অন্যান্যঅফবিটলাইফস্টাইলহেডলাইন

করোনা ভাইরাস নিয়ে সচেতন করতে কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও ছড়াকার শংকর দত্ত

নোভেল করোনা ভাইরাস নিয়ে গোটা বিশ্ব উদ্বিগ্ন উত্তাল। এই মারণরোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে একাধিক দেশের নানা প্রান্তে। এই ভাইরাসের জনক হিসাবে চিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মামলা করছে সারা পৃথিবীর ৮৪ টি দেশ।

জানা গেছে, চিনের গবেষণাগারেই প্রাথমিক জন্ম এই জৈব ভাইরাসের। এর প্রতিষেধকও তাদের হাতে তৈরিই ছিল। তাই চিনের উহানে সৃষ্টি এই জৈব করোনার ভাইরাসকে অতি সহজেই তারা নির্মূল করে। গোটা বিশ্ব যখন মৃত্যু-পুরী হওয়ার আশঙ্কায় শঙ্কিত, চিন তখন হাসছে। আসলে তাদের উদ্দেশ্যই ছিল আর্থিক, সামাজিকভাবে একাধিক উন্নয়নশীল দেশগুলিকে দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙে দিয়ে নিজেকে পৃথিবীর দাদা হিসাবে আগামীতে প্রতিষ্ঠিত করা। যদিও চিনের এই ছক ধরে ফেলেছে বড় বড় দেশগুলি। কিন্তু করোনাকে আটকাতে পারছে না কেউই। এই জৈব ভাইরাসের থাবা আজ আমাদের দেশেও। বাদ যায়নি সোনার বাংলা আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গও। এখানেও মানুষকে সচেতন করতে, মারণরোগ থেকে বাঁচাতে তৎপর সরকার, প্রশাসন।

ঘোষণা হয়েছে লকডাউন। তা সত্ত্বেও বহু মানুষ বিষয়টিকে উপেক্ষা করে বেরিয়ে পড়ছেন রাস্তায়। অনেকেই এই জরুরি অবস্থাকে ছুটি, বনধ মনে করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, যাচ্ছেন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতেও।

এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে যুগশঙ্খ পত্রিকার বিশেষ সংবাদদাতা, দুই বাংলার অন্যতম প্রিয় ছড়াকার ও কবি শংকর দত্ত মানুষকে সচেতন করতে লিখলেন তিনটি অন্যরকম ছড়া। ছন্দের আঙ্গিকে যা একই সঙ্গে অনবদ্য , মজাদার এবং বার্তাবহ। আমাদের পাঠকের জন্য এখানে তা হুবহু তুলে ধরলাম।

 

 

কবিতা_১

আপনি বাঁচলে বাপের নাম

শংকর দত্ত
ভুলে যাও রাম নাম, ভুলে যাও রহিমকে
পারতো এ কটা দিন, ভলো ভাই-বহিনকে
খোঁজ নাও বাড়ি থেকে ,কেউ নয় দরকারি
নির্দেশ মেনে চলো, যা আছে তা সরকারি

কারো বাড়ি যেও না,কারও হাতে খেও না
সচেতন হও আজ,মিছে ভয় পেও না
চা দোকানে ঠেকবাজি আজই করো বন্ধ
সব কিছু জেনে বুঝে,হয়েও নাকো অন্ধ।

কেউ ভীড় কোরো না, দল বেঁধে থেকো না
দু-মিটার কাছেতে, কোনও লোক রেখো না
মাস্ক পরো জেনেবুঝে, যেটাতে বিপদ নেই
ফুটপাত থেকে কিনে, নাচো কেন ধ্যেই ধ্যেই

বয়স্ক বা শিশুরা , থাকো বেশি সাবধান
যুবক বলেই তুমি, ভেবো না ওভারকাম
কোন বেশে কার গায়ে, লেগে আছে ভাইরাস
জানবে না কেউ কিছু,মিস্ত্রি বা সাইরাস

তাই বলি রাস্তায়,থেকো না তো বাজারে
চুপচাপ ঘরে থাকো, জড়িও না হাজারে
এতে কারো হাত নেই, নেই কোনও ছকবাজি
শুনো না কারোর কথা,পুরোহিত কিংবা কাজী

চাও পরিজন বাঁচাতে বা নিজেকেও রুখতে
আজই হও বন্দি, না হলেই হবে ভুগতে
এতো দিন যা করেছি, প্রকৃতি তা মেপেছে
প্রতিশোধ নিতে তাই , ধরিত্রীও ক্ষেপেছে

ভাবতো যারাই এতো, আপনাকে কী যে কে
সেইসব মিয়া লালও, বুঝিয়েছে নিজেকে
নেই কোনও দমবাজ, নেই কোনও দাদা আজ
ফরমান দিয়ে দেবে , ‘কর তোরা এই কাজ…’

তাই বলি শোন ভাই ,যেখানে যা আছে থাক
নিজেকে বাঁচায় শুধু, বাকি হোক পুড়ে খাঁক
হাত ধোও বারবার, ফ্রেশ থাকো, থাকো আনচান
মস্তিতে নাচো-কাঁদো, করোনা হবে খানখান।

………………………

কবিতা_২

করো নাকো কেউ ছক

শংকর দত্ত

সময় ভীষণ খারাপ , বাতাসেতে ভাইরাস…..

