fbpx
কলকাতাহেডলাইন

করোনা চিকিৎসার লাগামছাড়া বিল নিয়ন্ত্রণে বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে ৫ দফা নির্দেশ স্বাস্থ্য কমিশনের

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: করোনা চিকিৎসার জেরে বেসরকারি হাসপাতালগুলি লাগামছাড়া বিল নিচ্ছে, এমন অভিযোগ উঠেছিল আগেই। তাই এই নিয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ঠিক করতে স্বাস্থ্য কমিশনের সদস্যরা শনিবার বিকেল ৪ টে নাগাদ নিজেদের মধ্যে বৈঠকে বসেন।

এর পরেই ৫ দফা নির্দেশ চূড়ান্ত করল স্বাস্থ্য কমিশন। চলতি সপ্তাহেই এই সমস্ত নির্দেশ বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হবে এবং না মানলে আইন অনুযায়ী বিচারে কড়া শাস্তির ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, আগামী ২৮ আগস্ট বেসরকারি হাসপাতালগুলির বক্তব্য শুনতে তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে স্বাস্থ্য কমিশন।

স্বাস্থ্য কমিশনের থেকে ঘোষিত ওই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, করোনা পরিস্থিতিতে কোনওভাবেই হাসপাতালের বেড বা আইসিইউ ভাড়া বাড়ানো যাবে না। চলতি বছরের ১ মার্চ  পর্যন্ত যে হাসপাতালে যে নির্দিষ্ট ভাড়া নেওয়া হত, তাই বহাল রাখতে হবে। যেসব বেসরকারি হাসপাতাল ইতিমধ্যেই ভাড়া বাড়িয়েছে, তাদের ফের কমিয়ে আগের ভাড়ায় নিয়ে এসে তা হাসপাতালের ডিসপ্লে বোর্ডে স্পষ্ট করে লিখে দিতে হবে। যাতে রোগীর পরিবার বিভ্রান্ত না হন।

হাসপাতালে করোনা রোগীদের বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় টেস্ট করিয়ে বিল বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে এদিন স্বাস্থ্য কমিশনের ৩ সদস্যের কমিটি গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই কমিটিতে রয়েছেন প্রাক্তন স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা ডক্টর প্রদীপ মিত্র, শুভেন্দু রায় ও তীর্থঙ্কর মিত্র। এই কমিটি কোন রোগীর কত বার কি পরীক্ষা হয়েছে, তা আদৌ প্রয়োজন ছিল কি না, তা বিস্তারিত খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে। যদি এই কমিটির কোন বিল অযৌক্তিক মনে হয়,  তাহলে নিজেদের বিল কমাতে বাধ্য থাকবে বেসরকারি হাসপাতাল।

ওষুধে অন্তত ১০ শতাংশ এবং চিকিৎসার অন্যান্য সরঞ্জামে ২০ শতাংশ ছাড় দেওয়া ছাড়া চিকিৎসকের ভিজিটও কিছুটা কমিয়ে বিলের অঙ্ক কমানোর সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য কমিশন। সুযোগ বুঝে যেমন ওষুধ-সরঞ্জামের খরচ বাড়ানো হয়েছে, ঠিক তেমনই অনেক চিকিৎসকও ২০০০-২৫০০ টাকা পর্যন্ত ভিজিট নিচ্ছেন। সেটাকেই নিয়ন্ত্রণ করার কথা হয়েছে। আর চিকিৎসা নিয়ে কোনওরকম অভিযোগ জানাতে হলে স্বাস্থ্য কমিশনের যোগাযোগের নম্বর-সহ নানা তথ্য রোগীর পরিবারের জন্য হাসপাতালের সামনে ডিসপ্লে বোর্ডে লিখে রাখতে হবে বলেও এদিন নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

এছাড়াও আরও দুটি নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য কমিশন। একদিকে যেমন বলা হয়েছে, কোনওভাবে বিল পেমেন্ট আটকে গেলে গুরুতর করোনা রোগীকে হাসপাতাল থেকে বার করা যাবে না , তেমনই বলা হয়েছে, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কোনও রোগী এলে তাকে ন্যূনতম স্থিতিশীল করে তবেই অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হবে। পরিষেবা নিয়ে কোনও দর-কষাকষি চলবে না।

তবে সমস্ত নির্দেশিকা জানার পর বেসরকারি হাসপাতালগুলি জানিয়েছে, তাদের এই বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু বলার রয়েছে। তারা যে মূল্যবৃদ্ধি করেছে তার সমস্ত মাপকাঠি তাদের হাতে নেই। তাই তাদের কথা শোনার জন্য আগামী ২৮ আগস্ট তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে স্বাস্থ্য কমিশন।

Related Articles

Back to top button
Close