fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বসিরহাটে যুবকের করোনা নেগেটিভ, কোয়ারেন্টিন সেন্টার থেকে ঘরে ফিরল মা ও মেয়ে

শ‍্যাম বিশ্বাস, উওর ২৪ পরগনা: বসিরহাট মহাকুমার মাটিয়া থানার খোলাপোতা গ্রাম পঞ্চায়েতের রাহার‌আটি গ্রামের ঘটনা। বছর ১৮ এর এক যুবক কলকাতা কর্পোরেশনের জলের গাড়ির হেলপার এর কাজ করেন। গত ২৬ মার্চ বাড়িতে আসতেই তার জ্বর সর্দি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তারপরে তার পরিবারের লোক ধান্যকুড়িয়া গ্রামীণ হাসপাতাল তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে করোনার উপসর্গ পাওয়া যায়,তারপর রাজারহাট কোয়ারেন্টিন সেন্টারে তার রক্ত ও লালা রস পরীক্ষা করার পর নেগেটিভ আসায় স্বস্তির নিঃশ্বাস গ্রামের বাসিন্দাদের। সেই যুবকের  সংস্পর্শে আসা নটি পরিবারের মোট ৪৫ জনকে হোমকোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকাটিকে পুলিশ সিল করে দিয়েছে।

যুবকের এক আত্মীয় জানান, আমরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরে চিকিৎসকরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বাদুড়িয়ার থানার চন্ডিপুর এক করোনা সন্দেহ যুবক কলকাতার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার বাবা-মা ছাড়া কিছু মানুষকে কোয়ারান্টিন সেন্টারে রাখা হয়েছে। পুলিশ গিয়ে গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় বাঁশ দিয়ে বেরিকেট করা হয়েছে, অর্থাৎ গ্রাম সিল করে দেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে বাদুড়িয়ার বিডিও ত্রিভুবন নাথ, রিপোর্ট  নেগেটিভ  হওয়ায় বাদুড়িয়ার কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে চন্ডীপুরে  ফিরে গেলেন মা ও মেয়ে বসিরহাট মহাকুমার বাদুড়িয়ার চণ্ডীপুরের  তাঁর মা ও বোনের রিপোর্ট নেগেটিভ হওয়ায় চন্ডীপুরের বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টেনে রেখে গেলেন প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। মঙ্গলবার দুপুরে যুবকের মা ও বোনকে  গ্রামে ফিরিয়ে আনলে গ্রামবাসিরা করতালি দিয়ে তাদের অভিনন্দন জানায়।

আরও পড়ুন: সারমেয়দের খাবারের ব্যবস্থা করলেন বিধায়ক

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বাদুড়িয়ার চন্ডীপুরের এক যুবকের অসুস্থতার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। ঘটনাস্থলে যান বাদুড়িয়ার বিডিও ও  পুলিশ আধিকারিকরা। ওই এলাকাটিকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য ব্যবস্থা নেয়  প্রশাসন। সিল করে দেওয়া হয় তাঁর বাড়ির প্রতিটিি অলিগলি। বন্ধ রাখা হয় বাজার। বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়। যুবককে রাজারহাট কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে পর্যবেক্ষণে রাখাা হয়। তবে সরকারি ভাবে ওই যুবকের রিপোর্ট স্থানীয় প্রশাসনের তরফে  এখনো জানানো হয়নি। ওর মা ও বোনকে  গত শুক্রবারই  বাদুড়িয়ার কর্মতীর্থের কোয়ারান্টাইন সেন্টারে রাখার ব্যবস্থা করে। তাদের লালা রসের নমুনা পাঠানো হয় পরীক্ষার জন্য।  রিপোর্ট নেগেটিভ  হওয়ায় প্রশাসনের তরফে মঙ্গলবার চন্ডীপুরের বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয় তাদের গ্রামের মানুষ হাততালি দিয়ে তাদেরকে সংবর্ধনা জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চন্ডীপুর বাজার এলাকার বাসিন্দা  ওই যুবক কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে গার্ডের কাজ করতেন। দিন কয়েক আগে বাড়িতে ফিরে অসুস্থতা বোধ করলে তাকে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডেকে নিয়ে যায়। তারপর আকাাশ কর্মকার বাড়িতে না ফেরায়  এলাকাবাসীর  সন্দেহ হয়।  করোনা উপসর্গ নিয়ে আকাশ বাড়িতে ফিরে ছিল। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়। একই সঙ্গে  প্রশাসনের তরফে রেড জোন জারি হয় চন্ডীপুর বাজার সংলগ্ন এলাকা। বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে গোটা এলাকা। চলে মাইক প্রচার। যে যে বাড়িতে ওই যুবক গিয়েছিলেন সেইসব বাড়ির সদস্যদের হোম কোয়ারান্টিনে থাকার পরামর্শ দেন তারা। পাশাপাশি চন্ডীপুর বাজার এর ওই এলাকা থেকে যাতে কোনো লোক বাইরে না যায় সে ব্যাপারে কড়া নজরদারি রেখেছে পুলিশ। এলাকাবাসী কেউ সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close