fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

স্থানীয়দের বাধা সত্ত্বেও করোনায় মৃত ব্যক্তির দেহ সৎকার হল স্থানীয় শ্মশানে

নিজস্ব প্রতিনিধি দিনহাটা: করোনায় মৃত্যু সন্দেহে এক ব্যাক্তির দেহ সৎকারে বাধা দিল স্থানীয়রা। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দিনহাটা দুই ব্লকের সাহেবগঞ্জ ও বুড়িরহাট এলাকায়।  ওই বৃদ্ধের মৃতদেহ এক শ্মশান থেকে আর এক শ্মশানে নিয়ে যায় পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু তারপরেও ফিরে যেতে হয় মৃতের পরিবারকে। কারণ প্রত্যেক শ্মশানেই বিক্ষোভ দেখাতে থাকে স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি, ওই দেহ স্থানীয় শ্মশানে দাহ করা যাবে না। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় দিনহাটার বুড়িরহাট এবং সাহেবগঞ্জ এলাকায়। শেষে প্রশাসনের সহায়তায় রাত সাড়ে ১১ টা নাগাদ বছর ৭৫ এর কৃষ্ণানন্দ অধিকারির দেহ দাহ করা হয়। মৃতের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট এলে জানা যায়, তিনি করোনা পসিটিভ ছিলেন। জানা গেছে, ওই পুলিশকর্মী শিলিগুড়িতে কর্মরত ছিলেন। কিছুদিন আগে বুড়িরহাটের বাড়ি ফেরেন। সেই সময় তাঁর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। কোচবিহারের করোনা হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হয়। পরবর্তীতে ওই পুলিশকর্মীর বাবা অসুস্থ হয়ে কোচবিহার মেডিকেলে ভর্তি হন। বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। এদিন ওই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর এলাকায় আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত জনতা দিনভর একাধিক শ্মশানে ওই ব্যক্তির মৃতদেহ দাহ করার বিরোধিতা করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে।

[আরও পড়ুন- ধর্মীয়স্থান দখল করার অভিযোগ, বিডিও অফিস ঘেরাও করে আদিবাসীদের বিক্ষোভ]

জানা গেছে এদিন মৃতদেহ প্রথমে বুড়িরহাট শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে স্থানীয়রা বাধা দেয়। এরপর নিয়ে যাওয়া হয় সাহেবগঞ্জ শ্মশানে। সেখানেও এলাকার বাসিন্দারা রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। সে সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাহেবগঞ্জ থানার ওসি হেমন্ত শর্মা সহ অন্যান্যরা। বিক্ষোভকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান দিনহাটা মহকুমা শাসক শেখ আনসার আহমেদ, দিনহাটা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক মানবেন্দ্র দাস সহ আরও অন্যান্যরা। পরে দিনহাটার এসডিও ও পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা শবদেহ দাহ করতে গেলে উত্তেজনা ছড়ায়। ফলে একাধিক শ্মশান ঘুরেও মৃত ব্যক্তির সৎকার করা সম্ভব হয়নি। শেষে প্রশাসনিক সহায়তায়  সাহেবগঞ্জ  শ্মশানে  রাত প্রায় ১১ টা নাগাদ ওই ব্যক্তির মৃতদেহ দাহ হয়। মহকুমা শাসক শেখ আনসার আহমেদ জানান, এদিন ওই ব্যক্তির মৃতদেহ সাহেবগঞ্জ সীমান্ত  শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এঈ ঘটনায় এলাকবাসীর মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। করোনা পসিটিভ ব্যাক্তিকে কিভাবে শ্মশানে সৎকার করা হল, সেই বিষয়ে পিলশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

 

Related Articles

Back to top button
Close