fbpx
ব্লগহেডলাইন

মাস্ক না পরলে বাড়ি পাঠান, মহামারী মোকাবেলায় এত কোমল নীতি ?

কাজি মাসুম আখতার

ক’দিন আগে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠিতে লিখেছিলাম, “করোনা থেকে মুক্তি পেতে জনপ্রিয় নীতি নয়,নিন জরুরি নীতি”।
মাস্ক না পরে বাইরে বের হলে অন্য রাজ্যে শাস্তি জেল জরিমানা,অথচ সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় দেখলাম আমাদের রাজ্যে এক্ষেত্রে শাস্তি কেবল বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া। কঠোর পদক্ষেপ নিতে ভয় কিসের ? ভয় কি জনপ্রিয়তা হারানোর ? তাহলে কিসের লক ডাউন ? লক্ষ লক্ষ নাগরিককে তাহলে কেন কষ্টে রাখা ? তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলা! গোটা রাজ্যে সোশ্যাল ডিস্টান্স না মেনে,মাস্ক না পরে,ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে রাস্তায়,বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে হাজার হাজার মানুষ ।

 

হ্যাঁ-সচেতনভাবেই ! তাদের ক’জনকে কারাই-বা বাড়িতে ঢোকাবেন ? এই দায়িত্ব কি পুলিশের ? এদের কি এত লোকবল আছে,যারা হাজার হাজার দায়িত্বজ্ঞানহীনদের বাড়িতে ঢুকিয়েই ছাড়বেন ? এত কাজের মাঝে পুলিশ কি এই বাড়তি দায়িত্ব পালনে সত্যিই সক্ষম ? তারা কি এতটাই দায়বদ্ধ ! এই পদক্ষেপ কি সত্যিই বাস্তবসম্মত ? প্রশ্ন হল–মাস্কহীনদের বাবা-বাছা করে পুলিশ না হয় বাড়িতে ঢুকিয়েই ছাড়লো ,তারপর পুলিশ চলে গেলেই তারা আবার মাস্ক ছাড়া রাস্তায় নামবেন না–তার কি গ্যারান্টি আছে ? তাদের মনে-তো ভয়ডর নেই,কারণ তারা জানেন সরকারি নির্দেশানুযায়ী পুলিশ লাঠিপেটা,জেল জরিমানা কিছুই করতে পারবেন না। পুলিশ বড়োজোর রাগ দেখিয়ে পুনরায় ঘরে ঢুকিয়ে দেবেন ! লকডাউন পর্বে এহেন লুকোচুরি খেলার মজাই-বা তারা হাতছাড়া করবেন কেন !

 

এত প্রচারের পরেও যারা করোনার বিধিনিষেধ না মেনে বা মাস্ক না পরে রাস্তায়,হাটেবাজার ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তা শুধু নাগরিক অসচেতনতা কারণে –এই ধারণা বাস্তবে অত্যন্ত সরলীকৃত । এদের অধিকাংশই আসলে জ্ঞানপাপী। গা-জোয়ারি এদের মজ্জায়। নাগরিকত্বের ন্যূনতম দায় নিতেও এদের চরম উপেক্ষা,উদাসীনতা। নিজের গায়ে আগুন না লাগা পর্যন্ত আসলে এদের কোনও হেলদোল হয় না। সঙ্গে রয়েছে একধরণের কায়েমি গোঁড়ামি, অন্ধত্ব।

সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যাধির গহ্বরে যার জন্ম। মানুষ আসলে শক্তের ভক্ত। তাই করোনার করাল গ্রাসের মোকাবিলায় দিল্লি, কেরলের মতো পশ্চিমবঙ্গেও জরুরি কঠোর নীতির। হ্যাঁ-জনপ্রিয়তার তোয়াক্কা না করে।পাড়ায় পাড়ায়,মহল্লা মহল্লায় দু-চারজনের জেল জরিমানার খবর ভাইরাল হলেই মাস্ক না পরার ঔদ্ধত্য লাঘব হবে বলেই আমার বিশ্বাস। বেয়াড়াদের নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে চলতে পারে মৃদুমন্দ লাঠিচার্জও। এ বিষয়ে কেরল আমাদের কাছে উদাহরণ হতে পারে। করোনা নিয়ন্ত্রণে তাদের বিজ্ঞানসম্মত কঠোর পদক্ষেপ আমাদের আদর্শ হতে পারে। নতুবা মহামারী রোধে হাজার চেষ্টা বিফল হতে বাধ্য। মনে রাখতে হবে প্রথমে না বললেও করোনার ব্যাপকতায় পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে তাল দিয়ে আমাদের ডাক্তারবাবুগণও বাইরে বেরোলে প্রত্যেককেই মাস্ক ব্যবহারের নিদান দিয়েছেন ।

 

রাস্তায় বাজারে প্রত্যেকের মধ্যে ন্যূনতম এক মিটার দূরত্ব রাখার বিধান এখন প্রায় তিন মিটারে পর্যবসিত হয়েছে। এমতাবস্থায়,”কমিউনিটি ইনফেকশন” শুরু হয়ে এই রাজ্যে মহামারীর আতঙ্ক দেখা দিলে, তখন হা-হুতাশ করা ছাড়া উপায় থাকবে না। ভীড় এড়াতে পনেরো দিনের বা এক মাসের রেশন করোনার চরম সংকটে থাকা প্রাপকদের হাতে একদিনে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে সরকারি স্তরে উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত রেশন সরবরাহ এবং নেতা ও কর্তাসহ রেশন ডিলারদের স্বচ্ছতার দিকে সরকারি কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে হবে। কোনও রকম দুর্নীতি হলে রাজনীতি না দেখে নিতে হবে কঠোর ব্যবস্থা। হ্যাঁ-কথায় নয়, কাজে।

দ্রুততার ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে। মানবিকতার রাজনীতির এইতো সুবর্ণ সুযোগ। নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি না করে শাসক ও বিরোধীদলের রথী-মহারথীদের মধ্যে এই সংকটময় মুহূর্তে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক প্রতিযোগিতা চলতেই পারে। নতুবা ক্ষুধার ভাইরাস করোনাকেও হার মানাবে।
মনে রাখতে হবে, করোনা পরীক্ষার স্বল্পতাহেতু ও করোনা রোগীর সন্ধানহীনতাহেতু আমরা করোনা আক্রান্তদের প্রকৃত সংখ্যা বা ব্যাপ্তির বিষয়ে কার্যতই অন্ধকারে। সরকারিভাবে প্রকাশিত বা চিকিৎসারত আক্রান্তদের সংখ্যা অপেক্ষা আক্রান্তদের প্রকৃত সংখ্যা যে অনেক গুন বেশি-তা শুধু এই রাজ্য বা দেশ নয়,সমগ্র পৃথিবীর জন্যই নির্মম সত্য। এই চরম সত্যকে অগ্রাহ্য না করে বা লুকিয়ে না রেখে যত প্রকাশিত করা যাবে এবং তদানুসারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যাবে — ততই আমরা করোনার বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর যুদ্ধে জয়লাভ করার দিশা খুঁজে পাবো । তাই কালবিলম্ব না করে প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়াই এই মুহূর্তে সরকারের কাছে সবচেয়ে জরুরি চ্যালেঞ্জ।তবে মনে রাখতে হবে এই প্রচেষ্টা জরুরি হলেও রাজনীতির চৌহদ্দিতে জনপ্রিয় নাও হতে পারে।

Related Articles

Back to top button
Close