fbpx
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা কাঁটায় ইংলিশ উৎসবে ভাঁটা, সংশয়ে পর্যটন মহল

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: সেরা রূপোলি শস্য ইলিশকে ঘিরে বাঙালির উন্মাদনার শেষ নেই। আর এই বর্ষার ধারাপাতের সঙ্গে ইলিশের যুগলবন্দী ভোজনরসিক বাঙালির চিরকালই প্রিয়। আর সেইজন্যই ইলিশ মাছই বর্ষার মরশুমে পর্যটন সংস্থাগুলোর তুরুপের তাস। কেননা বর্ষার মরশুমে বেড়ানোর সুযোগ খুব একটা নেই। তাই পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য  পর্যটন সংস্থাগুলো এই সময়টায় ইংলিশ উৎসবের আয়োজন করে। কিন্তু এ বছর করোনা কাঁটায় ইলিশ উৎসবে ভাঁটার টান। কেউই বিশেষ ঝুঁকি নিতে চাইছে না। অথচ এ বছর ইলিশ উৎপাদন হয়েছে ভালই। দিঘা, শঙ্করপুর, ডায়মন্ড হারবারে ইলিশ পাওয়া গিয়েছে যথেষ্ঠ। অবশ্য এক্ষেত্রেও করোনার একটা ভূমিকা রয়েছে। লকডাউনের জেরে মৎস্যজীবীরা সমুদ্রে যাননি। দূষণ কম হওয়ায় ইলিশের প্রজননও হয়েছে বেশি। কিন্তু সেই করোনা কাঁটাতেই ইলিশ উৎসবের আয়োজন করা নিয়ে দ্বিধায় পর্যটন মহল।
ট্র্যাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের সাধারণ সম্পাদক নীলাঞ্জন বসু বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে আমি দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুরে ইংলিশ উৎসবের আয়োজন করেছি। কিন্তু এবছর পরিস্থিতি ভিন্ন,করোনার প্রকোপ যেভাবে বাড়ছে তাতে আমরা শঙ্কিত। তাই এখনও সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠতে পারিনি। আমাদের সদস্যদের সঙ্গে আমরা এ বিষয়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবো।’
মূলত ১৫ আগস্টের ছুটি আর তার পরের শনি ও রবিবারের ছুটিগুলোকে টার্গেট করেই ইলিশ উৎসবের আয়োজন করা হয়। কিন্তু এখন করোনার প্রকোপ বাড়ায় নতুন করে সপ্তাহে দুদিন করে বাধ্যতামূলক লকডাউন শুরু হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কন্টেনমেন্ট জোনের সংখ্যাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সুন্দরবন হোটেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সিনহা রায়ও খুব একটা আশাবাদী হতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য বছর সুন্দরবনের নিসর্গ উপভোগ করতে ইলিশ উৎসবে বহু পর্যটক যোগ দেন। কিন্তু এ বছর করোনা পরিস্থিতির জেরে খুব একটা আশাবাদী হতে পারছি না। যেভাবে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে তাতে উদ্বেগ বাড়ছে।’
এরমধ্যে অবশ্য একটি পর্যটন সংস্থা দিঘায় ২২ আগস্ট  দু রাত তিনদিনের জন্য ইংলিশ উৎসবের আয়োজন করেছে। মাথাপিছু খরচ ৪০০০ টাকা ধরা হয়েছে।আর একটি পর্যটন সংস্থা ১১ সেপ্টেম্বর শান্তিনিকেতনে ইংলিশ উৎসবের আয়োজন করছে। তবে সামগ্রিকভাবে করোনার জেরে এবার ইলিশ উৎসবের ‌জৌলুষ কমবে বলাই বাহুল্য।

Related Articles

Back to top button
Close