fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

শিলিগুড়িতে করোনা মোকাবিলায় দলাদলি ভুলে একসঙ্গে কাজে জোর বাম-তৃণমূলের

কৃষ্ণা দাস, শিলিগুড়ি: লকডাউনের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে শিলিগুড়ি পুরসভা এলাকায়। আর তাতে বেশ সুফল পাওয়া গেছে বলে দাবী পুরনিগমের। যে ওয়ার্ড গুলিতে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছিল সেই ওয়ার্ডগুলোতে এই লকডাউন করোনা সংক্রমণ অনেকটাই বাগে আনতে পেরেছে বলে দাবী করলেন শিলিগুড়ি পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য শংকর ঘোষ। আর এই করোনা রোগের মোকাবিলায় দলাদলি ভুলে সংক্রমন রোধে ইতিবাচক পদক্ষেপে একসাথে কাজ করতে কোমড় বেধে মাঠে নামতে দেখা গেলো শিলিগুড়ি পুরসভার অন্যতম দুই বিরোধী দল বাম-তৃণমূলকে।
শনিবার শিলিগুড়ি পুরসভায় করোনা নিয়ে পুরসভার টাস্ক ফোর্সের এক বৈঠকে পুরবোর্ডের শাসক দল বাম সদস্যরা যেমন ছিলেন, তেমনই ছিলেন তৃণমূল ও কংগ্রেসের সদস্যরাও। পাশাপাশি জেলা শাসক সহ পুলিশ প্রশাসন ও জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনও এই বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠক শেষে শংকর ঘোষ লকডাউনের সুফলের কথা জানিয়ে বলেন, চলতি লকডাউনে অনেকটাই সংক্রমন হ্রাস করে আনা সম্ভব হয়েছে শিলিগুড়িতে। পাশাপাশি কোভিড হাসপাতালের ওপর চাপ কমাতে বেশ কিছু উদ্যোগেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। হোম আইসোলেশানের পাশাপাশি জোড় দেওয়া হচ্ছে সেফ হোমের ওপরেও। আর এই সমস্ত জায়গায় থাকা রোগীদের দেখাশোনার জন্য নেওয়া হয়েছে এক বিশেষ উদ্যোগ।
৩০ বছরের নিচে যে সমস্ত যুবক-যুবতিরা কোভিড আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তারা সেইসব সেফ হাউজ বা হোম আইসোলেশনে সদিচ্ছায় কাজ করতে চাইলে, কাজ করতে পারেন। তাদের ১৫ হাজার টাকা সান্মানিকের বিনিময়ে এই সমস্ত জায়গায় চিকিৎসা রত রোগীদের দেখাশোনার জন্য নিযুক্ত করা হবে। এছাড়া রাজ্য সরকারের নির্দেশে প্রতিটি ওয়ার্ডে কেভিড ওয়ারিয়র ক্লাব তৈরী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এই বৈঠকে। সেই ওয়ারিয়র ক্লাবে যেমন থাকবেন ক্লাবের সেক্রেটারি তেমনই থাকবে এলাকার ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মী সহ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থারাও।  পাশাপাশি এই ওয়ারিয়র ক্লাবে থাকবে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা অনুর্ধ ৩০-এর স্বেচ্ছাসেবি সদস্যরাও। তাদের নিয়ে একটি কমিটি তৈরী করা হবে তারা রাজী হলে তাদের হোম আইসেলেশান বা সেভ হোমের রোগিদের দেখাশোনার জন্য রাখা হবে বলে জেলাশাসক এস পুন্নমবলম জানান। পাশাপাশি কোভিড নিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোম গুলির বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে সাধারণ মানুষের। তাই বেসরকারি হাসপাতালের মনিটরিং করার জন্য মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের নেতৃত্বে একটি টিম তৈরী করা হয়েছে। তারাই বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রথমে তাদের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে সেখানে যে সমস্ত খামতি রয়েছে তা ঠিক করার পরামর্শ দেবে। এছাড়া স্বাস্থ্য দপ্তরের নিয়ম নীতি মেনে চলার কথাও জানানো হবে তাও তারা না মানলে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান জেলা শাসক।
তবে এই বৈঠকে সবচেয়ে তাৎপর্যপুর্ণ বিষয় হল শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে কোভিডের এই আবহে যে সমন্বয়ের অভাব ছিল তা কেটে গিয়ে, দলাদলি ভুলে করোনাকে পরাস্ত করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বাম-তৃণমূল। শিলিগুড়ি পুরসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা রঞ্জন সরকার বলেন,  সেই সমন্বয়ের অভাব দুর করতেই টাস্ক ফোর্স গঠন করা। এই ঐক্যবদ্ধ  লড়াই আগামি দিনে পথ দেখাবে।

Related Articles

Back to top button
Close