fbpx
কলকাতাহেডলাইন

পুরসভার অজান্তেই রমরমিয়ে করোনা মৃতদেহ ব্যবসা, পুরসভার কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: পুরসভার অজান্তেই করোনা মৃতদেহ নিয়ে রীতিমতো ব্যবসা পেতে বসেছে এক গোষ্ঠী।পুর কর্তৃপক্ষের দেওয়া নির্দেশকে হাতিয়ার করেই রমরমিয়ে ‘‌লুঠ’‌ শুরু করছে কিছু সংস্থা।

যেখানে কলকাতা পুরসভা শববাহী গাড়ির ভাড়া–সহ যাবতীয় খরচ মিলিয়ে ৫ হাজার টাকার বেশি নেওয়া যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। সেখানে বাস্তবে এর দ্বিগুণ পরিমাণ খরচ করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ মৃতের পরিবারদের। শহর জুড়ে একাধিক পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ আসতেই নড়েচড়ে বসল কলকাতা পুরসভা। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুরো প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য অতীন ঘোষ এই সমস্ত বেআইনি কারবারিদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘পুরসভায় অভিযোগ জমা পড়লে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, ‘কলকাতা পুরসভার ১৪৪ টি ওয়ার্ডের মধ্যে যে সমস্ত বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে শহরের মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে যান তাদের মধ্যে যদি কারোর করোনায় মৃত্যু হয় সেক্ষেত্রে পুরসভার বেঁধে দেওয়া পাঁচ হাজার টাকার বেশি কোন এজেন্সি নিতে পারবে না। যদি এক্ষেত্রে কোনো এম্বুলেন্স শবদেহ বহনকারী গাড়ি ৫০০০ টাকার বেশি নেয়। তাহলে সরাসরি পুরসভার হেল্পলাইনে ফোন করুন। আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

করণা মৃতদেহ নিয়ে যেন গো অ্যাজ ইউ লাইক চলছে। যেমন পারো তেমন দর হাকো। যদিও সরকার নির্দিষ্ট টাকা বেঁধে দিয়েছে এই কাজের জন্য। তা সত্ত্বেও কেউ ৭ থেকে ১০ হাজার, কেউ ১৫ হাজার, কেউ আবার ২০ হাজার। বেসরকারি হাসপাতালে মৃত করোনা রোগীর দেহ সৎকার করতে এতটা পরিমাণ অর্থই খরচ করতে হচ্ছে মৃতের পরিবারকে। অভিযোগ, এই সব কিছুই এতদিন চলছিল কলকাতা পুরসভার অজন্তে। তাই খবর পেয়ে তড়িঘড়ি অতীন ঘোষ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেন।

পুরসভার ওই নির্দেশিকার স্পষ্ট লেখা রয়েছে, সৎকার কাজ করবে দুটি সংস্থা। তাদের সঙ্গে করোনায় মৃতের পরিবারের যোগাযোগের মাধ্যম হবে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতাল। সম্প্রতি রাজ্যের শ্মশানগুলিতে টাকা তোলার সংগঠিত চক্র তৈরি হয়েছে বলে এক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে। সেখানে উল্লেখ করা হয় হাওড়ার শিবপুর শ্মশানের এক অমানবিক ঘটনার কথা। যেখানে করোনায় মৃতের দেহ দেখতে চাওয়ায় শ্মশানের কর্মীরা মৃতের পরিবারের কাছে ৫১,০০০ টাকা দাবি করে। এবার একইরকম অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে কর্মরত ওই দেহ সৎকারকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে।

Related Articles

Back to top button
Close