fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা ইউনিট চালু করার সিদ্ধান্তে, কামারহাটি সাগরদত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিক্ষোভ

অলোক কুমার ঘোষ, ব্যারাকপুর: উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটি সাগরদত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘিরে সোমবার সকালে তুলকালাম কাণ্ড বেঁধে গেল হাসপাতাল চত্বরে। এই হাসপাতালে শীঘ্রই রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর করোনা ইউনিট চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত তা নিয়েই আপত্তি বিক্ষোভকারীদের ।

হাসপাতালের সঠিক পরিষেবা দ্রুত চালু করার দাবিতে সোমবার সকালে দফায় দফায় সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বি টি রোডে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, “দীর্ঘদিন ধরে কামার হাটি সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছে না। অবিলম্বে এই হাসপাতালের সবকটি বিভাগে চিকিৎসা পরিষেবা চালু করতে হবে।”

রাজ্য স্বাস্থ্যদফতরের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কামারহাটি সাগরদত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটা অংশ ব্যবহার করে সেখানে করোনা আক্রান্তদের ভর্তি করে তাদের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হবে। খুব শীঘ্রই এই হাসপাতালে করোনা ইউনিট চালু করবে রাজ্য সরকার। এদিকে এদিন কামারহাটি অঞ্চলের যে বাসিন্দারা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ দেখান, তাদের দাবি, এই হাসপাতালের যে অংশে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হবে, সেই অংশে যেন কোন ভাবেই কোভিড আক্রান্তদের না রাখা হয় । সোমবার সকালে কয়েকশো স্থানীয় বাসিন্দা পুরুষ ও নারীরা দল বেঁধে এসে এই হাসপাতালের গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখান।

তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চান কোভিড রোগীদের কোথায় রাখা হবে ? কত সংখ্যক কোভিড রোগীর এখানে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হবে ? এই প্রসঙ্গে বিক্ষোকারীদের এক প্রতিনিধি দল হাসপাতালে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন । তাদের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। এদিকে এই সময় বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয়ে কোল্ড ড্রিঙ্কস-এর বোতল ছুঁড়ে মারা হয় বলে অভিযোগ। এরপর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের উপর চড়াও হয় স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা। তারা লাঠি হাতে ধাওয়া করে হাসপাতালের সামনে জড়ো হওয়া বিক্ষোভারীদের হঠিয়ে দেয় ।

বিক্ষোভারীদের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দা আসলাম আলি খান বলেন, “এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এখানে আপাতত ৫০ বেডের কোভিড হাসপাতাল হবে। খুব শীঘ্রই হাসপাতালের তিনটি সাধারণ বিভাগে চিকিৎসা পরিষেবা চালু করা হবে। কিন্তু আমাদের দাবি এই হাসপাতালের সাধারণ সব বিভাগ দ্রুত চালু করতে হবে। কোভিড রোগীদের হাসপাতালের মূল অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখতে হবে। আমরা হাসপাতালের ব্যাখ্যায় কিছুটা খুশি । সম্পূর্ণ খুশি নই । তবে শাসক দলের কর্মীরা আজকে যেভাবে পুলিশের সামনে আমাদের মহিলাদের মারল তার নিন্দা করার ভাষা নন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নিরস্ত্র হয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন করছিলাম। ওরা লাঠি, বাঁশ, লোহার রড হাতে ঝাঁপিয়ে পড়। পুলিশ নীরব দর্শক হয়ে দেখল ।”

এদিকে এই ঘটনা প্রসঙ্গে কামারহাটির সিপিএম বিধায়ক মানস মুখোপাধ্যায় বলেন, “অন্য সব পরিষেবা চালু রেখে বিচ্ছিন্ন অংশে কোভিড ইউনিট হতে পারে, তবে শুধু কোভিড হাসপাতাল আমরা হতে দেব না। আমরা জাতীয় কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের সব দলগুলোকে নিয়ে আন্দোলন করব। শুধু করোনা হাসপাতাল করতে চাইলে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব ।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আই এম এ সভাপতি তথা তৃণমূল সাংসদ ডঃ শান্তনু সেন এই হাসপাতালে মিটিং করে আগেই জানিয়ে দিয়েছে, এখানে করোনা ইউনিট চালু করা হবে, এটা সরকারি সিদ্ধান্ত। তবে পাশাপাশি এই হাসপাতালে সব ধরনের চিকিৎসা পরিষেবা চালু থাকবে সাধারণ রোগিদের জন্য। সোমবার কামারহাটি সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিক্ষোভ ও পথ অবরোধের ঘটনার জেরে হাসপাতাল চত্ত্বরে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।
.

Related Articles

Back to top button
Close