fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা আতঙ্কের মধ্যেই আগত বর্ষায় মেচেদা এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় বাড়ছে উৎকণ্ঠা

বাবলু ব্যানার্জি, কোলাঘাট: দেশ ও রাজ্য করোনা আবহে জর্জরিত। এদিকে বঙ্গে বর্ষা দরজায় কড়া নাড়ছে। গত কয়েক বছর ধরে বর্ষার শুরুতে মেচেদা ও তার পার্শ্ববর্তী গুরুলিয়া, বার গুরুলিয়া, চিমুটিয়া, বের চিমুটিয়া, শান্তিপুর, কাকদিহি, আন্দুলিয়া গ্রামগুলি জলমগ্ন হওয়ার চিত্র দেখা গেছে। বেশিরভাগ জমিতে আমন ও বোরো চাষ হয় না। এমনও বেশ কয়েকটি গ্রাম রয়েছে যা তিনচার বছর ধরে চাষ করতে পারছে না ওয়াটার লগিংয়ের কারণে। এ নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে মৌখিক ও লিখিতভাবে বহুবার আবেদন-নিবেদন করা হয়েছে। প্রশাসনের এই বিষয়ে কোনও হেলদোল নেই বলে অভিযোগ এলাকার সাধারণ মানুষের।

মেচেদা এলাকার জল নিকাশের জন্য মেচেদা বাঁপুর খাল রযেছে, এই খালের জল নিকাশি ব্যবস্থা দেখভালের দায়িত্ব শান্তিপুর। শান্তিপুর-২ ও খারুই গ্রাম পঞ্চায়েতের। গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি সবই তৃণমূল চালিত। শান্তিপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েত জল নিকাশি ব্যবস্থার জন্য প্রতিবছর খাল কাটার চিন্তাভাবনা করলেও তেমন সাড়া মেলেনি শান্তিপুর ২ এবং খারুই অঞ্চলের পক্ষ থেকে। বর্তমানে মেচেদা বাঁপুর খালে আবর্জনায় ভর্তি, কচুরিপানা থেকে দোকানের পরিত্যক্ত জিনিস, কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিত্যক্ত জল পড়ার ফলে জল নিকাশি ব্যবস্থা একেবারে লাটে উঠেছে।

মেচেদা ও তার আশপাশের এলাকার জল সামান্য পরিমাণে বেরোয় মেচেদা ৪১ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশ দিয়ে যাওয়া সরু খাল হয়ে সোয়াদিঘি খালে।

আরও পড়ুন:ক্ষুদিরাম বসু…হাতে শ্রীমদ্ভগবদগীতা নিয়ে উঠেছিলেন ফাঁসিকাঠে

তমলুক মেচেদা রাজ্য সড়কের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে এই সোযাদিঘি খাল। শান্তিপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের নিকাশি ব্যবস্থা ভালো করতে হলে এই মেচেদা বাঁপুর খালের সংস্কার এবং সেই সঙ্গে মেচেদা মহাশ্বেতা ও মেচেদা কাঁকটিয়া খালের সংস্কারের জন্য চাই মাস্টার প্ল্যান।

গুরুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুকুমার মাইতি বলেন, এই খাল সংস্কারের বিষয়টি নিয়ে বহুবার প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কেবল আশ্বাসের বাণী ছাড়া কাজ করার ক্ষেত্রে হয়েছে সম্পূর্ণটাই ভস্মে ঘি ঢালা। শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের প্রাক্তন তৃণমূলের সভাপতি তনুশ্রী জানা বলেন, কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে শুনেছি, কিন্তু করোনা আবহে সব কিছু চাপা পড়ে গেছে। জেলার খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ সিরাজ খান বলেন, একথা ঠিক বিভিন্ন দোকানদার থেকে শুরু করে এলাকার যে সব অনুষ্ঠান হয় তার নোংরা জিনিস এই খালে ফেলা হয়।এর ফলে নিকাশি ব্যবস্থা বিঘ্ন ঘটেছে অবিলম্বে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার এবং বিষয়টি জেলা পরিষদে তুলবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের বিডিও সুমন ঘোড়ইকে ধরা হলে তিনি বলেন, সংস্কারের বিষয়টি প্রশাসন সব সময় নজরে রেখেছে, তিনি পুনরায় জেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক স্তরে বিষয়টি তুলবেন বলে জানিয়েছেন।

Related Articles

Back to top button
Close