পৃথিবীতে মহামারী , কী দারুণ সর্বনাশ ….!

বাদ নেই ইতালি-ফ্রান্স , চিন ও জার্মান …..

নোভেল করোনা এসে ,দিয়ে গেছে ফরমান….!

ঝিনচ্যাক নাচানাচি , জীবনটা ফুলটুস….

এক কড়া ডোজেতেই, ফিরে গেছে সব হুঁশ…!

নেতা থেকে মন্ত্রী আজ, গুম হয়ে সকলেই…

দেশটাকে নিয়ে নিলো, ভাইরাসে দখলে…!

সেলেবরা হয়ে গেছে , সব গৃহ-বন্দি…

কূটনীতি হার মানে, থেমে গেছে ফন্দি…!

এ নিদারুণ সময়ে,. হাঁচি-কাশি হলে পর…?

কী হবে গো কী হলো যে, নেমে যায় সব দর…!

তবুও সুযোগ খোঁজে, দালাল বা ফড়েরা….

দাবা নিয়ে চিন্তায় , বসে গেছে বোরেরা !

সরকারি ঘোষণায় , থামাই না দুটো দিন …

ভারত টা হবে কেন, ইরাক বা মহা চিন …!

আমরা শতেক কোটি, আজ থাকি সাবধান…

ক্ষতি কী ঘরেই যদি, ঢেলে দিই মন-প্রাণ…!

মিলিটারি নেই কোনও, নেই যে আইন জারি….

নিজেদের বাঁচাতে , আমরাই সব পারি…!

চাপিয়ে দেয়নি কেউ , কেউ বকা দেয়নি….

আমাদের অধিকার, কেউ কেড়ে নেয়নি…!

দেশটাকে বাঁচাতেই , শত্রুকে কাছে ডাকি

হিংসা-দ্বন্দ্ব হলে, নিজেকেই দিই ফাঁকি…!

রাজনীতি করো না কেউ, এই মহা চক্করে….

ভাইরাস ধরবে কিন্তু , ভুল হলে টক করে ….!!..

………………………..

কবিতা_৩

ডাক দিলো মহাকাল

শংকর দত্ত

এ যে কোন কলিকালে, কোন ঘোর আঁধারে…..

বাইরে দুই পা ফেলা, কেন এতো বাধা রে…..!

কী শত্রু এলো দেশে, বিদেশেও একই হাল….

কার পাপে কে মরলো, কে দিয়েছে মহা চাল….!

রাজনীতি কূটনীতি, মিলেমিশে একাকার….

ধনী আর গরিবেতে, দেশ জুড়ে ছাড়খার…!

এ জন্মে শুনি গো, কারো হাত ধরো না….

তাহলে ছুবলে খাবে, উড়ে আসা করোনা…!

মহাসুখে চুলকেছি, দিনরাত নাক-কান ….

এখন উসকে গেলে, যাবে চলে মেরি জান….!

প্রেয়সীকে রোজ ছুঁতে, কাছে যেতে মন চায়….

পোশাকেই লেগে আছে, করোনা যে সারা গায়…!

বুদ্ধি ঘটেতে আছে, কত জ্ঞানী-গুণী জন…

কী হয় কী হয় শুধু, ভেঙে যায় সবই মন….!

দেখেছি আয়লা-ফনী, এই এলো দেশেতে…

এ কোন ভাইরাস আজ, এলো কার বেশেতে..!

কলেরা ও শুনেছি প্লেগ, ছিলো খুব মহামারী….

সব কিছু ছাপিয়ে, এ করছে যে বাড়াবাড়ি…!

নেই কোনও ঔষধও, নেই এর বিধানই

পুরো ফেল বিজ্ঞান, ডাক্তারি নিদান-ই….!

রোগের কী লক্ষণ, হাঁচি-কাশি হলে পর

ছেলে-বউ রেখে যাও, আজ থেকে তুমি পর….!

নির্ঘাত বেডে থাকো, টানা দুই সপ্তা….

ঘরে নেই চাল-ডাল, কে যে দেবে হপ্তা….!

কতো জ্বর হয়েছে, কতো কাশি কেশেছি…..

খকখক করেও তো, তাকে ভালো বেসেছি…!

তবুও সে বলেছে আজ, জ্বর গায়ে এসো না….

দেখছো তো দিন-কাল, আর ভালোবেসো না….!

তুমিও সুস্থ থাকো, দূরেতেই থেকো রোজ…

মাঝে মাঝে মনে হলে, ফোনেতেই নিও খোঁজ..!

ছাড় নেই কারোরই, কী আম্বানী-আদানি…

ভুল কেউ করলেই, কারোনার প্যাঁদানি….!

কাকে ছুঁয়ে কাকে খায়, বুঝে নেওয়া মহা দায়….

এ জগতে আজ কেন, করে সব হায় হায়…!

নামী আর দামিদের, ছিলো কতো ট্রিটমেন্ট….

এই ভারী ভাইরাসে, সব বেডই এক রেন্ট….!

মরতে তুমিও পারো, করো নাকো বৈরী….

ধনী আর গরীবেতে, থেকো আজ তৈরি….!

কার চালে কার ভুল, কে ফেঁদেছে বিষ-জাল…

সংযত হতে হবে, ডাক দিলো মহাকাল….!

Related Articles

Back to top button
Close