fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পুজো মন্ডপগুলির ভাবনায় থিম নয় করোনা প্রতিরোধ

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: আর মাত্র হাতে গোনা কয়েক দিন। জোর কদমে চলছে করোনা আবহে দুর্গা পুজোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। তবে এবারে পুজো মন্ডপ গুলির ভাবনায় থিমের পাশাপাশি জোর দেওয়া হয়েছে কোভিড প্রটোকলের ওপর বেশি। উত্তর থেকে দক্ষিণ, পুর্ব থেকে পশ্চিম শহরের সর্বত্রই মন্ডপ সজ্জায় করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধের চিন্তা ভাবনা ফুটে উঠেছে। মন্ডপে পৌছনোর বহু আগে থেকেই থার্মাল স্ক্রিনিং, হ্যান্ড স্যানিটাইজর বা করোনা টানেল সহ আন্যন্য ব্যবস্থাপনা রাখা হয়েছে। যাতে কোনও ভাবেই সংক্রমণ ছরিয়ে পড়তে না পারে। বাধ্যতা মুলক করা হয়েছে মাস্ক পরা। বিনা মাস্কে ঠাকুর দেখতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে পুজো কমিটিগুলি মাস্ক দেবে। সে ব্যবস্থা ও রাখা হয়েছে।

পাশাপাশি প্রতিটি মন্ডপ আদালতের নির্দেশে খোলা মেলা রাখা হয়েছে। যাতে যে কোনও এঙ্গেল থেকেই দর্শনার্থীরা মূল মন্ডপে প্রবেশ না করে প্রতিমা দর্শন করতে পারেন। তবে এত সবের পরেও বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, করোনার মত মহামারি ঠেকানো সম্ভব নয়। কারণ বিগত বছরের অভিজ্ঞ্তা থেকে দেখা গিয়েছে, দুর্গা পুজো বাঙালির আবেগ, তাই পঞ্চমী থেকেই মন্ডপে মন্ডপে নামবে মানুষের ঢল। শারীরিক দূরত্ব কমবে। যা রীতি মত ভাবাচ্ছে বিশেষজ্ঞদের। তাই অনেকেই ইতিমধ্যেই মন্তব্য করেছেন দুর্গা পুজোর পরেই ভয়ংকর আকার ধারণ করবে মহামারি। আসলে এই মুহুর্তে সব থেকে বড় ভয় সুপার স্প্রেডারদের নিয়ে। যারা করোনা সুপার স্প্রেডার তাদের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস অন্যের দেহে খুব সহজেই চলে যেতে পারে কারুর অজন্তেই। এভাবেই মুহূর্তের মধ্যে এক দেহ থেকে অন্য দেহে ছড়িয়ে যাবে ভাইরাস।

অন্য দিকে কয়েক দিন আগে ‘কলকাতা শ্রী’ পুরস্কারের ঘোষনা করতে গিয়ে পুরমন্ত্রী তথা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমগুলির কাছে টিভির পর্দায় দুর্গা পুজো তুলে ধরার আবেদন জানান। এছাড়াও এবারে বড় পুজো কমিটি গুলি ভর্চ্যূয়লি ঠাকুর দেখার ব্যবস্থা রাখছে। ফেস বুক লাইভে কলকাতার যে কোনও বড় পুজো দেখা যাবে। দুর্গা পুজোকে ঘিরে প্রতি বছরই একটা বড় অংশের মানুষ মফস্বল থেকে কলকাতায় আসেন ঠাকুর দেখতে। কিন্তু এবারে লোকাল ট্রেন পরিষেবা বন্ধ থাকায় তারাও আসতে পারবেন না।

সূত্রের খবর, দুর্গা পুজোয় মফস্ব্লের ভীড় ঠেকাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার ট্রেন পরিষেবা চালু করতে চায় নি। স্বাস্থ্য ভবন সুত্রের খবর, হাসপাতাল গুলিতেও বেডের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাঙালির ঐতিহ্যের দুর্গা পুজো ছিল আছে থাকবে। কিন্তু আপামর জন সাধারণ কতটা নিজেদের স্বস্থ্যের প্রতি সুবিচার করবেন। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা রক্ষা করা কোনও সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। আম জনতাকেই সচেতন হয়ে নিজেদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতে হবে।

Related Articles

Back to top button
Close