fbpx
কলকাতাহেডলাইন

করোনা ম্যাজিক, জঙ্গলে খোঁজ মিললো বিলুপ্ত প্রায় গান গাওয়া কুকুরের

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: কুকুরের নাম ‘নিউ গিনি সিঙ্গিং ডগ’। অর্থাৎ গায়ক কুকুর। তিমি মাছের মতো সুর করে গান গায় বলে এদের এই নাম। ১৯৭০ এর পরে এই বিরল প্রজাতির কুকুরকে আর দেখা যায়নি। এই প্রজাতির কিছু কুকুর অল্প সংখ্যায় বিভিন্ন চিড়িয়াখানা বা সংরক্ষণ কেন্দ্রে থাকলেও বন্য এলাকা থেকে তারা অবলুপ্ত হয়েছে বলে মনে করা হত। কিন্তু সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়ার অরণ্যে ওই কুকুরের প্রজাতির খোঁজ পাওয়া গেল। বিষয়টি সোমবার প্রকাশিত হয়েছে একটি বিজ্ঞান পত্রিকায়।

করোনার পৃথিবীতে বিশ্বজুড়ে মানুষের অস্তিত্ব যখন সঙ্কটে তখন প্রকৃতির রাজ্যে বিস্ময়কর সব ঘটনা ঘটছে। পৃথিবীর বুক থেকে অবলুপ্ত হয়ে গিয়েছে বলে মনে করা হত এমন সব প্রাণির নতুন করে আবির্ভাব হচ্ছে। যেমন ইংলণ্ডের আকাশে ২৪০ বছর পরে ফিরলো বিরল সাদা লেজের ঈগল। ভারতে উত্তর পূর্বের জঙ্গলে দেখা মিলল একমাত্র সোনালি বাঘের। ১০০ বছর পরে দেখা মিলেছে কালো বাঘেরও। এবার দেখা মিলল গায়ক কুকুরের। পরিবেশবিদরা মনে করছেন, করোনা ও লকডাউনের জেরে পরিবেশ এখন অনেক বেশি নির্মল। সেই কারণেই এখন পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে যাওয়া প্রাণিদের দেখা মিলছে।

নিউ গিনির এই গায়ক কুকুর প্রজাতির বিশেষত্ব এদের গান গাওয়ার ক্ষমতার জন্য। কুকুরের স্বাভাবিক ডাকের সঙ্গে নিজস্ব সুর মিলিয়ে এরা এমন ধরনের সুরেলা আওয়াজ করতে পারে, যা শুনলে মনে হয় কুকুরটি গান গাইছে। এই বন্য কুকুরের সঙ্গে নেকড়ের সাদৃশ্য রয়েছে। তবে এদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে উল্লেখ করার মতো বিষয় হল, এদের মেরুদন্ড খুব নমনীয়। ফলে এরা গাছে চড়ে পাখি, খরগোশ শিকার করে।

আরও পড়ুন : করোনা আবহে কাজ নেই ঢাকি পাড়ায়, মনখারাপ ঢাকশিল্পীদের

১৮৯৭ সালে পাপুয়া নিউ গিনিতে ২১০০ মিটার উচ্চায় এই প্রজাতির কুকুরের প্রথম দেখা মিলেছিল। কিন্তু ১৯৭০ সালের পর আর খোলা পরিবেশে এদের দেখা যায়নি। বর্তমানে মাত্র ২০০টি এ ধরনের কুকুর থাকলেও সেগুলি সবই হয় চিড়িয়াখানা নয় তো বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ কেন্দ্রের বাসিন্দা।

তারপর আবার ২০১৬ সালে একদল বিজ্ঞানী এই ধরনের ১৫টি বন্য কুকুরের খোঁজ পাপুয়ার জঙ্গলে পেয়েছিলেন । কিন্তু তখনই তারা পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলেন না। তারপর দু’ বছর ধরে সমীক্ষা ও গবেষণা চালিয়ে প্রাণীবিজ্ঞানীরা আবার নিউ গিনির জঙ্গলে এদের খুঁজে পান। ওই কুকুরগুলির ডিএনএ পরীক্ষা করে তাঁরা নিশ্চিত হন, সেগুলি লুপ্ত হয়ে যাওয়া গায়ক কুকুরেরই প্রজাতি। বিজ্ঞানীদের অনুমান, স্থানীয় কুকুরদের সঙ্গে মিশে প্রজনন প্রক্রিয়ার ফলেই এই বিশেষ কুকুর প্রজাতিটি লুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।

এইচ এমভির কভারে গ্রামোফোন শোনা কুকুরটির ছবি সংগীত প্রেমীদের খুবই পরিচিত। সিঙ্গিং ডগের সঙ্গে ওই কুকুরটির লতায় পাতায় কোন সম্পর্ক রয়েছে কিনা গবেষণা করা যেতেই পারে।

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close