fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বাড়ি ফিরলেন করোনা জয়ী প্রাক্তন সেনা কর্মী, ফুল-মিষ্টি-হাত তালি দিয়ে অভিনন্দন এলাকাবাসীদের

শ‍্যাম বিশ্বাস, উওর ২৪ পরগনা: টানা দশদিন করোনা যুদ্ধে জয়ী হয়ে বাড়ি ফিরলেন বসিরহাট জিরাকপুর গ্রামের বছর পঞ্চাশের প্রাক্তন সেনা কর্মী পরিতোষ মুখার্জি। নিউ আলিপুর কমান্ডো হাসপাতালে করোনা পজিটিভ নিয়ে ভর্তি ছিলেন, উনার উপসর্গ ধরা পরেছিল ২৯শে এপ্রিল। সেখান থেকে কমান্ডো হাসপাতাল টানা ১০ দিন হাসপাতালে থাকার পর অবশেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন শনিবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রীর ছেলে বৌমা। করোনা পজিটিভ ধরার পরে বিশেষ করে বসিরহাট হটস্পট জোন ঘোষণা করেছিল স্বাস্থ্য দপ্তর ও পুলিশ। পাশাপাশি তিনটি বড় বড় বাজার বন্ধ করে দিয়েছিল প্রশাসন। একদিকে বাড়ি সিল, অন্যদিকে ব্যারিকেড করা হয়েছিল মূল রাস্তায়। সবমিলিয়ে বসিরহাট মানুষের কাছে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। সেনা কর্মীর সংস্পর্শে আসা স্ত্রী, বউমা, ছেলে, দুই চিকিৎসক সহ ৩৫ জন রক্তের নমুনা ও লালা পরীক্ষা জন্য নাইসেডে পাঠানো হয়েছিল। পরীক্ষা করার পর করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট দেয় স্বাস্থ্য দপ্তর। সব মিলিয়ে প্রাক্তন সেনকর্মী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসায় রীতিমতো আনন্দে মাতলেন বসিরহাটের মানুষ। তার বাড়ির ঢাকার মূল গেটে তাকে ফুলের মালা পরিয়ে অভ্যর্থনা ও হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানালেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন: অতিমারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পুলিশের পাশে এবার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হোমিওপ্যাথি

বিশিষ্ট সমাজসেবী রানা হালদার ও জয়ন্ত মন্ডল ইতিমধ্যে ওইসব এলাকাগুলোর বাড়িতে বাড়িতে হোম ডেলিভারি দিয়ে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে। যাতে মানুষ সুস্থ স্বাভাবিক ঘরে থাকেন ।লকডাউন অমান্য করে বাড়ি থেকে না বেরোয় কেউ। সব মিলিয়ে এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে জিরাকপুর গ্রামের মানুষ। পাশাপাশি প্রাক্তন সেনা কর্মী পরিবারের পাশে তারা ছিলেন,মানুষকে বুঝিয়েছেন আতঙ্কিত হবেন না, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখুন, সতর্ক থাকুন, এ লড়াই আমাদের সবার, সবাই মিলে করোনা যুদ্ধে জিততে হবে।

শনিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ দমকল বিভাগ ও প্রশাসনের তরফ থেকে পুনরায় প্রাক্তন সেনা কর্মীর বাড়িতে স্যানিটাইজার করা হয়, সব মিলিয়ে জিরাকপুর গ্রামবাসী সম্পূর্ণ চিন্তামুক্ত। অন্যদিকে বসিরহাট মহকুমা বাদুড়িয়া থানা চন্ডিপুর গ্রামে এক যুবক কলকাতার বেসরকারি নার্সিং হোম এর সাফাই কর্মীর কাজ করতেন। ছুটিতে বাড়িতে আসার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার লালা রস পরীক্ষা করার পর করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে তিনি কলকাতা বেলেঘাটা আইডি হসপিটাল চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার পরিবারের মা ও বোন, তাদেরকে ১৪ দিন হোম কোয়ান্ট্রিনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। তারপর এদিন রাত আটটা নাগাদ বসিরহাট পুলিশ জেলার আধিকারিকরা ও বাদুড়িয়া থানার ওসি বাপ্পা দীপ্ত মিত্র, বাদুড়িয়ার বিডিও ত্রিভুবন নাথ, এস ডি পিও অভিজিৎ সিনহা মহাপাত্র, চন্ডিপুরের যুবককে সম্পূর্ণ করোনা মুক্ত অবস্থায় তার গ্রামের বাড়িতে ফিরিয়ে দিলেন। তার গ্রামবাসীরা ফুলের মালা দিয়ে হাততালি দিয়ে তাকে বরণ করে নেন, এখন চন্ডিপুর গ্রাম সম্পূর্ণ আতঙ্ক মুক্ত, খুলে দেয়া হয়েছে বাশের ব্যারিকেড।

Related Articles

Back to top button
Close