃন্দাবন চক গ্রামের ধনঞ্জয় মন্ডল বয়স ৬৭ কৃষি কর্ম করে দিনযাপন করতো। আজ থেকে দিন পনেরো আগে হঠাৎ জ্বর আসে, স্থানীয় চিকিৎসালয়ে চিকিৎসা করার পর তিনি সেরে উঠেন। পুনরায় দিন দশেক কিছুতেই জ্বর ছাড়ছিল না। স্বাস্থ্য কর্মী থেকে আশা কর্মীরা বাড়িতে গিয়ে করোনা পজিটিভ আছে কিনা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। সেইমতো ধনঞ্জয় বাবু পরীক্ষা করতেও পাঠান। সোমবার সন্ধ্যায় ধনঞ্জয় বাবুর অবস্থার অবনতি হলে পীতপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবারের লোকজন। পথের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ধনঞ্জয় বাবু। এরপরই শুরু হয় মৃতদেহ সৎকার করবে কেমন করে। গ্রামের লোকজন গ্রামের সৎকার্য করার ক্ষেত্রে অনীহা প্রকাশ করে। ততক্ষণে ধনঞ্জয় বাবুকে পীতপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করে দেওয়া হয়।

প্রশাসনিক মহলে আলোচনার পর বলা হয় গ্রামের চারজন মিলে এই মৃতদেহ সৎকার করে দেবে। কিন্তু একজন রাজি হলেও তিনজন রাজি হয়নি। এমত অবস্থায় মৃত ব্যক্তির ময়নাতদন্তের জন্য পীতপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্র মৃতদেহ তমলুকে পাঠায়। পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে কথা বলা হলে তারা বলেন, করোনা আতঙ্ক তো আছেই, প্রয়োজনে মৃতদেহ তমলুক মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

ওই গ্রামের বিজেপি সদস্য সমীর মন্ডল বলেন, মৃত্যু কি কারণে হয়েছে তার রিপোর্ট এখনো আসেনি। এই রোগ এমনভাবে মানুষের মধ্যে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছে। নিজের আপন লোককে ও শেষ দেখার ইচ্ছা থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে।

ওই অঞ্চলের তৃণমূল প্রধান হিমাংশু শেখর নায়েক বলেন, ব্লকের মধ্যে এই অঞ্চল আগেভাগে অনেকটাই সচেতন। আশা কর্মীরা অসুস্থ ব্যক্তির কাছে গেছে। কারোনা পজেটিভ এর রিপোর্ট করতে বলেছে, সেইমতো করোনা পজিটিভ এর রিপোর্ট করতেও পাঠিয়েছে। ওই অসুস্থ ব্যক্তি রোগে না করোনা পজিটিভে মারা গেছে তা রিপোর্ট এলেই বুঝা যাবে।

Related Articles

Back to top button
Close