fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনার জেরে সংকটে মিষ্টান্ন ব্যবসা

হিতৈষী দেবনাথ, আলিপুরদুয়ার: নতুন বছরে গরুর দুধের আকাশছোঁয়া দাম থাকে প্রতিবছরই। কারণ ১লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে প্রত‍্যেকটি দোকানে গ্রাহকদের হালখাতা উপলক্ষ্যে মিষ্টান্ন সামগ্রী প্রদান করেন ব্যবসায়ীরা। সেই সঙ্গে বৈশাখ মাস জুড়েই প্রচুর বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রচুর মিস্টান্ন সামগ্রী প্রয়োজন হয়। তাই এই বৈশাখ মাসকে পাখির চোখ করে রাখেন গো- পালকরা। কেও এই মরশুমে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী চড়া দামে দুধ বিক্রি করে মেয়ের বিয়ের টাকা জমাবেন, কেউবা নতুন ঘর তৈরী করবেন, আবার কেউবা ভাল দুধের দাম পেয়ে নিজের খাটালে আরও কয়েকটি গরু বাড়াবেন। প্রতিবছরই সেই বাজেটগুলি অনেকটাই সম্পন্নও হয়েছে। কিন্তু এবছর বাধা হয়ে দাঁড়ালো করোনা নামক এক রোগ। এই করোনার দাপটে গোটা দেশ জুড়ে চলছে লকডাউন। তারই রেশ এসে পরলো গোটা আলিপুরদুয়ার জেলার গো-পালকদের মাঝে।

সারা পৃথিবী যখন করোনার বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছেন। সেই সময় আলিপুরদুয়ার ২ নং ব্লক সহ গোটা আলিপুরদুয়ার জেলার গো-পালকরা নিজেদের জীবন এবং গরুদের জীবন বাঁচানোর লড়াই চালাচ্ছেন। কারণ এই মূহুর্তে দুধের দাম তলানিতে এসে পৌঁছেছে, যার ফলে দুধ বিক্রেতারা নিজেদের পেট এবং তাদের প্রিয় গরুদের খাবারের জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। আলিপুরদুয়ার ২ নং ব্লকের গরুর খাটালের মালিক শ‍্যামল দেবনাথ বলেন, আমি আমার গরু গুলিকে আগে প্রতিদিন যে সমস্ত খাবার দিতাম, বর্তমানে দুধের দাম না থাকায় তার আর্ধেক খাবার দিচ্ছি। প্রতিদিন নিজের পরিবারের খাবারও ঠিক করে জুটছেনা এই মুহূর্তে। আমার গরু গুলোর চোখের দিকে তাকালে নিজেকে অপরাধী মনে হয়। ওরাও মুখ বুজে কষ্ট সহ‍্য করছে। জানিনা এই অবস্থা থেকে কবে মুক্তি পাবো।

আপাতত এটাই চিন্তার বিষয় যে, কবে এই অচলাবস্থা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে গরুগুলি, এবং হতদরিদ্র গরুর খাটালের মালিকেরা।

Related Articles

Back to top button
Close